নির্ভর কর, আর …. থাকবে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

নির্ভর কর, আর সাহসের সহিত অদম্য উৎসাহে কাজ ক’রে যাও, লক্ষ্য রেখো, তোমা হ’তে তোমার নিজের ও অন্যের কোনওরূপ অমঙ্গল না আসে। দেখবে সৌভাগ্যলক্ষ্মী তোমার ঘরে বাঁধা থাকবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

হরিপদদা—নির্ভর করা মানে—নিঃশেষে ভরণ করা।

শ্রীশ্রীবড়দা—কার উপর?

উত্তর—ইষ্টের উপর।

দুর্গেশদা—এমনি তো কথা আছে, নির্ভর করা মানে depend করা।

শ্রীশ্রীবড়দা—তুই আলোচনা কর।

বসাওনদা—ভরণ করব ইষ্টকে—সে কি রকম?

হরিপদদা—তাঁর নীতিবিধি অনুশাসনবাদ মেনে চলা।

পরমেশ্বরদা—আমার কাজই হচ্ছে তাঁকে পালন-পোষণ-পূরণ করা। তাঁকে আশ্রয় করে এইগুলো করা।

শ্রীশ্রীবড়দা—শোন, শোন ঐ যে বলছে ইষ্টকে ধরলে ‘পরে কাউকে বাদ দেওয়া যায় না। ‘তস্মিনতুষ্টে জগৎ তুষ্ট’। এক পিঁপড়েকেও বাদ দেওয়া যায় না। দুনিয়ায় সবেরই মালিক তিনি। তাই কাকে বাদ দেব? যেমন ঠাকুরের জিনিস—এখানে কোনটা বাদ দেব? সবটাই ঠাকুরের জিনিস। আমার বলতে যা’ বুঝি আমার স্ত্রী, পুত্র, টাকা পয়সা, অহং, বৃত্তি, প্রবৃত্তি সবটুকু দিয়েই ভরণ করলাম। ঠাকুরকে ভরণ করলে এই ঠাকুরবাংলার সবটুকুই বিশ্ব হ’য়ে যেতে পারে। তাঁকে আশ্রয় করে নিয়ে চলা, মানে—তাঁকে নিঃশেষে ভরণ করা। এটা সোজা ব্যাপার নয়, হনুমানই পারে। বিদ্যে, বুদ্ধি, জ্ঞান থাকলেও তাঁকে যদি বাদ দিই, তাতে কি হবে? ঠাকুরেরই বলা—নির্ভর করা মানে নিঃশেষে ভরণ করা। অলস হয়ে শুয়ে থাকাকে নির্ভর করা বলে না। আমি যা ক’চ্ছি—না বুঝে হাঁ হাঁ ক’রে যাসনে।

পণ্ডিত—আজ্ঞে, বোঝা যাচ্ছে।

শ্রীশ্রীবড়দা—’আশ্রয়’ মানে কি?

পরমেশ্বর—আবাসস্থল।

শ্রীশ্রীবড়দা—তাঁকে আশ্রয় করা ছাড়া কি কিছু চলতে পারে?

পরমেশ্বর—তাহ’লে কুকর্ম-অকর্ম হবে।

শ্রীশ্রীবড়দা—শ্রীরামচন্দ্র অভ্রান্ত ত্রিকালজ্ঞ, এই বিশ্বাস ক’রে—হনুমান ‘জয় রাম’ ব’লে লাফ দিয়ে যায়।

আধার অনুযায়ী কারও একদিনে, কারও দশ দিনে। নির্ভর করা মানে শিশু যেমন মা বাবাকে নির্ভর করে—শেষে মা বাবাও তার উপর নির্ভর করে। তাঁর দয়ায় কি না হয়।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-২৭/১২/৭৩ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৪৯ – ২৫০]