ধর্ম্ম কখনও বহু ….নেই।- ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ -এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

ধর্ম্ম কখনও বহু হয় না, ধর্ম্ম একই তার কোন প্রকার নেই।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

রতন বৈদা-দাকে নির্দেশ ক’রে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—বৈদ্য আলোচনা করুক।

রতন বৈদা—সবাই বাঁচতে চায়, জীবনবৃদ্ধির নিয়মের কোন তফাৎ নেই। সবার ক্ষেত্রেই তা এক।

সতীশদা—শীতের দেশে একরকম পোষাক, পশমের পোষাক ব্যবহার করতে হয়, কটন (cotton) এর পোষাক চলবে না। আবার যেখানে গ্রীষ্মের আধিক্য সেখানে গরম পোষাক গায়ে রাখা যাবে না। কিন্তু সবাই তো জীবনবৃদ্ধির পথেই চলেছে। এখানে প্রকার বলতে কী বুঝব?

শ্রীশ্রীপিতৃদেব (সতীশদাকে)—তুই-ই বল্‌ না।

সতীশদা—সবাই জীবনবৃদ্ধির পথেই চলেছে। যে-দেশেরই মানুষ হোক সবাই বাঁচা-বাড়ার নীতি মেনেই বেঁচে আছে। এর কোন প্রকার নেই। ধর্মের দুটো দিক—Divine আর discrete.

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—Discrete মানে কী?

হরিপদদা—বিবেচনাধীন।

রতন বৈদ্য—কোথাও গরম কাপড় ব্যবহার করতে হয়, কোথাও পাতলা সূতীর কাপড়।

সতীশদা—তাহলে স্থানভেদে ভিন্ন ভিন্ন পোষাক ব্যবহার করছি। জীবনবৃদ্ধির নিয়ম তাহলে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। জীবনবৃদ্ধি আর তিনি কি এক?

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—তিনি জীবনবৃদ্ধিরূপে সবার মধ্যে আছেন। যার-উপর যা’কিছু সব দাড়িয়ে আছে সেই common factorটা কী? সেই factorটাই তো তিনি। তিনি সবার মধ্যেই। জীবনবৃদ্ধির ভাগবত নীতি (Divine laws)গুলি এক। পরমপুরুষে ধর্ম মূর্ত হয়ে ওঠে। ধর্ম একই।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-২৫/৯/৭৪ ইং ]

নিত্যানন্দদা—যেমন পুকুরের জল, পুকুরের সব-ই তো জল। কিন্তু কোনটা মিষ্টি, কোনটা নোন্তা।

শ্রীশ্রীবড়দা—তুমি যদি দেখ, কথা মিলছে না—তাহলে, তোমার example নিশ্চয়-ই ঠিক হয়নি (উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে হাসির ঝিলিক দেখা গেল)। স্বাদ আলাদা থাকতে পারে, কিন্তু জল তো সবই। নুন দিলে লবণময় হ’ল। মিষ্টি দিলে মিষ্টি হ’ল—এখানে জলটাই ধর্ম্ম।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-২১/৫/৭১ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৪৩]

[ধর্ম্ম নিয়ে সত্যানুসরণের ১৫, ১৬ পৃষ্ঠার বাণী ব্যাখ্যসহ পড়ুন।]