ভক্তির চরিত্রগত … লক্ষণ।- ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

ভক্তির চরিত্রগত লক্ষণের সঙ্গে যদি ঐ ভাবের লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়, তবেই তা’ সাত্ত্বিক-ভাবের লক্ষণ।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

নিত্যানন্দদা—সাত্ত্বিক ভাবটা কি?

পণ্ডিতদা—ইষ্টের ভাব পোষণ হয় যাতে।

ব্রজদা—সত্তার ভাবটা একটু বুঝিয়ে দিলে হয়।

যামিনীদা—সত্তার প্রতীক ইষ্ট। সৎ মানে অস্তিত্ব, যে ভাব অস্তিত্বকে পুষ্ট করে। ‘রজঃ’ = রজ ধাতু—রং করা অর্থে—অহংকার, দ্বেষ, ইচ্ছা প্রভৃতির কারণ। ‘তমঃ’ মানে গ্লানি, মলিন হওয়া।

শ্রীশ্রীবড়দা—দুঃখ-কষ্টের দ্বারা গ্লানি হয়েছে। কি বুঝলে বল (ব্রজদাকে বলছেন)। জৈব-ধর্ম্ম সব মানুষের মধ্যে আছে; যাদের বিবেক-বৈরাগ্য, প্রেম-ভক্তি ছাড়াও আছে অহংকার, দ্বেষ—তারা রজোগুণী। তমোগুণীদের কামভাব Prominent, অন্যদের কাম যে নেই তা নয়; তবে রজোগুণীরা ইস্টার্থে প্রয়োগ করে। তমোগুণীরা যেখানেই যায় মেয়েলোক-ঘটিত আলোচনা করে এবং মেয়েদের দলে ভিড়ে পরে—আদিরসাত্মক ভাব। সাত্ত্বিকদের আদিরসাত্মক ভাব নেই তা নয়, খুব fine শিহরণ থাকে। যেমন—চন্ডীদাসের প্রেমে কাম গন্ধ নেই।

ব্রজদা—অনেকে বলে সাত্ত্বিক আহার করলে রাগ-টাগগুলো কমে, যা আমরা করি।

শ্রীশ্রীবড়দা—সাত্ত্বিক ভাব মানে রাগের মধ্যেও সাত্ত্বিক, কামের মধ্যেও সাত্ত্বিক; আহার, নিদ্রা, মৈথুনের মধ্যেও সাত্ত্বিক। সাত্ত্বিকরা প্রেম দিয়ে জয় করতে চায়, কিন্তু রজোগুণীরা শক্তির দ্বারা জয় করতে চায়।

ডঃ হালদারদা—সত্ত্বগুণের সাথে তফাৎ ঠিক কি?

শ্রীশ্রীবড়দা—সাত্ত্বিকদের কথাই আলাদা—হঠাৎ তাদের বিছানার কাছে গেলে চন্দনের সুবাস পাওয়া যায়। সাত্ত্বিকদের ঘামে গন্ধ হবে না, gland-ই ওরকম secretion দেবে না। সাত্ত্বিকদের শরীর থেকে পাতলা (light) মধুর মত গন্ধ বেরোয়।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১২/১২/৭২ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২২৬]