ব্যাকুলতা মানে … আকাঙ্ক্ষা। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

ব্যাকুলতা মানে বিজ্ঞাপন নয়কো, বরং হৃদয়ের একান্ত উদ্দাম আকাঙ্ক্ষা।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব নিজেই সহজ করে বুঝিয়ে দিলেন—এমনও ভক্ত আছে যাদের ভক্তিভাব কিংবা ব্যাকুলতা বেড়ে যায় যখন আশেপাশে লোকজন বেশী থাকে। এখানে ওখানে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম, কেঁদে ফেলা, ভক্তিতে গদ-গদ ভাব ইত্যাদি। দেখে মনে হয় কত না ভক্ত ইনি। অনেকে এইভাব দেখে তার স্ত্রী-পুত্র পরিবার পরিজনদের দেখায়, দেখ কেমন ভক্ত। এই যে ভক্তিভাবটা এটা বিজ্ঞাপন হয়ে গেল।

শ্রীশ্রীঠাকুর হঠাৎ এক ভক্তকে বললেন—আমাকে কিছু টাকা দিতে পারিস। অমনি ভক্ত সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়—সবই তো তোমার প্রভু। আমার তো কিছু নেই; সবই তো তুমি জান। ঠাকুর যত বলেন, তোর দেওয়াই লাগবে—ভক্ত ততই না দেওয়ার কথা বলে। এমন ভক্তির কিবা দাম, আর এমন ভক্ত বা কি হবে।

আবার তাঁর অনেক মানুষ আছে যারা তাঁর আদেশ পালনের জন্য অপেক্ষায় থাকে। অথচ এত লোক দেখানো কোন কাজ করে না। আর ঘটা করে কাঁদে না, ভক্তির ভাবও জাহির করে না।

[তাঁর সান্নিধ্যে/তাং-২১/১২/৭৪ ইং]

অমলকুমার চক্রবর্তী বাণীটি আলোচনা করার নির্দেশ পেয়ে পুনরায় পাঠ করে বলল—ব্যাকুলতা মানে আকুলতা। কোন কিছুর জন্য প্রবল ব্যগ্রতা।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ, বিজ্ঞাপন মানে প্রচারের যন্ত্র। যা দ্বারা প্রচার করা যায়।—এখানে ঠাকুর কি বলছেন?

অমল—আমার যে জানার, করার, দেখার ইচ্ছা, তা’ লোক দেখানোর জন্য নয়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—তাহলে কি?

অমল—বরং হৃদয়ের একান্ত উদ্দাম আকাঙ্ক্ষা।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-১৯/৯/৭৯ ইং]