যার অনুভূতি যতটা ….. দৃঢ়তা।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

যার অনুভূতি যতটা ; তার দর্শন, জ্ঞান ততটা ; আর জ্ঞানেই বিশ্বাসের দৃঢ়তা।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

প্রশ্ন করলেন সতীশদা (পাল)—অনুভূতি, দর্শন ও জ্ঞান—এ তিনটার কোনটা আগে, কোনটা পরে?

রামনন্দনদা—প্রথমে বিশ্বাস, বিশ্বাস হ’লে সে’মত করব, করার ফলে দর্শন, দর্শন হ’লে জ্ঞান আর জ্ঞানেই বিশ্বাসের দৃঢ়তা।

সুধীরদা (রায়চৌধুরী)—আমার মনে হয় দর্শন আগে, পরে বিশ্বাস।

রামনন্দনদা—কী ক’রে?

সুধীরদা—আমার নিজের কথা ধ’রেই বলছি। আমি তখন দীক্ষা নিইনি। একদিন সৎসঙ্গে (শ্রীশ্রীঠাকুরের গুণকীর্তন অনুষ্ঠানে) গেলাম। জোর কীর্তন চলল। কীর্তনের পর বসে আছি আমার নিজের কাজের জন্য। কিন্তু আমার মনে বিস্ময় জাগল—মানুষ ঠাকুরের কীর্তন-মাধূর্য্যে এমন সিক্ত হ’তে পারে! তাদের (কীর্তনে অংশগ্রহণকারীদের) চোখে-মুখে এক অপূর্ব জ্যোতি দেখতে পেলাম। আগে আমি ঠাকুরের নামে যে-সব কুৎসা শুনেছিলাম তা দূর হল—মনে হ’ল ওসব মিথ্যা। আমি দীক্ষা নিতে চাইলাম। পরে দীক্ষাও হয়। সৎসঙ্গে যোগদানের পূর্বে আমার মনের মধ্যে ঠাকুরের প্রতি বিরুদ্ধ ভাবই ছিল।

সতীশদা—আগে আপনার দর্শন হ’ল, না আগে আপনার এ-বিষয়ে অনুভূতি এল?

সুধীরদা—আগে আমার দর্শন হ’ল। কীর্তন দেখলাম, তারপর অনুভূতি এল; ঠাকুরের প্রতি বিশ্বাস ছিল না, পরে বিশ্বাস এল।

সতীশদা—আগে আপনার অনুভূতি ছিল না, আগে আপনার দর্শন হ’ল—আপনি বলছেন। কিন্তু আপনার এ বিষয়ে কোন অনুভূতি ছিল না বুঝব কেমন ক’রে?

রামনন্দনদা (সুধীরদাকে)—ছ’মাস যাজনে আপনার মনের ভাব এমন হয়েছিল যার জন্য আপনি সৎসঙ্গে উপস্থিত হলেন। এটুকু অনুভূতি না হ’লে আপনি সৎসঙ্গে আসবেন কেন?

সুধীরদা—আমি ঠাকুরের কথা শুনব এ উদ্দেশ্যে সৎসঙ্গে যাইনি। আমার একটা উদ্দেশ্য ছিল—আমার তখন একটা library (গ্রন্থাগার) গ’ড়ে তোলার ইচ্ছা। সৎসঙ্গে এসে অনেকের সঙ্গে দেখা হবে, আমার কথা বলব—এজন্যই আমি এসেছিলাম। আমার উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই আমি সৎসঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম।

সুধীরদার কথার সূত্র ধ’রে আলোচনা চলতে লাগল। সুধীরদা আবার বললেন—আগে আমার মনে হতো সব মানুষই মরা। মরা মানুষরাই হাঁটছে, ফিরছে। যা’ দেখছি সবই মরা—এ-রকম ভাব।

সুধীরদার আলোচনা উপস্থিত দাদাদের ভেতর হাসির উদ্রেক করল। শ্রীশ্রীপিতৃদেব সুধীরদার উদাহরণ প্রসঙ্গে বললেন— ওটা উদাহরণই হয়নি। ওটা একটা গল্প। ওই কথার মধ্যেই contradiction (বিরোধ) আছে। মরা সম্বন্ধে একটা অনুভূতি রয়েছে; তা’ না হ’লে মরা দেখবে কেমন করে?

[ ইষ্ট-প্ৰসঙ্গে/তাং-২৫/৯/৭৪ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২০৩]