সন্দেহ থেকেই…জড়ত্ব। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

সন্দেহ থেকেই অবিশ্বাস আসে ; আর, অবিশ্বাসই জড়ত্ব।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

পাঠের পর শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—সন্দেহ, অবিশ্বাস আর জড়ত্ব এই তিনটা জিনিস নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সন্দেহ কী? অবিশ্বাস কী? আর জড়ত্ব কী? বিজন আলোচনা কর।

বিজন—একজন বলল, ঠাকুর ভগবান; তাঁর পথে চললে লাভ হয়। কিন্তু আমার সন্দেহ—সত্যিই ঠাকুর ভগবান কি-না। তাই ঠাকুর যত ভাল কথা বলেছেন, সেসব শুনেও আমার কোন লাভ হল না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ঠিকই বলছ, কিন্তু আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারলাম না। শ্রীশ্রীপিতৃদেব নিজেই উদাহরণ দিলেন।

—সংসারী জীব আমরা। ছেলেমেয়ে সবাইকে নিয়ে থাকি। ছেলে, মেয়ে, বাবা, মা সবারই কর্তব্য আছে। প্রত্যেকের কাজ আছে সংসারের নানান দিকে। বাবা ছেলেকে সন্দেহ করে—বেশি খরচ করে ফেলছে। কোন ক্ষেত্রে ছেলে হয়ত প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খরচ করেও ফেলে। ছেলে যা’ করে না, তাও সে মনে করে। এইভাবে সন্দেহ স্ত্রীর ওপরও এসে পড়ে, যখন স্ত্রী ছেলেকে সমর্থন করে। সন্দেহের range বাড়তে থাকে। ছেলেকে হয়ত সামনাসামনি বলেই দিল সন্দেহাত্মক কিছু কথা। অবিশ্বাস করতে থাকে। তা থেকে অজ্ঞানতা এসে পড়ে। জড় বস্তুর যেমন চৈতন্য কম—বোধ নেই, কিছু বুঝতে পারে না, চলতে ফিরতে পারে না, দেখতে পায় না। অবিশ্বাসের ফলে সেরকম হয়। কারো কাছ থেকে নিতে পারে না। অবিশ্বাসের দরুন পরমপিতাকেও বিশ্বাস করতে পারে না। ছেলেপেলে কাউকেই বিশ্বাস করতে পারে না। অবিশ্বাস করার ফলে সংসারে ঘোর অশান্তি লেগে থাকে। তা থেকে অবিশ্বাসী জড়ত্বপ্রাপ্ত হয়ে যায়। পরমপিতাকেও বিশ্বাস করতে পারে না।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-১১/৮/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৩৮]