যে-খেয়াল বিবেকের… হবে। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

যে-খেয়াল বিবেকের অনুচর, তারই অনুসরণ কর, মঙ্গলের অধিকারী হবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

পাঠের পর শ্রীশ্রীপিতৃদেব রাণীকে বাণীটির অর্থ জিজ্ঞাসা করলেন। রাণীর বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার হ’ল না। তাই সুন্দরীকে জিজ্ঞাসা করলেন—বিবেকের অনুচর বলতে কি বোঝ বল দেখি।

নীরদাসুন্দরী—নাটমণ্ডপে বসে অনেক ছেলে-মেয়ে কুল খেয়ে কুলের বীচি তোষকের নীচে ভরে দেয়। বুঝছে ফেলা উচিত নয়। এখানে যদি তা’ না ফেলত তাহলে বিবেকের অনুচরের কাজ করত।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—বিবেক মানে?

নীরদাসুন্দরী—সুবুদ্ধি।

নীরদাসুন্দরীর উত্তর শুনে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বিশেষ প্রীত হলেন; অন্যান্য মেয়েদের পানে তাকিয়ে বললেন—তোমরা কেউ পারলে না কেন? এই বাচ্চা মেয়েটা (৮ বা ৯ বছর) ব’লে দিল।

এরপর বাণীর আলোচনার প্রসঙ্গ ধরে তিনি বললেন—সুবুদ্ধির যে খেয়াল তার কথা যদি শুনত তাহ’লে বিবেকের অনুচর হ’য়ে কাজ করা হ’ত। খেয়াল মানে কী—ঝোঁক। তোমার খেয়াল চেপেছে, তাই কাশ্মীর ঘুরে এলে, অনেক টাকা-পয়সা নষ্ট করলে। ফিরে এসে দেখলে ছেলেপুলেরা খেতে পায় না। বিবেকের অনুসরণ করে যে খেয়াল তার অনুসরণ না ক’রে এই অবস্থা হয়েছে।

প্রশ্ন তুললেন সতীশদা (পাল)—ঠাকুরকে ফুল দেবে তাই অন্যের বাগান থেকে ফুল চুরি ক’রে নিয়ে আসা—এটা সুবুদ্ধি, না কুবুদ্ধি?

শ্রীশ্রীপিতৃদেব এই প্রশ্নের উত্তর নীরদাসুন্দরীকে দিতে বললেন।

নীরদাসুন্দরী—আজ্ঞে—কুবুদ্ধি।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আর সুবুদ্ধি হ’ত, যদি বাগানের মালিকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আনত। যাতে নিজেরও খারাপ হয়, অপরেরও খারাপ হয় তা-ই কুবুদ্ধি। যে খেয়াল বিবেকের অনুচর, অর্থাৎ যে খেয়াল সুবুদ্ধির অনুসরণ করে, আমাদের তারই অনুসরণ করা উচিত।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-১৯/২/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১০৭]