বিশ্বাস সন্দেহ-দ্বারা … আসে।- ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

বিশ্বাস সন্দেহ-দ্বারা অভিভূত হ’লে মন যখন তাই সমর্থন করে তখনই অবসাদ আসে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীবড়দা—(নিত্য ও মনিকে বললেন) কথাটা বড় সাংঘাতিক কথা। একটা concrete example দে!

মনি—বিশ্বাস থাকলেই করা, দেখা, চলা অনুভব করা হয়।

শ্রীশ্রীবড়দা—একি হয়?

এরকম হতে পারে আমি train-এর মধ্যে বসে নিত্যগোপালের কাছে ঠাকুরের কথা শুনে এমন ভাব হল যে, আমি যাকে খুঁজি এই তো তিনি। হয়ত কখনও একটা ঠাকুরের জীবনী পড়েছিলাম তাই দেখে দর্শন করবার ইচ্ছা হয়, সুযোগটা ঘটেনি, এমনও case আছে। যে কোন বিরুদ্ধ পারিপার্শ্বিকের সংঘাতে সে শক্ত হয়ে লড়াই করছে ঐ বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে। অনেক বছর ধরে করে যেই একটা স্বার্থে আঘাত লাগল—অমনি বিশ্বাস ভেঙ্গে গেল। আমাদের এমন হয় অনেকের—নাম করছি—ভজন করছি, খুব ভাল লাগছে, হঠাৎ দেখা গেল ঝিমিয়ে গেলাম—সাধারণ লোকের এমন হয়ই, সেখানে বিশ্বাস কমে গেছে। ঐ fatigue zone pass করে যেতে হয়। ঠিক সময়মত নাম-ধ্যান নিখুঁত ভাবে করতে হয়। নাম করতে করতে চিত্ত নির্মল হলে বিশ্বাস বেড়ে যায়। আবার এমন হয় যে চোখে চোখ পড়ল বা শুনল—আর চ’লল। তাঁরা হ’ন ঈশ্বর কোটির; যেমন রাধা-কৃষ্ণের ভাব।
হঠাৎ ভাল লাগল না মানে বিশ্বাসের অভাব। বিশ্বাস জিনিসটাই পাকা। আর ঐ যা’ বলেছেন তা বাচক বিশ্বাস। আসল কথা যাদের পাকা বিশ্বাস, তারা সন্দেহের দ্বারা অভিভূত হয় না।

[যামিনীকান্ত রায়টৌধুরীর দিনলিপি/তাং-৪/৮/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২০৮]