স্বার্থবুদ্ধির আত্মতুষ্টির …অনাসক্ত। -ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

স্বার্থবুদ্ধির আত্মতুষ্টির অভিপ্রায়ই লোভ ; আর, এই লোভই আসক্তি। যে নির্লোভ সেই অনাসক্ত।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব দ্যুতিপ্রভাকে (চক্রবর্তী) আলোচনা করতে আদেশ করলেন।

দ্যুতিপ্রভা—নিজের স্বার্থ নিয়েই থাকে। নিজের স্বার্থকেই বড় ভাবে। নিজের স্বার্থসিদ্ধ হলে তুষ্ট থাকে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—এরকম লোককে কী বলা যাবে?

দ্যুতিপ্রভা—স্বার্থপর বা লোভী।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—অভিপ্রায় মানে কী?

দ্যুতিপ্রভা—ইচ্ছা।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—স্বার্থবুদ্ধির আত্মতুষ্টির অভিপ্রায় বা ইচ্ছাই হল লোভ। আসক্তি মানে?

দ্যুতিপ্রভা—টান।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—স্বার্থবুদ্ধির আত্মতুষ্টির অভিপ্রায় নেই যার সেই অনাসক্ত । যার স্বার্থবুদ্ধির আত্মতুষ্টির অভিপ্রায় নেই সে চাইবে ইষ্টের জন্য, অন্যের জন্য। অন্যের সুবিধা করে দেয়। নিজের সুবিধা না দেখে অপরের সুবিধা দেখে। এরকম লোককে সবাই পছন্দ করে, দেখে সবাই আনন্দ পায়। অন্যের ব্যথায় ব্যথিত হয়, অন্যের জ্বালা-যন্ত্রণায় নিজের জ্বালা অনুভব করে। অপরের দুঃখ, জ্বালা নিরাকরণ যাতে হয় সেজন্য চেষ্টাও করে। সেজন্য লোকে তাকে দেখে ভরসা পায়।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-১৪/৮/৭৬ ইং]


শ্যামাপদদা—স্বার্থবুদ্ধি মানে নিজের ভুঁড়িটা কি করে মোটা করা যায়, বাড়ানো যায় কি করে।

শ্রীশ্রীবড়দা—ভুঁড়ি কথাটা কেন? আত্মতুষ্টি কেমন সেটা বল? ভুঁড়ি অনেকের বড় আছে। অনেক সাধু আছেন, ভুঁড়ি বড়।

শ্যামাপদদা—এখানে কেউ নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে, আবার কেউ শুধু নিজের স্বার্থটাই দেখে। এই লোভটাই আসক্তি।

শ্রীশ্রীবড়দা—ঠাকুরের দীক্ষা নিলে কাটবে না? ঠিক বলছিস লোভই আসক্তি। নিজে খাব পরব কেমন ক’রে সেইটাই লোভ। যে নিঃস্বার্থ সে অপরের জন্য ক’রে তৃপ্তি পায়। বাবা মার জন্য ক’রে তৃপ্তি পায়। কোন ভাল কিছু খেলে বা দেখলে বাবা মার কথা মনে পড়ে।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-৭/১২/৭৮ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৪০]