বিশ্বাস বুদ্ধির গণ্ডির ….. নেই।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

বিশ্বাস বুদ্ধির গণ্ডির বাহিরে ; বিশ্বাস-অনুযায়ী বুদ্ধি হয়। বুদ্ধিতে হাঁ-না আছে, সংশয় আছে ; বিশ্বাসে হাঁ-না নেই, সংশয় নেই।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

দীপালি কর আলোচনা করার নির্দেশ পেয়ে বাণীটি পুনরায় পাঠ করল। পরে শ্রীশ্রীপিতৃদেব জিজ্ঞাসা করলেন—বিশ্বাস কা’কে বলে?

—যে ভাব বিরুদ্ধ ভাব দ্বারা আহত বা অভিভূত না হয় তাই বিশ্বাস।

শ্রীশ্রীপিতদেব—তারপরে কি আছে?

—“বিশ্বাস অনুযায়ী বুদ্ধি হয়”।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—“বিশ্বাস বুদ্ধির গণ্ডির বাহিরে”—বললি না তো?

দীপালি—বুদ্ধি দিয়ে বিশ্বাসকে মাপা যায় না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সেটা কি রকম? একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দে। উপমা দে। সকলেই উদাহরণ চায়।

দীপালি বলছে না দেখে প্রতিভাকে (প্রধান) বলতে বললেন।

প্রতিভা—বিশ্বাসের সঙ্গে বুদ্ধির কোন সম্পর্ক নাই। আমার যদি বিশ্বাস থাকে তবে কাজ হবেই।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—যেমন, আমার ছেলের খুব অসুখ করেছে। ডাক্তার চিকিৎসা করে কিছু করতে পারছে না। তখন সকালে উঠে ঠাকুরের চরণামৃত দিয়ে দিলাম। তাতে সেরে গেল। আমার বিশ্বাস আছে ঠাকুরের প্রতি, তাই সেরে গেল। সৎসঙ্গে এমন বহু ঘটনা ঘটে গেছে। পায়ে ঘা হয়েছে—কলকাতা হাসপাতালে নিয়ে গেল, কিন্তু ভাল হয় না। ঠাকুরকে ডাকতে থাকে। ঠাকুর ছাড়া গতি নাই। সকালে উঠে দেখল ঘা-টা vanish হয়ে যাচ্ছে। ঠাকুরের দয়ায় ভাল হয়ে গেল। এটা বুদ্ধি দিয়ে বোঝা যায় না। বিশ্বাস তখন বার-বার সেবা করে, বুদ্ধি যোগান দেয়। মনে হয়—ঠাকুর আছেন।—তারপর কি?

প্রতিভা—“বুদ্ধিতে হাঁ-না আছে, সংশয় আছে; বিশ্বাসে হাঁ-না নেই, সংশয় নেই।”

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ, কোন বিরুদ্ধ ভাব বিশ্বাসকে টলাতে পারে না।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/ তাং-১৯/১১/৭৯ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৯৯]