কেহ তোমাকে দোষী করবার …পাত্র হবে। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

কেহ তোমাকে দোষী করবার পূর্ব্বেই কাতরভাবে নিজ দোষ স্বীকার কর, মুক্ত-কলঙ্ক হবে, জগতের স্নেহের পাত্র হবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব নিজেই সহজ করে বাণীটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন। এক দাদার সঙ্গে আমার বেশ আলাপ আছে। তার ঘরে যাই, গল্প করি। মাঝে মাঝে যাই, একদিন গিয়ে দেখলাম দাদা তাঁর ঘরে নাই, কোন কাজে বাড়ির ভিতরে কি করছেন, আমি তাঁর ঘর ফাঁকা দেখলাম আর টেবিলে একটা ঘড়ি পড়ে থাকতে দেখলাম। দেখে মনে মনে কেমন একটা ভাব জাগল, আমি ঘড়িটি নিয়ে পকেটে রেখে, দাদা আসতে দেরী দেখে চলে এলাম।

রাস্তায় আসতে আসতে বারে বারে ভাবতে লাগলাম, কেন নিলাম? নেওয়া ঠিক হয়নি! এইভাবে বিবেকের দংশন হতে থাকল, অবশেষে ঠিক করলাম এটা করা কিছুতেই ভাল হয়নি। এই ভেবে, বিকেলে গিয়ে দেখি বাড়িতে ঘড়ি খোঁজাখুজি হয়েছে, এখনও হচ্ছে। ‘কোথায় যাবে ঘড়ি’ ইত্যাদি বলে। আমি কিছু না বলে সোজা দাদার কাছে গিয়ে বললাম; দাদা আমি একটা অন্যায় করে ফেলেছি। হঠাৎ লোভের বশে ঘড়ি চুরি করার দোষে দোষী। এর জন্য আপনি যে শাস্তি বিধান করবেন, আমি তা’ নিতে রাজি আছি। আর এমনটা কোনদিনও করব না। এইরূপ কাতর উক্তি শুনে দাদা ভীষণ খুশী হলেন। নিজেই নিজের দোষ স্বীকার করলাম ও ঘড়িটি দিয়ে দিলাম।

কলঙ্কমুক্ত হওয়া মানে—দোষমুক্ত হওয়া। এইভাবে কলঙ্ক মুক্ত হলাম। “জগতের স্নেহের পাত্র হবে।” অর্থাৎ ঐ দাদা ওঁর পরিবারের ও পরিবেশের সবাইকে ঐ লোকটির কথা বললেন—যদিও ঘড়িটি নিয়েছিল, নিয়েও নিজের অন্যায় বুঝতে পেরে ফেরত দিয়েছে এবং সে জন্য যে কোন শাস্তি নিতে রাজী আছে। সুতরাং ভুল কিছু করেও সবার কাছে সেই দোষ স্বীকার ও শাস্তি নিতে রাজী থাকা—এই গুণের জন্য সবার কাছে স্নেহের পাত্র হয়ে রইল।

[তাঁর সান্নিধ্যে/তাং-২১/৩/৭৪ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১২১]