সাধু সেজো না, সাধু হ’তে চেষ্টা ক’র।

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

সাধু সেজো না, সাধু হ’তে চেষ্টা ক’র।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব হরিপদদাকে আলোচনা করতে বললেন।

হরিপদদা—সাধু কথাটা এসেছে সাধ্‌ ধাতু থেকে অর্থাৎ নিষ্পন্ন করা। প্রবৃত্তিমার্গী চলন ত্যাগ করে, ইষ্টমুখী হয়ে চলা। প্রবৃত্তি মাফিক না চলে, ইষ্টের নির্দ্দেশ মত চল্লে প্রকৃত মানুষ হওয়া যায়। যে সব সৎগুণ থাকলে ইষ্টের সেবা করা যায়, ইষ্টের পথে অকপট ভাবে চলা যায়; সেই চলাকে বলা হয় সাধু। হয়তো, ধুতি-পাঞ্জাবী ও চাদর পরিহিত এক দাদা দেখতে খুবই সুন্দর । তিনি মুখে ঠাকুর ঠাকুর করেন। অথচ তিরিশ দিনের দিন ইষ্টভৃতি পাঠান না। পাঠান, তবে নিয়ম মত নয়। মুখে যা বলেন তা চরিত্রে নেই। কথায় কাজে মিল নেই অথচ মুখে ঠাকুর এই বলেছেন, এমন হতে বলেছেন, ইত্যাদি লোকসমক্ষে বলে বেড়ান। তার সব কিছুর মধ্যে দেখা যায় আসল চলন নেই, চরিত্র নেই; ভণ্ডামির ভাব। যা করলে মানুষ অকপট ইষ্টনিষ্ঠ হয়ে ওঠে সেই চলনায় প্রতিনিয়ত চলার চেষ্টা, নিয়মিত নামধ্যান, ইষ্ট নির্দেশ পালন এবং যে সব গুণাবলী চরিত্রগত করতে বলেছেন সেইগুলি করে চলা। তাঁর সেবক হতে হবে। তা হতে গেলে যা যা করণীয় তা করে চলা। ঠিক ঠিক চললে সাধু হতে পারে একদিন। পোষাক-পরিচ্ছদ পরে কিংবা বাক্‌ আড়ম্বরের মধ্যে সাধু সাজা যায়, সাধু হওয়া যায় না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—একজন ভাল ফুটবল খেলোয়াড় যখন ভাল খেলে তখন অনেকেই বলে সাধু! সাধু! তার অর্থ যে রকম খেললে ভাল খেলা যায়, সেইসব কায়দা বা নিয়ম করায়ত্ব করে খেলছে; তাই বলছে—সাধু! সাধু!

শ্রীশ্রীপিতৃদেব গুরুকিঙ্করদাকে জিজ্ঞাসা করলেন—কি, বোঝা গেল?

গুরুকিঙ্করদা—আজ্ঞে হ্যাঁ।

[তাঁর সান্নিধ্যে/তাং-২৫/৩/৭৪ ইং]


আজ দাদাদের আলোচনায় শ্যামাপদ সৎপতি বাণীটি পুনরায় পাঠ করে বলল—ঠাকুর সাধু সম্পর্কে বলেছেন—সাধু সেজে বসে থেকো না, প্রকৃত সাধু হও। ঠাকুরের ছড়ায় দেওয়া একটা বাণী আছে—

“সাধু কারে কয়?
নিম্পাদনে সিদ্ধ যারা
চরিত্রে তন্ময়।”

—অর্থাৎ সব কিছু সুন্দরভাবে করতে হবে। মালা-তিলক পরে সাধু সাজলে হবে না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—নিষ্পাদনে সিদ্ধ মানে কি?

—যে কাজই আসুক, করুক—আটকায় না। আটকায় তো না-ই, সুন্দরভাবে সমাপন করে। ঐ ভাবে চেষ্টা করতে হবে। চরিত্রটাকে ঐ ভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে, না সেজে ।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-২০/৮/৭৯ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৩১]