নিজে ঠিক থেকে ….না। -ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ -এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

নিজে ঠিক থেকে সব্বাইকে সৎভাবে খুশি ক’রতে চেষ্টা কর, দেখবে সব্বাই তোমাকে খুশি ক’রতে চেষ্টা ক’রছে। সাবধান! নিজত্ব হারিয়ে কাউকে খুশি ক’রতে যেও না, তাহ’লে তোমার দুর্গতির সীমা থাকবে না।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—বিষ্ণুপ্রসাদ (সাহা) আলোচনা করুক।

বিষ্ণুপ্ৰসাদ বাণীটি পড়ে বলল—এখানে ঠাকুর বলছেন, আমি যদি সৎ হই—তাহলে সবাইকে সৎ ভাবে খুশী করতে পারব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—প্রথমটা কি আছে?

—নিজে ঠিক থেকে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—নিজে ঠিক থাকা মানে কি?

—নিজে ঠিক থাকা মানে সৎ থাকা। সৎ থাকা মানে ইষ্টীচলনে চলা । এমনভাবে চললে সবাই তোমাকে খুশী করতে চেষ্টা করবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সবাইকে সৎ ভাবে খুশী করবি কী ভাবে?

—কাউকে কিছু দিলাম, কোনদিন বলল দিয়ে দেব। পরে তার দেওয়ার অসুবিধা। তখন খারাপ কথা না-বলে সৎ ভাবে খুশী করলাম।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—দেওয়াটাই তো সৎ ভাবে খুশী করা।

এবার ধৃতিদীপিকে (বক্সী) বলতে বললেন।

ধৃতিদীপি—সৎ মানে জীবনবৃদ্ধির সহায়ক যা। তাই সৎ। যাতে জীবনবৃদ্ধির দিকে যেতে পারে তাই করতে হবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—অসৎ ভাবে মানে কি?—তুই যে ক্লাসে, আমি সেই ক্লাসে পড়ি। আমার পেনসিল নাই। তুই ভবেশের পেনসিল নিয়ে দিয়ে দিলি। তখন একদিন ভবেশ দেখল ওর পেনসিল নাই। গন্ডগোল হয়ে গেল। এটা অসৎ ভাবে খুশী করলি।

ধৃতিদীপি—আমি এমন কিছু কাজ করলাম না যাতে জীবন বৃদ্ধির অন্তরায়ে যায়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আসল কথাই এ । জীবনবৃদ্ধির অন্তরায় আর জীবনবৃদ্ধির সহায়ক্‌। —এইগুলোই লক্ষ্য করতে হবে।— তারপর পড়্।

—সাবধান, নিজত্ব হারিয়ে কাউকে খুশী করতে যেও না, তাহলে তোমার দুর্গতির সীমা থাকবে না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—নিজত্ব মানে?

—নিজের জীবনবৃদ্ধির যে ভাব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—কি রকম? ঘরে বাবা-মা হয়তো কাজ করতে বলছে, তা না করে অন্যের পিছনে সারাদিন কাজ করছি। অয়েলিং যাকে বলে।

ধৃতিদীপি—ব্যক্তিত্ব ঠিক রাখতে হবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আমি ইষ্টকে নিয়ে যে চলি, তার অনুশাসনবাদ নিয়ে চলি—তাকে ব্যাহত না করে চলতে হবে। যেমন আমি মাছ, মাংস খাই না। বন্ধুর সাথে বাজারে গেলাম। হোটেলে ঢুকলাম। আমার পাতে মাছ দিল, খেয়ে ফেললাম। বন্ধু মনে মনে ভাবল—বেশ তো এরা মাছ, মাংস খায় না—এ খেল। তাহলে লুকিয়ে লুকিয়ে খায়। আর যদি বলি—না, আমরা মাছ-মাংস খাই না—একদিনই বা খাব কেন? তাহলে শ্রদ্ধা করবে।

শিবদয়ালদা—অফিসাররা এলে মাছ-মাংস দিয়ে খুশী করা হয়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ, আজকাল এভাবেই খুশী করতে চায়। কিন্তু তাতে কাজ হয় না। ইষ্টিচলন—ইষ্টের অনুশাসনবাদ অব্যাহতভাবে রেখে যদি চলি তাহলে ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দেওয়া হবে না। স্বার্থও ঠিক থাকবে।

[ পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-১১/৬/৭৯ ইং ]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৬৬]