“দুর্ব্বল হৃদয়ে প্রেমভক্তির….. হৃদয়ের দৃষ্টান্ত।”- ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণে প্রাপ্ত বাণীটি হলো:

“দুর্ব্বল হৃদয়ে প্রেমভক্তির স্থান নেই। পরের দুর্দ্দশা দেখে, পরের ব্যথা দেখে, পরের মৃত্যু দেখে নিজের দুর্দ্দশা, ব্যথা বা মৃত্যুর আশঙ্কা ক’রে ভেঙ্গে পড়া, এলিয়ে পড়া বা কেঁদে আকুল হওয়া—ও-সব দুর্ব্বলতা। যা’রা শক্তিমান্, তা’রা যা’ই করুক, তাদের নজর নিরাকরণের দিকেযাতে ও-সব অবস্থায় আর না কেউ বিধ্বস্ত হয়, প্রেমের সহিত তা’রই উপায় চিন্তা করা—বুদ্ধদেবের যা’ হয়েছিল। ঐ হ’চ্ছে সবল হৃদয়ের দৃষ্টান্ত।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাখ্যা :

সুধীর রায়চৌধুরীদা—অনেকে কারও কষ্ট দেখলে স্বাভাবিক ভাবে সমবেদনা দেখায়ই। ভেঙে পড়া মানে Unbalanced হওয়া । তাহলে এ দুঃখ দৈন্যের মাঝখান দিয়ে তার নিরাকরণের সম্ভাবনা থাকে।

শ্রীশ্রীবড়দা—এক একজনের কষ্ট দেখে অনেকে মনে করে, আমার ছেলের এমন যদি হয় তাহলে তো শেষ । এই বলে কেঁদে ছেলেরই অসুখ বাড়িয়ে তোলে। আমি একবার ছোট কালে মরার পর্যায়ে পড়ে গিয়েছিলাম। ওখানে (পাবনায়) নদী ছিল, হৃদের মত হয়ে গেছে, মাঝে-মাঝেই হঠাৎ থৈ-হারা জল। স্নান করছি ছোট কাকার সঙ্গে। হঠাৎ ঐ অথৈ জলে পড়লাম। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে; সাঁতার জানি না। জল খাচ্ছি ও ডুবছি। আবার মনে হচ্ছে আম পেকেছে, পেড়ে খেতে হবে। মখমলের জামা এসেছে, পরবো। জীবনকে ভোগ করব। এমনতর হাবুডুবু খেতে খেতে শেষে ছোট কাকার নজর পড়লে খপ্‌ করে চুল ধরে টেনে আনলেন। ঐ সব অবস্থায় ঐ রকম চিন্তা আসে। তারপর মৃত্যুর বিভীষিকায় আসে শারীরিক যন্ত্রণা। তখন পেচ্ছাপ করে, পায়খানা করে ফেলে, এর বেশির ভাগ ভয়ের চোটে।

সুধীর রায়চৌধুরীদা—Bus এবং train-এ accident এ যে মরে!

শ্রীশ্রীবড়দা—ঐগুলো guiding complex-এ হয়। বিপদ যে আসছে বুঝতে পারে না তাই অপমৃত্যু হয়। তাই সব সময় নাম করা Practice করে নিতে হয়। নাম সমস্ত cell-কে control করে। মানুষের রিপুগুলো থাকেই। যৌবনে তার উদ্দাম ভাব। তাই যৌবনকাল সাধন-ভজনের উপযুক্ত সময়। নাম করলে কামের ভাব, লোভের ভাবগুলো অতি সহজেই control করা যায়। এটা অতি বাস্তব কথা । নাম করবার যে একটা utility আছে—দীক্ষা নিয়ে যারা করে তারাই বুঝতে পারে। এর যে
শারীরিক, মানসিক শক্তির ওপর প্রভাব আছে তা করলেই বুঝতে পারা যায়।

[যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১৯/৯/৭২]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১১,১২]