বস্তু-বিষয়ক সম্যক্‌ …. ঋষি।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

বস্তু-বিষয়ক সম্যক্‌ দর্শন দ্বারা তন্মননে মনের নিবৃত্তি যাঁদের হয়েছে—তাঁরাই ঋষি।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

হরিপদদাঁ—বস্তু সম্বন্ধে যখন সব জানা হয়েছে . . . . . . . . . .

শ্রীশ্রীবড়দা—বস্তু সম্বন্ধে প্রশ্নশূন্য, সে বস্তু সম্বন্ধে জানতে যখন আর কোন প্রশ্ন থাকে না।

যামিনী—সম্যক্‌ দর্শন কখন হয়?

শ্রীশ্রীবড়দা—সেই বিষয়ে যখন জানার আর বাকী থাকে না। ‘লং’, শব্দ যদি আমি মনন করি তার ভেতর যা’ যা’ আছে তা’ দেখে নিলাম।

দুর্গেশদা—কামনা বাসনা হ’লে পরে কি?

শ্রীশ্রীবড়দা—ভক্ত হরিদাসের একপ্রকার কামনা, অদ্বৈতের একপ্রকার। আমাদের তো কামনা আছে প্রতিটি ঘরে-ঘরে তাঁর প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের দেশে চালু আছে একটা কথা—কামনা-বাসনা মুক্ত। মুক্ত হ’ল কেমন ক’রে? তারপরও আবার কামনা। কামনাটা চিরন্তন। কামনা থাকে না যখন, তখন লয় প্রাপ্ত হ’য়ে যাই। ফিরে আসলাম যখন, তখন আবার কামনা। ঐ যে বলে নির্ব্বিকল্প—সেও এক কামনা। ঐ যে আছে প্রবৃত্তিমার্গ আর নিবৃত্তিমাৰ্গ।

দুর্গেশদা—মনে হয় ঋষি বলতে সবাই ভগবৎ উপাসক—এখানে ভগবৎ উপাসনার কথাই নেই।

শ্রীশ্রীবড়দা—সবাই ভগবৎ উপাসক। ভগবৎ উপাসক নেই এরকম হ’তেই পারে না।

পরমেশ্বরদা—বস্তুর সম্বন্ধে জানায় ultimate reality বা আদি উৎস কোথায়?

শ্রীশ্রীবড়দা—ভগবান সৰ্ব্বঘটেই আছেন। আমরা তা বুঝিনা। সেই জ্ঞান হলে আদি উৎস বোঝা যায়। ছিল পাষণ্ড, হয়ে গেল মহা ভক্ত। ছিল মাটির প্রতিমা, একদম জাগ্রত হয়ে গেল।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-৮/১/৭৪ ইং ]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৩২০ – ৩২১]