সাধনা নিয়ে অনুশ্রুতি ২য় (১-৬০)

অনুশ্রুতির ২য় খন্ডে “সাধনা” শিরোনামে পৃষ্ঠা ৪৯ – ৭১ পর্যন্ত মোট ১১৯ টি বাণী রয়েছে ।
নিচে ১ – ৬০ নং বাণীসমূহ দেয়া হলো ।

অনুরাগে করলে নাম 
আপনিই আসে প্রাণায়াম । ১ ।
অনুরাগ যদি নাই থাকে তোর
হিতী বুদ্ধি নিয়ে,
ধ্যান-ধারণা লাখ করিস্ না
ছাই ঢালা তোর ঘিয়ে । ২।
নাম আর ধ্যানে উচ্চ চিন্তা
করণ-কারণ যেমন,
জীব-জীবনের গতিমুক্তি
হওয়া-পাওয়াও তেমন । ৩।
নাম-নিরতি ভাঙ্গলো যেই
বাড়লো মনের ডাঙ্গবাজি,
বৃত্তিরোচক যা' পেল তা'য়
অমনি সোজা হ'ল রাজী । ৪।
সৃষ্টিধারা উল্টে নিয়ে 
স্বামীর সাথে মিল ক'রে,
অর্থ ভেবে ঐ জ'পে যা'
সদগুরুতে ধ্যান ধ'রে । ৫।
নামীর প্রতি আনতি রেখে
করিস্ নাম তুই মনে-মনে
সঙ্গে-সঙ্গে করিস্ চিন্তা—
নামীর যা' সব আছে গুণে । ৬।
নামীর গুণকে চিন্তা-চলায়
অনুশীলনে ফুটিয়ে তুলিস্,
তোর স্বভাবে নামীর যা' গুণ
উৎসর্জ্জনায় জাগিয়ে রাখিস্;
সিদ্ধ হ'বি অমনি ক'রে
মত্ত কৃতি-ভক্তি-ভাবে
চিন্তা-চলায় অধিষ্ঠানে—
যা'তে সে-সব নিটোল র'বে । ৭।
নামের ধুয়োয় শুধু যদি
অবিশ্রান্ত করিস্ নাম,
নামীর মহিমা বরবাদ ক'রে,—
পুরবে কি তোর তাপস-কাম ? ৮।
নাম কর
আর মনন কর
ইষ্টের যত গুণাবলী,
ভাবে-কাজে মকস কর—
গুণে-জ্ঞানে হবে বলী । ৯।
নামের মতো নাইকো জিনিস,
শিষ্টাচারে করলে নাম,
নাম ও নামী আর গুণব্যঞ্জনা
সাধলে সিদ্ধি হয় না বাম । ১০।
নাম করলেই হয় নাকো সব
নতি-প্রণিধান না থাকে যদি,
প্রণিধানই নিষ্ঠা জাগায়
প্রণতি কাজে দেয় সঙ্গতি । ১১।
দীক্ষা তবে কেমন ?
অনুশীলনে প্রাজ্ঞ হ'য়ে
দক্ষতা যেমন । ১২।
আচার্য্যনিষ্ঠ কে ?
স্বর্গ-নরক তুচ্ছ ক'রে
সেবাপটু যে । ১৩।
যোগের ভূমি কী ?
ইষ্টনিষ্ঠায় এমনি নিনড়—
ব্রহ্মত্বটা হাতে দিলেও
তা'কেও বলে ছি । ১৪।
দীক্ষা সেধে দক্ষ হ' তুই
দীর্ণ যা' সব দূর ক'রে
ধৃতি সেধে সত্তাটাকে
স্বস্তি পথে রাখ্ ধ'রে । ১৫।
কৃতিস্রোতা নদীর মতন
তরতরে হ'য়ে চল্ ওরে।
তরতরানি সবে ঢুকে
ঊর্জ্জে' উঠুক সব ধীরে । ১৬।
সন্দেহ যা' ভাসিয়ে দিয়ে
গুরুর কাছে আয়
নিদেশ-পালন চর্য্যা-সেবায়,
উছল কর তাঁয় । ১৭।
যুক্ত হোস্ তুই গুরুর সাথে
তপঃক্রিয়-চৰ্য্যা নিয়ে,
সেই যোগেতে সার্থকতায়
উঠিস্ স্বতঃসিদ্ধ হ'য়ে। ১৮।
যোগ মানেই তো ইষ্টেতে যোগ
ধ্যান মানে তাঁর নিদেশ ধ্যান,
নিদেশগুলির কৃতিচর্য্যায়
নিষ্পাদনে আসেই জ্ঞান । ১৯।
যোগ মানেই তো ইষ্টেতে যোগ
নিদেশপালী কৃতিদীপনায়,
নিদেশ-অনুশীলন সার্থকতায়
যেমন যোগে বোধ জন্মায় । ২০।
বুদ্ধ হয় তো যোগ-তপনায়
সুবিন্যাসী কৃতির জ্ঞানে,
যা'র ফলে সে হয় ফলবান্
সার্থকতায় বোধির দানে । ২১।
ব্যক্তিত্বটা অভিষিক্ত
প্রীতি-যোগেই হয়,
ইষ্টচলন-নিষ্ঠা আনে
ভর-জীবনে জয় । ২২।
কর্মযোগী না হ'লে তুই
জ্ঞানযোগ তোর র'বে কোথায়?
