প্রতিকুল যুক্তি …. না। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

প্রতিকুল যুক্তি ত্যাগ ক’রে বিশ্বাসের অনুকূল যুক্তি শ্রবণ ও মননে সন্দেহ দূরীভূত হয়, অবসাদ থাকে না।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীড়দা—টাকাকড়ি চুরি ক’রে নেওয়ার জন্য কেউ খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে কাঠিয়াবাবাকে খাইয়েছিল। শিষ্যদের মধ্যে একজন কাঠিয়াবাবাকে বলল—আপনাকে দুইবার বিষ খাওয়াল, আপনি সব জেনেও তাকে কিছু বললেন না। কাঠিয়াবাবা তার উত্তরে বললেন—“যাক্‌, যদি চুরি ক’রেই থাকে তা’তে আর কি হইছে।” বিশ্বাস জিনিসটা এমনই, দুনিয়াশুদ্ধ সব মধুর ক’রে দেয়।

ঠাকুর একবার হরেন ভদ্রকে বালতি কিনে আনতে বলেছেন। ব্যবহার করতে গিয়ে দেখা গেল বালতি ফুটো, জল পড়ছে। তখন হরেন ভদ্র বলছে—’হ্যাঁ: ফুটো বালতি, এ কেমন? এত বিশ্বাস করি! এত বন্ধুত্ব!” শুনে ঠাকুর বললেন—“তা-কি? ওতে কি বিশ্বাস নষ্ট হ’য়ে গেল?” আসলে হরেন ভদ্রের উচিত ছিল সহজভাবে বালতি পাল্টে নিয়ে আসা। দোকানি তো আর জল দিয়ে দেখে দেয়নি। অবিশ্বাস ক’রে জেতার চেয়ে বিশ্বাস ক’রে ঠকার মধ্যেও শিক্ষা আছে।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-২৯/৪/৭১ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২০৯]