নাম-যশের আশায় …ক’রবে।- ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ -এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

নাম-যশের আশায় কোন কাজ ক’রতে যাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু কোন কাজ নিঃস্বার্থভাবে ক’রতে গেলেই কার্য্যের অনুরূপ নাম-যশ তোমার সেবা ক’রবেই ক’রবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেবের নির্দেশে বিপুলজ্যোতি মন্ডল বাণীটি আলোচনা করছেন। তিনি পুনরায় বাণীটি পাঠ করে বললেন—ঠাকুর বলছেন, কোন কাজ নাম-যশের আশা নিয়ে করতে যাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু নিঃস্বার্থভাবে করলে নাম-যশ আসে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—নাম-যশ করাটা কি? নিঃস্বার্থভাবে করাটাই বা কি? নাম-যশ আসেই বা কেন?

বিপুলদা—নিঃস্বার্থভাবে করাটাই ভাল। কেউ আমার নাম করবে, যশ করবে— ঠাকুর এভাবে করতে নিষেধ করছেন।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সবাই আস, আস করবে—যার এরকম আশা তার করতে যাওয়া ঠিক নয়। সবাই তো এই রকমই করি। কিন্তু তাকে কী কয়? Effect-টা (ফলাফলটা) কী? নাম-যশের আশায় কোন কাজ করতে যাওয়া ঠিক নয় কেন?

বিপুলদা—তাতে অহংকার এসে যায়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—অহংকার তো মানুষের আছেই। নাম-যশের আশায় করলে কী হয়?—লোকে তাকে avoid করে (এড়িয়ে চলে)। সমাজে, পরিবারের কাছে সে হীন হয়ে পড়ে। বলে লোকটার কেবল হামবড়াই। তখন সে বৃদ্ধির দিকে না এগিয়ে ক্ষয়ের দিকে যায়। তার পরিসর ছোট হয়ে যায়। আর নিঃস্বার্থভাবে করলে পরে নিজের থেকে লোকে বলে, প্রশংসা করে। কিন্তু তার নিজের কথা শুনতে যেন ভাল না লাগে। বলবে, না-না আমি কিছুই করি না—সব পরমপিতার দয়া। এটাই হচ্ছে নিঃস্বার্থভাবে করার পথ। এতে expansion (প্রসারণ) হয় বৃদ্ধির দিকে।

[ পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-৭/৬/৭৯ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা নং ৬২]