স্থিরপ্রতিজ্ঞ হও, … না। -ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ -এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

স্থিরপ্রতিজ্ঞ হও, গোঁয়ার হ’য়ো না। 

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

প্রশ্ন তুললেন সতীশদা—কেমন হলে স্থিরপ্রতিজ্ঞ হওয়া যায়, আর কেমন হ’লে গোঁয়ার হয়?

শ্রীশ্রীপিতৃদেব বাণীটি রানীকে (মুখার্জী) আলোচনা করতে বললেন।

রানী—আমি স্থির করেছি, এই কাজটা করবই, গুরুজনেরা নিষেধ করছে, তাও করছি।—এরকম হ’লে তাকে গোঁয়ার বলে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আমি স্থির করেছি করবই, তা করলাম। তাহ’লে তো স্থির প্রতিজ্ঞ হ’লাম। গোঁয়ার হলাম কেমন ক’রে?

রানী—গুরুজনের আদেশ মেনে চলা দরকার। যদি কাজটা ভাল হয় তাহ’লে করব। খারাপ হ’লে করবনা।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ভাল কাজই তো করব। খারাপ কাজ করতে যাব কেন?

রানী নিরুত্তর থাকায় শ্রীশ্রীপিতৃদেব এবার প্রতিভাকে (প্রধান) আলোচনা করতে বললেন।

প্রতিভা অন্য উদাহরণ দিয়ে আলোচনা করছিল। শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—রানীর উদাহরণ দিয়েই বল। যেমন, এখন তো শীতের সময়। খুব শীত করছে। তুমি কল থেকে জল আনতে যাচ্ছ বালতি নিয়ে। তোমার মা তোমায় বলছে—জল আনতে হবে না, ঠাণ্ডা লাগবে, টনসিল বেড়ে যাবে। অথচ বাড়িতে জলও নেই, আনাও দরকার। সেখানে তুমি কী করবে?

প্রতিভা—এখানে মা-র কথা না শুনে আমি নিয়ে আসবই। মা-র কথা শোনা চলবে না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—কেন শোনা চলবে না?

প্রতিভা—মা-র কষ্ট হবে, মা যদি জল নিয়ে আসে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—তুমি মা-র কথা না শুনে জল নিয়ে এলে। তাহ’লে তো স্থির প্রতিজ্ঞ, গোঁয়ার দুইই হলে। স্বপ্না বল।

স্বপ্না—মা যদি আনতে নিষেধ করে তাহলে আনব না। মা যদি আনতে বলে তাহলেই আনব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—তাহ’লে তো স্থির প্রতিজ্ঞ হ’লে না। তখন কী বলতে হবে জান? তখন মাকে বলবে—আমার কিচ্ছু হবে না মা, তোমার আশীর্বাদে আমার কিছুই হবে না; ঠাণ্ডা না লাগে সেইমত ভাল ক’রে জামাকাপড় পরে নিয়েছি। সকালবেলা মা-কে প্রণাম ক’রে গায়ে ঢাকাঢাকি দিয়ে চলে যাবে জল আনতে।

স্থিরপ্রতিজ্ঞের মধ্যে আছে যুক্তি ও বিচার। আর গোঁয়ার হচ্ছে যুক্তি-বিচার-বিবর্জিত।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-২৪/১/৭৬ ইং]

কৃতিদ্যুতি বিশ্বাস আলোচনায় বলে—ঠাকুর বলছেন—দৃঢ় সংকল্প হও।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—কিসে দৃঢ় সংকল্প?

কৃতিদ্যুতি—কোন সৎ কাজ করতে গেলে দৃঢ় সংকল্প হতে হবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—গোঁয়ার মানে কি?

কৃতিদ্যুতি—ভালই হোক, মন্দই হোক—কাজটা করলাম। ভাল-মন্দ বিবেচনা করলাম না।

গুরুকিংকরদা (পাণ্ডে)—স্থির-প্রতিজ্ঞ হলে, সৎ কাজ হলে চেষ্টা করবেই। আর গোঁয়ার হলে পরেও করবেই, সে ভালই হোক, মন্দই হোক।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ। গোঁয়ার ভাল-মন্দ কোন কিছু বিবেচনাই করে না।

[ পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-২৮/৬/৭৯ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৮২, ৮৩]