ভক্তিতে কোনও কালে কোনও রূপে দুর্ব্বলতা নেই।

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

ভক্তিতে কোনও কালে কোনও রূপে দুর্ব্বলতা নেই।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীবড়দা—দুর্ব্বলতা মানে কি? লোকে মনে করে অসুস্থ হলে যে অবস্থা, তাই। দুর্ব্বলতা মানে, ইন্দ্রিয়-প্রবণতা, বিকেন্দ্রিয়তা থেকে সৃষ্টি হওয়া ভাব।

অতীশদা—অৰ্জ্জুন যুদ্ধ করতে চাননি। এটা কি ধরনের দুর্ব্বলতা?

শ্রীশ্রীবড়দা—ওটা মায়ার দুর্ব্বলতা । আত্মীয়-স্বজন মরবে, এই মমতার দুর্বলতা। অর্জ্জুন ক্ষত্রিয়, ধর্মস্থাপনের জন্য যুদ্ধ করাই তার কূলধর্ম্ম। শ্রীকৃষ্ণ প্রথমে চেষ্টা করলেন, ধর্ম্ম বিনা রক্তপাতে স্থাপনের জন্য। তা যখন সম্ভব হলো না, তখন যুদ্ধ করতেই হবে। সেই সময়কার দুর্ব্বলতা অৰ্জ্জুন অতিক্রম করতে পারেননি। তারপরে সর্ব্বসংশয় মুক্ত হলেন, বিশ্বরূপ দর্শন করলেন। অমন সর্ব্বসংশয় মুক্ত হলে ঐ দর্শন এখনও তুমি পেতে পারো। সংশয় মুক্ত হলে দুর্ব্বলতা থাকেনা দুর্ব্বলতা আসে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে। একটু কথা বললেই ego-তে লেগে যায়। অহং-এর আসনে ইষ্টকে বসাতে হয়। তাঁকে সবকিছু সমর্পণ করতে হয়। যারা এমন দিতে পারে, তারা সেবাপটু হয়, নিরলস হয়, নিরভিমান হয়। ভক্তি থাকলে শুষ্ক তরু মুঞ্জরিত হয়।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১১/১২/৭২ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২২২ – ২২৩]