দুর্ব্বল ভাবোন্মত্ততা … নাই। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

দুর্ব্বল ভাবোন্মত্ততা অনেক সময় ভক্তির মত দেখা যায়, সেখানে নিষ্ঠা নাই; আর, ভক্তির চরিত্রগত লক্ষণও নাই।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

প্রশ্ন—ভাবোন্মত্ততা কি?

শ্রীশ্রীবড়দা—আমি কৰ্ত্তা ভাব। আমি ছাড়া আর কোথায় কি আছে?

নিত্য—ভাবপ্রবণ মানে সেই ভাব।

শ্রীশ্রীবড়দা—তা’কেন? নাও হ’তে পারে। আমি কর্ত্তা মেনে আছি সে ভাবে ভাবান্বিত। কি, তুই বুঝেছিস? ‘Love without active service is always sterile” ঠাকুর বলেছেন। তা’তো হ’লো, কিন্তু ভাবপ্রবণতাটা কি?

অরুণ—একটা লোক কাঁদছে, নাচছে—ভগবানের জন্য।

শ্রীশ্রীবড়দা—তা’ হবে কেন? নিষ্ঠা-আনুগত্য-কৃতিসম্বেগ নেই—রামায়ণ হচ্ছে হঠাৎ সীতার বনে যাওয়া শুনে হাঁ হাঁ ক’রে কেঁদে উঠল। ঠাকুর বলেন যা’ যা’ সে পালন করে। তা’ না ক’রে শুধু কেঁদেই শেষ করে না। নিষ্ঠা আছে—ভক্তি আছে, দুর্ব্বলতা নেই, ভাব আছে, হঠাৎ উন্মত্ততা নেই—সেখানেই ভক্তির লক্ষণ।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-৪/১১/৭৩ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২২৪]