জ্ঞান-বিজ্ঞান কর্ম্মেরই দান,
স্বর্গটাকে মর্ত্ত্যে নামায় । ২৩।
সমত্ব দেখাই যোগচর্য্যা
যুক্তি বিনিয়ে ধরতে হয়,
সমত্বটা না জানলে কি
বাস্তবতা দেখা হয় ? ২৪।
সব যোগেরই প্রথম প্রধান
ভক্তিযোগীর সামের গান,
ভজন যা'তে উপচে ওঠে—
কৃতিই আনে যাহার ত্রাণ । ২৫।
দীক্ষা বাড়ায় দক্ষতাকে
নিষ্ঠা যেমন যা'র,
মন্ত্র হ'ল তপস্যার তুক
সাধনা যেমন তা'র । ২৬ ।
নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধি তোমার
একনিষ্ঠ ক'রে তোল,
সঙ্গতিশীল তৎপরতায়
তা'তেই তুমি হও উচ্ছল । ২৭।
বোধ-বিন্যাস সব যা'-কিছুর
নিটোল নিষ্ঠায় বিনিয়ে নিস্,
যেথায় যেমন করতে হবে
সেথায়ও তুই তেমনি করিস্ । ২৮।
অনুচলন আর অনুসেবনে
ভজনদীপ্ত নিষ্ঠা যা'র,
প্রাণন-বিকাশ ইষ্টমুখী
বুঝে রাখিস্ নেহাত তা'র । ২৯।
ইষ্টে যা'দের জীবন ন্যস্ত
চর্য্যা-বিশাল বুকটি নিয়ে,
সন্ন্যাসী যে সেই রে আসল
জ্ঞানকে সাধে মত্ত হ'য়ে । ৩০।
ইষ্টনিদেশ চলার সময়
তোলাপাড়া মনে করিস্,
সুবিধা পেলে যেটা যখন
তখন কাজে মূর্ত্ত করিস্ । ৩১।
বিদ্যমানতায় সমীচীন নেয়
কর্ম্মে ভাবে বুঝে-সুঝে—
সন্ন্যাসী তো সেই রে আসল,
রাখে না জ্ঞান ফাঁকায় বুঝে । ৩২।
অদল-বদল হো'ক্ না যত 
ইষ্টে অটুট থাকবি নেহাত,
ইষ্টনিষ্ঠায় ধরলে ভাঙ্গন
তুই যে হ'বি তোরই বেহাত । ৩৩।
ইষ্টনেশার প্রদীপ জ্বালি'
জীবনটাতে রেখে আলো,
ধী-চক্ষুতে দেখে-শুনে
শুভ যা' হয় তা'তে চ'লো । ৩৪।
বৃদ্ধ হ'য়েও থাকবি যুবা
অটুট থেকে জীবন নিয়ে,
অনন্তেরই সলিল বেয়ে
জীবন-সুধা সবে বিলিয়ে । ৩৫।
জীবনটা তো কোলাহলই
হলাহল তো পেছন ধায়,
কুড়িয়ে নে তুই অমর চলন
চল্ ভেসে চল মলয় বায় । ৩৬ ।
স্তবস্তুতি ও গুণকীর্ত্তন
যেমনই যাঁ'র করিস,
হাতে-কলমে অভ্যাস ক'রে
সেগুলিকে তুই ধরিস্;
বুঝে-সুঝে ধীইয়ে নিয়ে
তেমনি ক'রে চলতে থাক,
খোঁজ-খবরে উদ্যম নিয়ে
নিষ্পন্নতায় অটুট রাখ । ৩৭।
হাতে-কলমে অভ্যাস ছাড়া
স্তবস্তুতির কী দাম?
