ভক্তি এনে দেয় জ্ঞান…..অধিকারী হবে।

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

ভক্তি এনে দেয় জ্ঞান ; জ্ঞানেই সৰ্ব্বভূতে আত্মবোধ হয় ; সৰ্ব্বভূতে আত্মবোধ হ’লেই আসে অহিংসা; আর, অহিংসা হ’তেই প্রেম। তুমি যতটুকু যে-কোন একটির অধিকারী হবে, ততটুকু সমস্তগুলির অধিকারী হবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব কৃতিকে আলোচনা করার নির্দেশ দিলেন।

কৃতি—সৎ-এ নিরবচ্ছিন্ন লেগে থাকার নাম ভক্তি। আমি ইষ্টে যতটুকু লেগে থাকব তাঁর সম্বন্ধে ততটুকু জানতে পারব, জ্ঞানও ততটুকু হবে। এ থেকেই বোঝা যাবে আমার ভক্তি কতটা। জ্ঞানে সর্বভূতে আত্মবোধ হয়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সর্বভূতে আত্মবোধ হয় কেমন ক’রে? আত্মবোধ মানে কী? ধৃতিদীপী বল।

ধৃতিদীপী—কারও ব্যথাতে আমারও ব্যথা লাগবে, কারও কষ্ট দেখলে আমারও কষ্ট হবে।

সতীশদা (পাল)—সব প্রাণীকে আপন মনে হয়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আর গাছপালা হবে না?

সতীশদা—আজ্ঞে হবে।

শ্ৰীশ্রীপিতৃদেব—পরমপিতাই তো সব হ’য়ে আছেন।

এরপর সপ্তর্ষিকে জিজ্ঞাসা করলেন—প্রেম কাকে বলে?

সপ্তর্ষি—ভক্তির গাঢ়ত্বই প্রেম।

শ্ৰীশ্রীপিতৃদেব—তাহ’লে শুরু হ’ল ভক্তি থেকে। গাঢ় ভক্তি মানে strong (শক্তিশালী) ভক্তি, জমাট বাঁধা ভক্তি। দুধে জ্বাল দিতে-দিতে যেমন গাঢ় হয়ে ক্ষীর হয়, তেমনি ভক্তিও গাঢ় হ’য়ে উঠলে প্রেম আসে। তাহ’লে আগে ভক্তি, তারপর—?

সপ্তর্ধি—তারপর জ্ঞান।

—তারপর?

—আত্মবোধ।

—তারপর?

—অহিংসা।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আমার নিজের ওপরে হিংসা হয় কি?—হয় না। তেমনি সব্বাইকে যদি আপন মনে করি, কারো ব্যথা দেখে যদি আমি ব্যথিত হই তাহ’লে হিংসা কী-ক’রে আসবে? তখন অপরের সুখে আমি সুখী হব, অপরের আনন্দে আমার আনন্দ হবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব এবার ননীদার দিকে তাকিয়ে বললেন—বেশ বলল তো! বেশ সহজ ক’রে বলল।

ননীদা—আজ্ঞে, বেশ সুন্দর বলেছে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব এবার মায়েদের দিকে দৃষ্টিপাত ক’রে বললেন—ধীরা বল দেখি যতটুকু ততটুকু কী?

ধীরা—যতটুকু যে-কোন একটির অধিকারী হব, মানে যতটুকু যে-কোন একটি লাভ করব ততটুকু সমস্তগুলিই লাভ করব।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-৯/৮/৭৬ ইং ]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৩৬-২৩৭]