যিনি ছলে-বলে-কৌশলে… হবে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

যিনি ছলে-বলে-কৌশলে, যেমন ক’রেই হোক না কেন, সৰ্ব্বভূতের মঙ্গল-চেষ্টায় যত্নবান্‌, তাঁরই অনুসরণ কর, মঙ্গলের অধিকারী হবেই হবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মালিক, যাঁর ইচ্ছায় সব কিছুই হচ্ছে তাঁকে আবার কিনা “ছল-বল-কৌশল,’ প্রয়োগের কোন প্রয়োজন আছে?

কেউ কোন উত্তর দিচ্ছেন না, সবাই তাঁর দিকে জিজ্ঞাসু নেত্রে তাকিয়ে আছেন দেখে পিতৃদেব নিজেই উত্তর দিলেন—‘ছলে’— মানে তোমার কোন অমঙ্গল ঠাকুর দেখেছেন, তাই তিনি তাঁর কাজের মধ্যে নিযুক্ত রাখতে চান। আর ঐ কাজের মধ্যে থাকলে অশুভ সময়টা কেটে যাবে, আর অমঙ্গল হবে না। তাই হঠাৎ ঠাকুর বলতেন—এই যা তো অমুক ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আয়, আমার বড় পেট কামড়াচ্ছে। যেহেতু ঠাকুর বলছেন আর পেট কামড়ানোর যন্ত্রণা পাচ্ছেন—তা থেকে মুক্ত করতে আমরা সবাই চাই। তাই চলে গেলাম, এদিকে ডাক্তারকে সঙ্গে সঙ্গে না পাওয়াতে খুঁজে আনতে বেশ সময় লেগে গেল। সময়টা বয়ে যাওয়াতে অমঙ্গল দূর হল।

‘বলে’— শ্রীশ্রীঠাকুর হঠাৎই বললেন, বসতে। কিন্তু আমি তো বসতে পারব না, একটা জরুরী কাজ আছে যেতেই হবে—বললাম। তখনই গলার স্বরটা চড়া করে চোখ বড় বড় করে বললেন, আমি বসতে বলছি বস্‌। শিগগীর করে বস। পরে যাস ইত্যাদি বলে বসালেন। তার চোখ-মুখ ও গলার স্বর শুনে বসতেই হল।

‘কৌশলে’— শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—এখুনি ২০৫ টাকা নিয়ে আয়। এখুনি দরকার। অর্ঘ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশ দেরী হয়ে গেল। দূর শালা! দেরী হয়ে গেল। এখন আর দরকার নেই। কাছেই রাখ, যখন দরকার হবে চেয়ে নেব’খন। এই ভাবে মঙ্গলদাতা প্রতি প্রত্যেকের মঙ্গল করেন।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব সতীশদাকে জিজ্ঞাসা করলেন—কি, বোঝা যাচ্ছে?

সতীশদা—আজ্ঞে হ্যাঁ।

[তাঁর সান্নিধ্যে/তাং-১৫/৪/৭৪ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৪৬]

[গুরু বিষয়ক সত্যানুসরণের অন্যান্য বাণী দেখুন]