প্রেমের কথা বলার আগে প্রেম কর।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

প্রেমের কথা বলার আগে প্রেম কর।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব সতীশদাকে (পাল) আলোচনা করতে বললেন।

সতীশদা—প্রেমের কথা অর্থাৎ ভালবাসার কথা মুখে না বলে কাজের মধ্যে দিয়ে আমি যে ভালবাসি তা ফুটিয়ে তুলতে হয়। কেবল আমি তোমায় ভালবাসি বল্লে ভালবাসা হয় না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—ঠাকুর কচ্ছেন—ভক্তির গাঢ়ত্বই প্রেম। আর সৎ-এ নিরবচ্ছিন্ন সংলগ্ন থাকার চেষ্টাকেই ভক্তি বলে। ইষ্ট বা ভগবানকে ভালবাসতে পারলে অন্য সব ভালবাসা নিরর্থক হয়ে যায়। তাই মানুষ ইষ্টকে ভালবাসতে শেখে আর ইষ্টের যাঁরা তাদের না ভালবেসে পারে না। দুধ মেরে (জ্বাল দিয়ে) যেমন ক্ষীর হয়, তেমনি ভগবানে ভক্তি গাঢ় হলেই প্রেম আসে। আর ভগবানকে না ভালবেসে কেউ প্রেমের অধিকারী হতে পারে না। তাই যে যতখানি ইষ্টকে ভক্তি করে, ভালবাসে সে ততখানি প্রেমের অধিকারী হয়।

ভগবানের সৃষ্টি এই পৃথিবী, প্রতি বস্তুই ভগবানের অংশ বিশেষ। জীবও ভগবানের অংশ বিশেষ। ভগবানকে সেবা করলে, ভক্তি করলে, ভালবাসলে প্রকৃত প্রেম শেখা যায়। সেই জ্ঞানে (অর্থাৎ ভগবানের সৃষ্ট জীব বলে) সবাই তাঁর সৃষ্ট জীবকে ভালবাসতে শেখে। তিনিই একমাত্র ভালবাসা শেখানোর মালিক। তাই তাঁকে যতখানি ভালবাসা যায়, ততখানি নিজের ভালবাসা শেখা হয়।

[তাঁর সান্নিধ্যে/তাং-২৮/৩/৭৪ ইং]

কৃতিদেবতা চৌধুরী বাণীটি আলোচনা করতে গিয়ে পুনরায় পাঠ করে বলল—ভক্তির গাঢ়ত্বই প্রেম।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ। ভক্তি যখন গাঢ় হয় তখন প্রেম হয়। যখন প্রেম হয় তখন প্রেমের কথা বল। তা না হলে কোন কাজ হবে না। প্রেমের কথা বলার আগে যদি ভক্তি গাঢ় হয়, তাঁর সাথে একাত্ম হই, তিনি ছাড়া আর কিছু বুঝি না—তখন যদি যাজন করি তাতে কাজ হবে। প্রেমের কথা বলার আগে প্রেম করতে হবে ষোলআনা। তাঁকে ভালবাসতে পারলে তখন যার কাছে যেমনভাবে তাঁর কথা বলি কাজ হবে। তাতে ইষ্টের প্রতি ভক্তি ক্রমশঃ গাঢ় হয়। সাধারণ মানুষের সাথে ভক্তি গরুর মতন। গরু যখন দুধ দেবে তখন ভাল, না দিলে উল্টো। ইষ্টের প্রতি ভক্তি যখন গাঢ় হয় তখন যা বল—তা যারা শুনবে তাদেরই দুঃখ কষ্ট চলে যাবে। তাই ঠাকুর বলেছেন—প্রেমের কথা বলার আগে প্রেম কর।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-২৩/৮/৭৯ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৩৪]