সংকীর্ণতার নিকটে ….. শান্তি।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

সংকীর্ণতার নিকটে গেলে মন সংকীর্ণ হ’য়ে পড়ে এবং বিস্তৃতির নিকটে গেলে মন বিস্তৃতি লাভ করে ; তেমনি ভক্তের নিকটে গেলে মন উদার হয় ; আর, যত উদারতা ততই শান্তি।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

সূচিত্রা—সংকীর্ণ মানে ছোট।

শ্রীশ্রীবড়দা—ছোট মানে কি বুঝিয়ে দে—উদাহরণ দিয়ে।

সুচিত্রা—যদি একজন কারও নিন্দা করে বা আত্মস্বার্থের কথা বলে।

শ্রীশ্রীবড়দা—নিজের কথা বলে যে সে সংকীর্ণ কিসে?

সুচিত্রা—তার কাছে গেলে মন ছোট হয়ে আসে।

শ্রীশ্রীবড়দা—ছোট হল কেমন করে?

সুচিত্রা—অহঙ্কার থেকে।

শ্রীশ্রীবড়দা—অহং তো সবারই আছে।

শিখা—ঠাকুরের কথা বলা উচিত।

শ্রীশ্রীবড়দা—তাতে কি হবে?

শিখা—বাঁচাবাড়া হবে।

শ্রীশ্রীবড়দা—ঠাকুরের কথাই ভাল লাগবে কেন?

শিখা—কারণ ঠাকুর সবাইকে ভালবাসেন।

শ্রীশ্রীবড়দা—ঠাকুরের কথা বলি, যাজন করি তাতে কি সবারই ভাল লাগে?

সবিতা—ঠাকুরের কথা ভালই তো।

শ্রীশ্রীবড়দা—তাতে বোঝা যাচ্ছে তিনি মঙ্গল। ঠাকুরের কথা বলতে সব্বার কাছে ভাল লাগবে।

সবিতা—তিনি মঙ্গলময়।

শ্রীশ্রীবড়দা—তাতে আমার বা তোমার লাভ হবে কি? আত্মেকেন্দ্রিক যে নিজের সুখ সুবিধার কথা বলে। আত্মস্বার্থের কথা বলে, তা ভাল লাগে না।

শ্যামাপদ—মনের দুটো গতি। একটা নিম্ন, একটা উর্দ্ধ।

শ্রীশ্রীবড়দা—ছোট মন হল কেন?

শ্যামাপদ—তাদের কোন আদর্শ ধরা নেই, ইষ্ট নেই।

শ্রীশ্রীবড়দা—ইষ্ট ধরলে কি হয়?

শ্যামাপদ—আগে আদর্শ ধরে ছিলাম না। এখন ধরে উপলব্ধি করতে পারছি, মন বিস্তৃতির দিকে যাচ্ছে।

শ্রীশ্রীবড়দা—আমরা পাঁচজনে বুঝতে চাই।

শ্যামাপদ—আমি বিস্তৃতির দিকে যদি যাই, সেটা আমার আচার ব্যবহারে ফুটে বেরোবে।

শ্রীশ্রীবড়দা—সেটা ঠিক, সকলেই একটা বিস্তৃতির দিকে যাবেই। কেউ অন্যকে মেরে বড় হতে চায়, কেউ ভালবাসা দিয়ে বড় হতে চায়। ভক্ত ইষ্টকেই ভালবাসে; তার ইষ্টকেন্দ্রিক ভালবাসা। যে ইষ্টকে যত বেশি ভালবাসে তার বিস্তৃতিও তত। নদীর কাছে গেলে এপার ওপার দেখা যায়। আবার সমুদ্রের কাছে গেলে বিস্তার বেশি, পাড় দেখা যায় না। সংকীর্ণ ব্যক্তির কাছে গেলে সে নিজের ছেলেমেয়ের কথাই বলে। আবার বিস্তৃতির নিকট গেলে দেখা যায় সে সবাইকে ভালবাসে, সবাইকে নিয়েই ব্যস্ত এবং অন্যের কথাই বলে। উদার মানে বিস্তৃত—মঙ্গল। ভক্তের কাছে গেলে দেখি তার আচার আচরণ সবই সেই বিস্তারকে নিয়ে।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-২৭/১০/৭৮ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২১৯-২২০]