সদ্‌গুরুর আদেশ …. আছে?-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

সদ্‌গুরুর আদেশ পালনের মত আর মন্ত্র কী আছে?

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব দীপদ্যোতককে আলোচনা করতে বললেন।

দীপদ্যোতক—সদগুরুর মানে ইষ্টের। আদেশ মানে গুরু যা’ বলেন। মন্ত্র মানে—।

দীপদ্যোতককে চুপ থাকতে দেখে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—যা’ মনন করলে ত্রাণ পাওয়া যায়, মন শান্ত হয়, দুঃখ-কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় তা-ই মন্ত্র। আর তৃষ্ণা মানে? প্রীতম বল।

প্রীতম—পিপাসা।

—তোমার তৃষ্ণা পায়?

—হ্যাঁ।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব এবার দীপদ্যোতককে জিজ্ঞাসা করলেন—যদি বলি জলের মত তৃষ্ণা নিবারক আর কী আছে, তাহ’লে কী বোঝা যায়?

অনেক বিলম্বে দীপদ্যোতক উত্তর দেয়—জলের মত তৃষ্ণা নিবারক আর নাই।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ, আর নাই বোঝা যায়। তাহ’লে সদগুরুর আদেশ পালনের মত আর মন্ত্র কী আছে বললে কী বোঝা যাবে?

দীপদ্যোতক—সদগুরুর আদেশ পালনের মত মন্ত্র আর নাই।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ, মন্ত্র অনেক থাকতে পারে, মনকে শান্ত করার ঢের উপায় থাকতে পারে, কিন্তু সদগুরুর আদেশ পালনের মত আর কিছুই নেই। তরল পদার্থ অনেক আছে—সমুদ্রের জল, ডাবের জল, দুধ, ঘি, আরো কত কি! কিন্তু সমুদ্রের জলে তৃষ্ণা নিবারিত হয় না, ডাবের জল খেলে একটু পরেই তৃষ্ণা পাবে, দুধ খেলেও তৃষ্ণা মেটে না। (একটু থেমে) তরল পদার্থ মানে কী, দীপদ্যোতক?

দীপদ্যোতক—তরল পদার্থ মানে তরল জিনিস।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সবটা গুছায়ে বল।

দীপদ্যোতককে নিরুত্তর দেখে তিনি বললেন—দুধ, ঘি, তেল—সবই তরল পদার্থ। এরকম অনেক তরল পদার্থ থাকলেও তৃষ্ণা নিবারণের ক্ষেত্রে জলের মত আর কিছু নাই। তেমনি মন্ত্র অনেক আছে, কিন্তু সদগুরুর আদেশ পালন করলে মন যেরকম শান্ত হয়, অন্য কোন জিনিসে তা’ হয় না।

সতীশদা (পাল)—ঠাকুরের একটা ছড়া আছে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—কী ছড়া, বল্‌ না!

সতীশদা—“মন্ত্র কারে কয়?
যে তুক্‌ ধ'রে সয়ে বয়ে
হয় জীবনে জয়।”

শ্রীশ্রীপিতৃদেবের আদেশে দীপদ্যোতক ছড়াটি বলল।

সোহাগভরে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—আমি বলব, “মন্ত্র কারে কয়?” আর তুমি সাথে-সাথে বলবে “যে তুক্‌ ধ’রে সয়ে বয়ে হয় জীবনে জয়।”

এইমত তিনি “মন্ত্র কারে কয়?” বলার সাথে-সাথে দীপদ্যোতক আবৃত্তি করল পরের অংশটি।

এরপর তিনি বাণীটি প্রীতম, স্বস্তিরঞ্জন, নমোদীপ্তি, মুন্নি ও জয়ন্তীকে বলতে বললেন। তারা প্রত্যেকেই একবার ক’রে আবৃত্তি করল।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব (দীপদ্যোতককে)—মুখস্থ হয়েছে নাকি? ঠিকমত মুখস্থ হওয়া চাই। কখন ধরব ঠিক নাই, যখন-তখন ধরব।

সতীশদা—আজ্ঞে, একটা পয়েন্ট বাদ প’ড়ে গেছে। সদগুরু বলতে কী বুঝব?

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—বল্‌ না! প্রীতম বল।

কেউ কিছু বলছে না দেখে তিনি বললেন—জন্মজন্মান্তরের তপস্যায় যিনি ইষ্টকে সর্বান্তঃকরণে ভালবাসতে পেরেছেন, যাঁর ভিতর দিয়ে স্বতঃই জীবজগতের কল্যাণ সাধিত হয়, সহজভাবে তাঁকেই সদগুরু বলা হয়।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-২১/৮/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৪৪ – ২৪৫]