সাবধান! সংকীর্ণতা বা পাপকে ….। ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

সাবধান! সংকীর্ণতা বা পাপকে গোপন রেখো না, উত্তরোত্তর বর্দ্ধিত হ’য়ে অতি সত্বর তোমাকে অধঃপতনের চরমে নিয়ে যাবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

আদেশক্রমে শান্তদীপা আলোচনা শুরু করল।

—যদি পাপ করি, তাহলে তা গোপন রাখব না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—পাপ কাকে বলে?

শান্তদীপা—জীবনবৃদ্ধির অন্তরায় যা, জীবনবৃদ্ধির সহায়ক নয় যা’ তা-ই পাপ। আমি চুরি করলাম, এটা জীবনবৃদ্ধির অন্তরায়—তাই পাপ।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—তাহলে পুণ্য কাকে বলে?

শান্তদীপা—জীবনবৃদ্ধির সহায়ক যা’ তা-ই পুণ্য।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ, জীবনবৃদ্ধির সহায়ক যে কর্ম তাই পুণ্য। তাহলে কী হ’ল—বুঝিয়ে বল।

শান্তদীপার উত্তর পরিষ্কার হচ্ছে না দেখে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—চুরি কেমন ক’রে হয়? ‘পরদ্রব্য না বলিয়া লইলে চুরি করা হয়’। আমি সবার কাছেই শুনেছি কখনো কারো জিনিস না ব’লে নিতে নাই—তাহলে চুরি করা হয়। আমি যদি চুরি করি—একবার দু’বার করতে করতে ঠিকই ধরা পড়ে যাব। তখন সবাই চোর বলবে আমাকে। এর ফলে কেউ আমাকে ভালবাসবে না। তখন আমার জীবনবৃদ্ধি ক্ষুণ্ণ হবে।

আমি চুরি করলাম, বললাম না। সুযোগ পেয়ে আবার চুরি করলাম। এভাবে চুরি করা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেল। উত্তরোত্তর বেড়ে গেল আমার চুরি করার প্রবৃত্তি। একদিন ধরা পড়লাম। তখন আমি মানুষের বিশ্বাস হারালাম। আমাকে তখন আর কেউ ভালবাসবে না। ধরা পড়ার পর হয়তো আমার জেল হ’ল, একদিন ছাড়াও পেলাম। তখন চোরের সঙ্গে যে ব্যবহার, আমার সঙ্গেও সবাই সেই ব্যবহারই করবে।

এবার তিনি শান্তদীপাকে প্রশ্ন করলেন—ঠাকুরের বাণী যে আমরা পড়ি, কিজন্য পড়ি?

শান্তদীপা—তা’ আমাদের চরিত্রগত করার জন্য।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ। তা’ চরিত্রগত করতে হবে। তা’ যদি না করি তাহলে পাপ হবে। জীবনবৃদ্ধির অন্তরায় হবে। ফলে অধঃপতনের চরমে যেতে হবে।

আমরা সবাই সৎসঙ্গী। ঠাকুর আমাদের আদর্শ। সেজন্য তার বাণী আমাদের মেনে চলা দরকার। তোমরা সবাই মেনে চল তো?

শান্তদীপা, তীর্য প্রভৃতি সবাই ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাল।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আমাদের সবারই ঠাকুরের বাণীগুলো মুখস্থ রাখতে হবে। শুধু মুখস্থ নয়। মুখস্থ রেখে মেনে চলতে হবে।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তারিখ-১৫/০৬/১৯৭৭ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৬৬-১৬৭]