যে যতটুকু ..দান করে। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীদু’টি হলো:

যে যতটুকু জানে, সে ততটুকু বেদবিৎ।
জ্ঞান ধাঁধাকে ধ্বংস ক’রে মানুষকে প্রকৃত চক্ষু দান করে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব দীপ সিং-কে আলোচনা করতে বললেন।

দীপ সিং—ঠাকুরকে যে যতটুকু জানে সে ততটুকু বেদবিৎ—ঠাকুরকে জানলেই মানুষের জ্ঞান হয়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব ননীদার দিকে তাকিয়ে বললেন,—তার মানে ও বলছে, ঈশ্বরকে যে যতটুক জানে সে ততটুকু বেদবিৎ।… (দীপ সিং-এর দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে) ঠাকুর কী?

দীপ সিং—ঠাকুর ঈশ্বর, ভগবান। ঠাকুরকে জানলে সব জানা হয়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ঠাকুরকে জানলে সব জানা হবে কেন?

দীপ সিং—ঠাকুরই সব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ঈশ্বর মানে অধিপতি। এই জগৎ তাঁরই সৃষ্টি। সমস্ত সৃষ্টির ওপর তাঁর আধিপত্য আছে। সেই ঈশ্বরকে যে যতটুকু জানে ততটুকু তার জানা হয়। জ্ঞান মানে কী? —দীপ্তি বল।

দীপ্তি—জ্ঞান মানে জানা।

—ধাঁধা মানে?

—সন্দেহ।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ধর, ঠাকুরবাড়ী আসছ, ভাবছ এপথে যাব, না ওপথে যাব; দূরে একটা প্রাণী দৌড়ে যাচ্ছে, ভাবছ ওটা কুকুর না শেয়াল; কিংবা রাস্তায় কী একটা প’ড়ে রয়েছে, ওটা সাপ না দড়ি বুঝতে পারছ না। —এগুলো হ’ল ধাঁধা। তারপর কী আছে?

দীপ্তি—জ্ঞান ধাঁধাকে ধ্বংস ক’রে মানুষকে প্রকৃত চক্ষু দান করে।

—অপ্না বল, জ্ঞান ধাঁধাকে ধ্বংস করে কেমন ক’রে?

অপ্না—আমার জ্ঞান হ’লে আমি বুঝতে পারব, তখন ধাঁধা চ’লে যাবে।

—জ্ঞান কী করে? সাপ না দড়ি—এই যে ধাঁধা তা’ দূর করে। ধাঁধা ধ্বংস হ’লে দড়িকে দড়ি ব’লে জানবে, সাপকে সাপ ব’লে জানতে পারবে। ভাল না মন্দ, করা উচিত না অনুচিত বুঝতে পারবে। ‘প্রকৃত চক্ষু দান করে’ মানে কী মিনতি বল।

মিনতি—জ্ঞান ভালটা জানিয়ে দেয়।

মিনতির কথায় সম্মতি জানিয়ে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—তার মানে কোন্‌ রাস্তায় গেলে ঈশ্বরের দিকে যাওয়া যায়, কোন্‌ রাস্তায় গেলে যাওয়া যায় না—এই জিনিসটা জানিয়ে দেয়। আমি যখন জানতে পারি, এই রাস্তাটা ঈশ্বরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তখন আমি তো সেই পথেই যাব। প্রকৃত চক্ষু পেলে এটা জানা সম্ভব হয়। জানতে গেলে অনুরাগ থাকা দরকার—ঈশ্বরের প্রতি টান থাকা দরকার।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব প্রশ্ন তুললেন—বাবা বলছেন স্কুলে যা, মা বলছেন পাঁচফোড়ন আনতে যা—তখন কী ক’রবে?

সকলকে নিরুত্তর দেখে তিনি নিজেই উত্তর দেন—বাবার ওপর টান থাকলে, তখন বই বগলে নিয়ে পাঁচটা পয়সা পকেটে রেখে দোকান থেকে পাঁচফোড়ন কিনে এনে মা-কে দিয়ে স্কুলে চ’লে যাবে।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-২৯/৭/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৩১ – ২৩২]