অভ্যাসে না আয়ত্তে হ'লে তা'
পুরে কি মনস্কাম ? ৩৮ ।
জীবন তো চায় জীবনীয় যা'
খরদ্যুতির সোহাগভরে,
এই জীবনকে বেঁধে রাখ তুই
ধৃতিকুশল কৰ্ম্মভোরে । ৩৯।
জীবন তো চায় অমৃত লাভ
পারবি নাকি তা'রে দিতে,
তপশ্চর্য্যায় অমৃত এনে
সত্তা-সলীল সংস্থিতিতে ? ৪০।
একনিষ্ঠ আগ্রহ আর
অনুশীলনী তৎপরতা,
কুশল-কৌশলী অনুচলন
করেই বরণ দক্ষতা । ৪১।
সাধুসঙ্গ পারিস্— করিস্—
ইষ্টনেশা যদি না ভাঙ্গে,
নয়তো কঠোর পাগলা হাওয়ায়
উঠবি গিয়ে কোন্ সে টোঙ্গে। ৪২।
ইষ্টনিষ্ঠায় তেজাল নেশা
যা'র বুকেতেই ফুটে রয়,
বোধ-বিচারে জ্ঞান-দীপনা
হাতে-কলমে তা'রই হয় । ৪৩ ।
অটুট-উছল ইষ্টনিষ্ঠায়
যা'রাই তাঁ'তে সংস্থ রয়,
ইষ্টচর্য্যায় যা সমীচীন
দেখে-বুঝে ক'রেই যায় । ৪৪।
ইষ্টনেশার দড়ি ধ'রে
ডুব দিয়ে চল্ অতল-তলে,
অমর রতন সংগ্রহ কর্
সত্তা দুলুক স্বস্তি-দোলে। ৪৫।
ইষ্ট-আচার্য্য পরম শিক্ষক
জীবনধৃতি সেই তো তোর,
হাবড়-জাবড় কুড়িয়ে কেবল
ভাঙ্গিস্ নে তোর ধৃতির ডোর । ৪৬ ।
নিষ্ঠা, ভক্তি, অনুচর্য্যা,
আলোচনা, দর্শন, জ্ঞান,—
জীবনের তো ঐ ঐশ্বর্য্য,
সম্বর্দ্ধনাই জীবন-ধ্যান । ৪৭।
শ্রদ্ধার আসনে নিষ্ঠা-আলিম্পনে
ইষ্ট স্থাপিত ক'রে,
কৃতি-তপা তুই, নিখুঁত নিবেশে—
হ'য়ে চল্ তাঁ'রে ধ'রে । ৪৮ ।
ইষ্ট তোমার দাঁড়িয়ে আছেন
জীবনভূমির পারে-ওপারে,
আপন ক'রে নে তাঁ'রে তুই
কৰ্ম্ম-আচার-ব্যবহারে । ৪৯।
মূর্ত্তি নিয়ে থাকলে যদি
স্ফূর্ত্ত না হয় হৃদয়-রাগ,
মাটির গড়া সে মুর্ত্তিটি
জাগায় কি তোর জীবন-যাগ ? ৫০।
ইষ্টনিষ্ঠায় আসন বেঁধে
ঊর্জ্জী আবেগ নিয়ে যা'রা,
পূজাবিভোর দীপ্ত পরাণ
সাধুতপা প্রায়ই তা'রা । ৫১।
ইষ্টনিদেশ যা'ই পাও না
দেখে-বুঝে সকল দিক্,
ঐ নিদেশের সাথে মিলিয়ে
ফলিয়ে তুলো কর্ম্মে ঠিক্ । ৫২।
নিষ্ঠাচারে শিষ্ট হ'য়ে
অভ্যস্ত হ'বি যেমনতর,
স্বতঃশিষ্ট প্রতিফলন
হবেও তোমার তেমনতর । ৫৩।
নিষ্ঠা এঁটে বসবে যতই
ভাববৃত্তির দ্যোতন নিয়ে,
ছুটবে আঁধার, পাবি আলোক,
তমসটাকে বিদায় দিয়ে । ৫৪।
সিদ্ধ হওয়া মানেই কিন্তু
সক্রিয়তায় বিদ্ধ হওয়া,
যা'র ফলেতে চরিত্রটা
অভ্যাসেতে যায়ই পাওয়া। ৫৫।
গুণবিভূতি ব্যাপ্ত যাঁহার
প্রীতিভরা দীপন-তেজে,
অনুশীলনে আয়ত্ত ক'রে
সার্থক হ' না তাঁ'রে ভ'জে । ৫৬।
রূপ না দেখে গুণের চিন্তা
হয় কি কোন কালে?
রূপেরই সাথে গুণচিন্তন
ধ্যান তো তা'কেই বলে । ৫৭।
রূপের মাঝে গুণের বিকাশ
গুণের রূপটি সেই,
কৃতিযোগে সেধে নেবার
ও ছাড়া পথ নেই । ৫৮ ।
গুণান্বিত হ' তুই আগে
কৃষ্টিপথে তপাচারে,
সত্তাতে তা' উঠুক জেগে
গুণান্বয়ে তোর আধারে । ৫৯।
ঈশ্বরীয় গুণ যেখানে
বিভূতিতে উথলে ওঠে,
তেমনতরই কৃতি নিয়ে
ঈশ্বরেরই মূর্ত্তি ফোটে । ৬০।