যা’ ক’রলে অস্তিত্বকে …. পুণ্য।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

যা’ ক’রলে অস্তিত্বকে রক্ষা করা হয়— তাই পুণ্য।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

সতীশদা—যা’ কি?

গুরুকিংকরদা—সবই, চড়টাকেও যদি অস্তিত্বের জন্য লাগে, তাও। For the Lord হতে গেলে তাই করা যায়। Lord তো অস্তিত্বেরই প্রতীক।

যামিনী—পৃথিবীর যে কোন কাজ যা প্রচলিত আকারে আচারে নিষেধ আছে তাও?

শ্রীশ্রীবড়দা— হনুমান তো বহু দোষে দোষী হল। ছলনা করে নিয়ে এল মৃত্যুবান, বাড়িঘর জ্বালায়ে টালায়ে।

গুরুকিংকরদা—ভ্রুণহত্যা করল?

—(বসাওনদা সতীশদাকে) আপনি আপনার মত করে অস্তিত্ব রক্ষা করছেন, চোর যে তার বৃত্তি পালন করে—বেঁচে আছে।

শ্রীশ্রীবড়দা—চোর তো না, চৌর্য্যবৃত্তি।

গুরুকিংকরদা—হিসেব করে দেখা যায়—চোর যা’ যা’ করছে, তা যদি Lord এর জন্য করত, তা’হলে পুরুষানুক্রমে যেতে পারত।

সতীশদা—যা করলে অস্তিত্ব স্বীকৃত হয় তাই পুণ্য—তাহ’লে Lord-কে স্বীকার করব কেন?

শ্রীশ্রীবড়দা—আমি ঈশ্বর মানি নে তাতে কি হ’ল। এককথায় সবকে কেন্দ্রায়িত করে একটাতে নিয়ে আসতে হবে।

শ্রীকন্ঠদা—(বসওয়ানদাকে) চুরি করা যখন নিজের জন্য করি তখন অস্তিত্ব রক্ষা করা হল না।

শ্রীশ্রীবড়দা—হনুমান চুরি করল কই! সে তো চুরি করেনি। তিনি দৈবজ্ঞ সন্ন্যাসী সেজে গেছিলেন, বানটা কোথায় জানবার জন্য। ইষ্টের প্রতি টানে রূপ পরিগ্রহ করলেন। অতখানি ইষ্টস্বার্থপরায়ণ হলে, অতখানি ইষ্টকে ভালবাসলে ঐ রকম করা যায়। ধর, ভীষণ পেট খারাপ। কোন রকমে রোগী বাঁচে না, শেষ পর্যন্ত ডাক্তার একটা prescription দিল যার মধ্যে আফিমের preparation আছে।

অমূল্যদা—চিনি শুধু মিষ্টি নয়, বিষও মিষ্টি হয়।

শ্রীশ্রীবড়দা—ঠাকুর বলেছেন যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি সদাচার পালন করার ভেতর দিয়ে অস্তিত্ব রক্ষা হয়।

সতীশদা—বিচারের প্রশ্ন আছে তো-ইষ্টের নির্দেশটাই standard-ঐটার উপর দাঁড়িয়ে বিচার তো।

পরমেশ্বরদা—(সতীশদাকে) অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে কার?

সতীশদা—নিজের তো আগে, তারপর পরিবেশের।

শ্রীশ্রীবড়দা—যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি। তার মধ্যে অহং, ইষ্ট ও পারিপার্শ্বিক এই তিনটে নিয়েই। যেমন, কোন পাড়ার সবাইকে Cholera Vaccine বা টীকা দিলে কলেরা বা Pox হয় না।

বসাওনদা—খুব পূজা আর্চা করছি। পাশের বাড়ি cholera অসুখও হতে পারে।

শিবদয়ালদা—পাড়াপড়শী নিপাত যাবে, তুই বসে সুখ খাবি বুঝি?

পরমেশ্বরদা—নিজের অস্তিত্ব বিপন্ন করে অপরকে বাঁচাতে যেয়ে মরে গেল।

শ্রীশ্রীবড়দা—তাঁরা অমর হয়ে থাকেন।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১/১১/৭৫ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৩২৫ – ৩২৬]