বিশ্বাসই বিস্তার ও চৈতন্য…দেয়।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

বিশ্বাসই বিস্তার ও চৈতন্য এনে দিতে পারে, আর অবিশ্বাস—জড়ত্ব, অবসাদ, সঙ্কীর্ণতা এনে দেয়।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব দীপ সিংকে আলোচনা করতে নির্দেশ দিলেন।

দীপ সিংকে ইতস্ততঃ করতে দেখে শ্রীশ্রীপিতৃদেব সূত্র ধরিয়ে দিলেন—বিশ্বাস হলে কী হয়?

দীপ সিং—ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—কী ছড়িয়ে পড়ে?

দীপ সিং—নাম ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—বিশ্বাসী হলে লোকে তাকে শ্রদ্ধা করে, ভালবাসে। ইষ্টের প্রতি বিশ্বাস থাকলে সবাইকে ভালবাসবে, আপন করে ভাববে । আর চৈতন্য মানে কী?

দীপ সিং—জ্ঞান।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—উদাহরণ দাও—বিশ্বাসে কী হয়? তোমার বন্ধু তোমাকে বিশ্বাস করে ঘর ছেড়ে গেল। ঘরে আলমারি আছে টাকাপয়সা, গয়নাগাঁটি আছে। বন্ধু এসে দেখল যা ছিল সব ঠিক আছে। তুমি বিশ্বাসীর কাজ করলে। তখন তোমার সাথে সম্পর্ক আরও গাঢ় হল। তোমার নামে কেউ নিন্দা করলে সেই বন্ধুই চেপে ধরবে। বিশ্বাসী হলে পরে মানুষ তাকে ভালবাসে। ঠাকুরের উপর বিশ্বাস হলে পর বেশি জ্ঞান হবে।

আর যদি বন্ধুর কাছে তুমি অবিশ্বাসী হতে বন্ধু বাড়ি ফিরে এসে যদি দেখত টাকাপয়সা, গয়নাগাঁটি উধাও। তখন কী হবে?

দীপ সিং—আমাকে কেউ ভালবাসবে না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সবাই জানবে দীপ সিংই তো বাড়িতে ছিল—সে ছাড়া আর কেউ নিতে পারে না। তখন থেকে সবাই তোমাকে অবিশ্বাস করতে থাকবে। তুমি ভালবাসাও পাবে না। আগে যারা বিশ্বাস করত এখন তারা বিশ্বাস করছে না। তুমিও তাদের ভালবাসা পাচ্ছ না। তোমার সাথে মেলামেশা কমিয়ে দিচ্ছে। তুমিও সবার সাথে মিশতে পারবে না। মন সংকীর্ণ বা ছোট হয়ে যাবে।

[ইষ্ট-প্ৰসঙ্গে/তাং-৪/৬/৭৬ ইং]


নিত্যগোপালদা—বিশ্বাস থেকে expansion ও চৈতন্য কেমন ক’রে এনে দেয়?

শ্রীশ্রীবড়দা—ভাল করে বাণী পড়লে বোঝা যাবে বিশ্বাসে জানা আছে।

প্রণবদা (নিত্যগোপালকে)—ধর, তুমি অঙ্ক শিখতে চাও, বিশ্বাস ক’রে কারও কাছে শিখতে গেলে। শেষে অঙ্ক সম্বন্ধে তোমার জ্ঞান হ’ল—সেই সঙ্গে চেতনাও এল।

শ্রীশ্রীবড়দা—অবিশ্বাস করলে করাও হবে না, অভিজ্ঞতাও হবে না। অভিজ্ঞতা মানে জ্ঞান। জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত হয়। আমার কি চাহিদা সে সম্বন্ধে যদি সচেতন না থাকি তবে আগের যা জানা তার থেকে বিস্তৃতি আসে না। যে চাহিদা বা প্রাপ্তিতে অন্য কোন চাহিদা থাকে না সব কিছুর মূল সেই ইস্টে যদি বিশ্বাস থাকে—তবে কি না হয়! মানুষ অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়তে-বাড়তে চলছে—এমনি চলতে-চলতে তার ইষ্ট চাওয়া মুখ্য হয়ে ‘ওঠে—যা’ পেলে পরে আর কোন ক্ষুধা থাকে না। কথা হ’লো চাহিদা কি—জ্ঞান চেতনাও ঐ প্রকার সাড়াপ্রবণ (sensitive) হ’য়ে উঠবে।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-৩/১২/৭১ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৯৭]