অসৎ কথা বলার …. না। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

”অসৎ কথা বলার চেয়ে সৎ কথা বলা ভাল নিশ্চয়, কিন্তু বলার সঙ্গে কাজ করা ও অনুভব না থাকলে কী হ’লো—বেহালা, বীণা যেমন বাদকানুগ্রহে বাজে ভাল, কিন্তু তারা নিজে কিছু অনুভব ক’রতে পারে না।”

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব মিনতিকে জিজ্ঞাসা করলেন—সৎ কথা কাকে বলে, অসৎ কথাই বা কাকে বলে?

মিনতি—যে কথায় লোকের ভাল হয় তা-ই সৎ, যে-কথায় লোকের খারাপ হয় তা’ অসৎ।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ভাল হচ্ছে যার কথায়, তার কী হবে?

মিনতি—তারও ভাল হবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—একটা উদাহরণ দাও।

মিনতি—একজন লোক সম্বন্ধে আমি আরেকজনকে বললাম—লোকটা ভাল।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—কী দেখে বললে লোকটা ভাল?

মিনতি—সে লোকটি ভাল কথা বলে, রোজ ঠাকুর-বাড়ি আসে—দু’বেলা বিনতি প্রার্থনা করে। যাজন করে।

শ্ৰীশ্রীপিতৃদেব—বল, লোকটার ইষ্টের দিকে টান, তাই ভাল।

শ্ৰীশ্রীপিতৃদেব—এবার সুন্দরীকে (সরকার) বললেন—তুমি বল।

সুন্দরী—আমি বন্ধুকে বলব রোজ সকালবেলা উঠে প্রার্থনায় আসবে, ঠাকুরবাড়ি আসবে; আমি নিজেও ভাবব ঠাকুরবাড়ি না এলে খারাপ হবে।

শ্ৰীশ্ৰীপিতৃদেব—ঠিকই বলেছ। সকালে উঠে ঠাকুর-প্রণাম করে বাবাকে-মাকে প্রণাম করতে হয়। এমনও বলা যায়।

হৃষীকেশকে (দে) শ্রীশ্রীপিতৃদেব প্রশ্ন করলেন—“মিথ্যা কথা বলা ভাল না’, এটা সৎ কথা না অসৎ কথা?

হৃষীকেশ—সৎ কথা।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হৃষীকেশকে বললেন—সকালে উঠে চোখে-মুখে জল নিয়ে ঠাকুর প্রণাম করতে হয়, বাবাকে-মাকে প্রণাম করতে হয়, ভক্তি করতে হয়। দু’বেলা প্রার্থনা করতে হয়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব এবার অতসীকে (দিন্ডা ) প্রশ্ন করলেন—বেহালা, বীণা যেমন বাদকানুগ্রহে বাজে ভাল, তার মানে বুঝিয়ে বল।

অতসীকে নিরুত্তর দেখে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—বেহালা বা বীণা নিজে বাজতে পারে না; ভাল বাদক থাকলে ভাল বাজে, বাদক না থাকলে নিজে-নিজে বাজে না। তেমনি তুমি যদি ভাল-ভাল কথা মুখস্থ রেখে অন্যের কাছে বলে বেড়াও এবং নিজে পরিপালন না কর তাহলে বেহালা বা বীণার মত হবে। সেইজন্য ভালকথা বা সৎকথা তোমাকে অনুভব করতে হবে, হৃদয়ঙ্গম করতে হবে—চরিত্রগত করতে হবে।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-১৫/২/৭৬ ইং]