বিশ্বাস যুক্তিতর্কের …ক’রবে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

বিশ্বাস যুক্তিতর্কের পার, যদি বিশ্বাস কর, যত যুক্তিতর্ক তোমার সমর্থন ক’রবেই ক’রবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

গুরুকিংকরদা—একজন ২-টার সময় আসার কথা। —এলেন ৮টার সময়……।

শ্রীশ্রীবড়দা—হয়’ত এমন হ’তে পারে যে, ভীষণ বিপদে পড়ে আসতে পারেনি—পরে এসে ব’লল। শান্তি পাওয়ার উপায়—যা একমাত্র পথ—নিজের দোষকে দেখা। কে এলো, না এলো, ওসব দেখিনা। আমার সামনে কেউ বিপদে পড়লে, আমি অর্থ, বাক্‌ বা শক্তি দিয়ে যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করি।

যা’কে বিশ্বাস করব যুক্তি-তর্কও তা’কেই সমর্থন করবে, তাকেই কার্য্যকরী ক’রে তুলবার চেষ্টা করবে। একজন টাকা নিছিল, অনেক দিন বাদে এসে টাকা দিচ্ছে, আমার মোটেই মনে নেই—একদম ভুলে গিয়েছি। সে বলল, টাকা নেন। আমার থেকে উদারতা তার অনেক বেশী। বললাম—নিছিলে নাকি? ব’লল—হ্যাঁ। কত টাকা? ব’লল—৩০০০ টাকা। ৪/৫ বছর আগেকার কথা। ছিল, দিয়ে দিয়েছি।

ননীদা—উদারতা কারো কম নয়; কারণ যিনি দিয়েছেন, তিনি কোন প্রত্যাশা রেখে দেননি।

শ্রীশ্রীবড়দা—যাদের কথায়-কাজে মিল আছে—তারা ঠকেও না, ঠেকেও না।

বসন্ত ডাক্তারের বাড়ীর গায়ে আশু চৌধুরীর বাড়ী—সাইকেল আছে তাদের । কাউকে মোটেই দেয় না। অনেক বলার পর আমাকে দিল। সকালে নিয়ে, বিকালে দেবার কথা। আমি সকালে পাবনা থেকে ফিরে এসেই—মুছে চক্চকে করে দিলাম। আমি ঠাকুরকে খুব ভালবাসি—মুখে এই-ই কেবল বলে;—ঠাকুর আমাকে কতখানি ভালবাসেন তা’ বলতে চায় না।

—তাদের যাজন কেউ শুনতে চায় না।

ননী’দা—আজকাল অনেকে বলে—আগে যুক্তি-তর্ক ক’রে পার হ’য়ে গেলে পরে বিশ্বাস।

শ্রীশ্রীবড়দা—সে রকম একটা theory আছে; এখানে এটা খাঁটি জিনিস—আগে বিশ্বাস।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১৯/৪/৭৪ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৯৮]