যার বিশ্বাস যত ….. তীক্ষ্ণ।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

যার বিশ্বাস যত কম সে তত undeveloped (কাঁচা), বুদ্ধি তত কম তীক্ষ্ণ।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব ধৃতিবল্লভকে বাণীটি আলোচনা করতে বললেন।

ধৃতিবল্লভ—যার বিশ্বাস যত কম সে তত undeveloped, মানে সে কাঁচা এবং তার বুদ্ধিও কম তীক্ষ্ণ।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—বিশ্বাস কাকে বলে?

ধৃতিবল্লভ—যে ভাব বিরুদ্ধ ভাব দ্বারা আহত বা অভিভূত না হয় তা-ই বিশ্বাস।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—বিশ্বাস না হ’লে কী হয়?

ধৃতিবল্লভ—সে তত undeveloped।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সে তত undeveloped হ’লে সে কাজে অপটু হবে, তার সফল হওয়া শক্ত। সেজন্য বিশ্বাস মস্ত বড় সম্পদ। বিশ্বাস হলে বুদ্ধিও বেরিয়ে যায়, সেরকম যুক্তি সে পেয়ে যায়। সে সব কাজে সফল হয়। যার বিশ্বাস কম সে মন দিতে পারে না, যে কাজই করুক না কেন। মন ঠিক করে কাজে লাগার উপায় হচ্ছে নাম করা। মন স্থির করে করলে পাঁচ ঘণ্টার কাজ এক ঘণ্টায় হয়ে যায়। সাইকেলে চড়ে বাইরে থেকে এলে, ধুলোবালি ঝেড়ে রাখছ, মন স্থির ক’রে যদি না কর বহু সময় লেগে যাবে। কথা বুঝতে পারছ? (ধৃতিবল্লভের উদ্দেশ্যে)

ধৃতিবল্লভ ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানায়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—তোমায় ঠাকুরবাড়ী আসতে দেখে যদি কেউ বলে ঠাকুরবাড়ী যাচ্ছ কিজন্য? ছোটবেলা থেকে ধর্ম-ধর্ম ক’রে মাথাটি একেবারে খেয়ে ফেলবে নাকি?—তখন কী বলবে? (রামগোপাল ও ধৃতিবল্লভ-এর উদ্দেশ্যে প্রশ্নটি করলেন)

ওরা উভয়ে নিরুত্তর থাকায় শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—তখন বলবে, আপনি কী বলছেন—আপনার কথা বুঝতে পারছি না।

ধর্ম আচরণে মাথা ভাল থাকে, শরীর ভাল থাকে। “বাঁচাবাড়ার মর্ম যা’/ঠিকই জেনো ধৰ্ম্ম তা”।

নিঃস্বার্থ সেবা দিতে হয়। বেঁচে থাকা তোমারও দরকার, আমারও দরকার। নিঃস্বার্থ সেবা দিলে মন প্রসারিত হয়, আনন্দ পাওয়া যায়, পরমপিতার দয়া অনুভব করা যায়। এমন কোন কাজ করতে হয় না যাতে অন্যের অসুবিধা হয়, দুঃখ-কষ্ট, অশান্তি হয়। তুমি কি অপরকে কষ্ট দাও?

ধৃতিবল্লভ—আজ্ঞে না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সেটাই চেষ্টা করতে হবে। ঠাকুর যাতে খুশি হন তা-ই করতে হবে। তাঁর অনুশাসনবাদ মেনে চলতে হবে। বাজারে গিয়ে পেঁয়াজের বড়া খেয়ে আস নাকি? (ধৃতিবল্লভ, সঞ্জয় সিং ও গৌর দাসকে একে একে জিজ্ঞাসা করলেন) সকলেই একবাক্যে জানাল—আজ্ঞে না।

অতঃপর শ্রীশ্রীপিতৃদেব জিজ্ঞাসা করলেন—সঞ্জয়, নামে কী হয়?

সঞ্জয়কে নিরুত্তর দেখে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—নামে তীক্ষ্ণ হয়, মানে ধারাল হয়। ছুরিতে ধার থাকলে যেমন বেশী কাটে, তেমনি নাম বেশী করলে বুদ্ধি তীক্ষ্ণ হবে। ধ্যানে স্থির করে, মন দেওয়ার ক্ষমতা হয়। রোজ পাঁচ মিনিটের জন্য যদি ঠাকুরের দিকে মন দেওয়া অভ্যাস করা যায় তাহ’লেও অসম্ভব কাজ হয়। এমনি করতে করতে মন দেওয়া অভ্যাস হয়ে যাবে। মনকে এক জায়গায় রাখা অভ্যাস করতে পারব। তখন এক ঘণ্টার কাজ পাঁচ মিনিটে হয়। এসবে তো বাঁচাবাড়ার পক্ষেই সুবিধা হবে। রোজ অন্তত পাঁচ মিনিট ঠাকুরের নাম করব, ঠাকুরের চিন্তা করব। মন ছিটায়ে আছে, তাই হয়ত কোন বিষয় ঠিকমত বুঝতে পারছ না। মনকে যেই গুটায়ে নিয়ে এক জায়গায় করে ফেললে অমনি তাড়াতাড়ি বোঝা যাবে কী-হচ্ছে, না-হচ্ছে। তাই নাম অভ্যাস করলে পরীক্ষা পাশেরও সুবিধা।

নামের সময় টিলা হয়ে বসতে হয়, টান-টান হয়ে নয়। চোখ খুলে বা বন্ধ ক’রে করতে পার, তবে খুলে রাখলে সামনে যা’ যা’ থাকে সবদিকেই চোখ যায়—যেমন, ঝুড়িদি আসছে (শ্রীমতী সরোজবাসিনী দেবী ভোগের ঘর থেকে পার্লারের দিকে আসছেন, তাকে নির্দেশ ক’রে বললেন), কুকুরটা যাচ্ছে। মন তখন সরে যায়। সেইজন্য চোখ বন্ধ রাখার কথা বললাম।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-৮/৮/৭৭ ইং ]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২০০-২০১]