সাধনা নিয়ে অনুশ্রুতি ২য় (৬১-১১৯)

অনুশ্রুতির ২য় খন্ডে “সাধনা” শিরোনামে পৃষ্ঠা ৪৯ – ৭১ পর্যন্ত মোট ১১৯ টি বাণী রয়েছে।
নিচে ৬১ – ১১৯ নং বাণীসমূহ দেয়া হলো।

উদ্বোধনী উম্মাদনায় 
ভক্তি-প্রীতি উথলে উঠে
কথাবার্ত্তা করণ-কারণ—
যা'তে সে-সব থাকে ফুটে । ৬১।
ভাবের ভজন ছাড়লি যখন
অভাব এলো সেইক্ষণে,
মন্ডূরিত কেন্দ্রিকতায়
শান্তি কা'রো রয় মনে ? ৬২।
ভজন আনে অনুশীলন
অনুশীলনে অধিকৃতি,
এমনি ক'রেই সেধে-সুধে
হয়ই সার্থক জীবন-স্থিতি । ৬৩।
দক্ষ-নিপুণ ত্বরিত কর্ম্ম
সমীচীন সুন্দর কৃতি-দীপনা,
নাই যদি হয়, লাখ বিভূতি
সত্ত্বেও হবে তেল-স্রক্ষণা । ৬৪।
ব্যক্তিত্ব তোর কৃতি-নেশায়
উঠলো যেমন মেতে,
কর্ষণ, দর্শন, অনুভূতি
তেমনি উঠলো চেতে । ৬৫।
কোথায় এলি, কোথায় যাবি—
এ সব ভেবে লাভ কী তোর ?
শ্রেয়চর্য্যা চল্ ক'রে তুই
থাকুক জীবন মত্ত-ভোর। ৬৬।
প্রিয়ের চাওয়ায় চল যদি
তাঁ'রই চাওয়ায় বল,
তাঁ'র চাহিদায় কর তুমি
স্বার্থে তাঁ'র অটল;
ভাবে, বোধে, ধরায়, করায়
থেকে অজচ্ছল,
চর্য্যামুখর এমন চলায়
হ'বিই তো উজ্জ্বল;
সব যা'-কিছু তাঁ'রই চাওয়ায়
তাঁ'কে পাওয়াই সব,
এমন চাওয়া-চলায় তোমার
শুভই সম্ভব । ৬৭।
ভগবানের ধার ধারিস কি
চলিস্ কি তাঁ'র চাহিদায়?
ঠ্যাঁসের কথায় সে কি ভোলে?
বাঁচতে হয় তো তাঁ'র কৃপায় । ৬৮।
ভজনপ্রভযুক্ত যে-জন
সেবা-চৰ্য্যা অনুরাগে,
মূর্ত্ত প্রতীক তা'র হৃদয়ে
ভগবান তো নিত্য জাগে । ৬৯।
নিষ্ঠা-সেবার কৃতি-তপে
উন্নতি তোর হবে,
ঐশ্বর্য্য সব বন্দনায় তোর
সজাগ হ'য়ে র'বে । ৭০।
জপ করবি অন্তরে তুই
রাগ-আনতি নিয়ে,
কৃতি-দীপন গুণের স্তবন
ব্যক্তিত্বটির ক'রে স্ফুরণ
সত্তাকে তোর সিদ্ধিপথে
তুলবে উপচিয়ে । ৭১।
ইষ্টপ্রীতিমুগ্ধ যে-জন
সেই তো যোগী বটে,
গুণ-গরিমার চিন্তা-সেবায়
দীপ্ত স্মৃতি ঘটে । ৭২।
মুগ্ধ যোগেই ব্যক্তিত্বটা
ফুটন্ত হ'য়ে ওঠে,
বোধ-কথায় কৃতি-চলায়
ধ্যেয়র দীপ্তি ফোটে । ৭৩।
ঠিক চলিস তুই তেমন তালে
প্রেষ্ঠ যা'তে র'ন খুশি,
তাঁ'র চাহিদায় সব ফেলে দে
কী লাভ হবে বৃত্তি পুষি' ? ৭৪।
পাছটানে যে মুহ্যমান,
চলার পথে নাইকো ত্রাণ। ৭৫।
কথায় অটল, কাজে টলে,
যুক্ত সে নয়, সে টলমলে । ৭৬।
অমরত্ব—স্বাস্থ্য-দীপ্তি
যা'তে সবার জীবন আসে,
তপশ্চর্য্যায় জান তা'কে
অমৃতত্ব যা'র বিকাশে । ৭৭।
তপের পথে চলবি না তুই
হাতে-কলমে করবি না,
তপের ধাপ্পায় থাকলে নিষ্ঠা
'না' ছাড়া কিছু পাবি না । ৭৮।
তপেই জনম, তপেই জীবন
তপেই বিধান-বিধৃতি,
তপশ্চৰ্য্যায় হও আগুয়ান
অমৃতত্বে কর স্থিতি । ৭৯।
নিপুণ-নেশার উৎসারণায়
তপ-নিরতি নিয়ে চল্,
আগ্রহটা অটুট রাখিস
শ্রদ্ধাটাকে ক'রে সবল। ৮০।
অধিগম্য যা'-কিছু তোর
তপশ্চর্য্যার দৃষ্টিতে,
দেখে-শুনে ক'রে চলবি,
সার্থকতা পাবি তা'তে । ৮১।
তপ মানেই তো তপশ্চরণ
যা'কে বলে সাধনা,
সুতপা তুই না হ'লে কি
সার্থক হবে তপনা ? ৮২।
তপ মানেই তো তাতিয়ে রাখা
অভ্যাসটাকে আদর্শেতে,
আদর্শচর্য্যী গুণানুশীলনে
স্থাপিত করা স্বসত্তাতে । ৮৩ ।
শুভসুন্দর প্রীতিদীপন
নিষ্ঠায় অটল থেকে,
কাজে তা'রে ফলিয়ে তুলিস্
শ্রদ্ধা অটুট রেখে। ৮৪।
শুভ-সুন্দর চিন্তা দিয়ে
চিত্ত রঙিল ক'রে,
ভাবের আবেগ বাড়িয়ে তুলিস্
কর্ম্মে-ব্যবহারে । ৮৫।
জীবন পেলি মর্ত্ত্যে এলি
পিতামাতার নন্দনায়,
সুস্থি-শুভর বিশদ চৰ্য্যায়
শৌর্য্য আনিস্ সাধনায় । ৮৬।
ভাব-আবেগে ধারণ ক'রে
জ্ঞানন-চিন্তায় রাখিস্ টান,
চিন্তা-চয়ন ধ্যানের ধরণ
তাইতে বলে তা'কে ধেয়ান । ৮৭।
ক্ষিপ্র জোগান না দিস্ যদি
আবেগ-জোয়ার ভাঁটায় যাবে,
ধরার নেশা ভাঁটিয়ে গিয়ে
উদ্যমও তোর শুকিয়ে যাবে । ৮৮।
যা'ই কিছু তুই করিস্ না ক্যান্
ইষ্টার্থেতে লক্ষ্য রাখিস,
ভাব-বোধনা রