বাধাপ্রাপ্ত কামই …. বন্ধু।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

বাধাপ্রাপ্ত কামই ক্রোধ ; আর, ক্রোধই হিংসার বন্ধু।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব মীরাকে (মণ্ডল) বাণীটি আলোচনা করতে নির্দেশ দিলেন।

মীরা—কাম মানে কামনা। গীতার কাছে একটা বই আছে। বইটা আমি চাইলাম ওর কাছে। ও দিল না। তখন আমার ক্রোধ হল ওর উপর।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ঠিকই বলেছ। কিন্তু তুমি চাইলেই গীতা তোমাকে দেবে কেন? ওর হয়ত দরকার তাই দিল না। ওর দরকার যে বইটা সেটা চাওয়া তো বোকামি।

অতঃপর শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—বাস্তব জগতে অনেক জিনিস চোখে পড়ে। তুমি (রামনন্দন প্রসাদের দিকে তাকিয়ে) একটা জমি কিনতে চাচ্ছ; সতীশ জানতে পেরে গেছে জমিটা কিনে নিতে পারলে ভবিষ্যতে ছেলেপুলেদের পক্ষে অনেক সুবিধা হবে। তাই রাতারাতি বিক্রেতার বাড়ি গিয়ে টাকা ধরিয়ে পরদিন রেজিস্ট্রি করে চলে এল। রামনন্দন খবরটা পেয়ে সতীশের উপর ক্রোধান্বিত হয়ে উঠল। রামনন্দন যে রেগে গেছে সতীশের কানেও খবর চলে গেছে। উভয়ের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল তা নষ্ট হয়ে গেল। রামনন্দন সতীশের উপর হিংসাভাব রেখে চলতে থাকল।

পাবনায় থাকতে মাছের বাজারে প্রায়ই গণ্ডগোল হ’ত। মাছ বিক্রেতার কাছ থেকে একটা মাছ একজন কিনবে স্থির করেছে। বিক্রেতাকে বলেও রেখেছে। আরেকজন ক্রেতা দোকানদারের কাছে আরও বেশি দাম দিয়ে কিনতে চাইছে দেখে পূর্বের ক্রেতা ধমকের সুরে বলল—মশায় ওটায় হাত দেবেন না। দ্বিতীয় ক্রেতা বলল—কেন মশায়, ওটায় কি আপনার নাম লেখা আছে? গরু নিয়ে, মাছ নিয়ে, জমি নিয়ে গণ্ডগোল চোখে পড়ত।

একটা ছেলে একটা মেয়ের বাড়ি যায়। মেয়ের পাড়ার কোন লোক হয়ত মেজাজ দেখিয়ে বলল—এ বাড়ি আসা চলবে না।

এমনি কত ঘটনা রোজই ঘটছে। প্রথমে ক্রোধভাব সৃষ্টি হচ্ছে, তা থেকে আসছে হিংসাভাব।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-১৩/৮/৭৬ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৩৯]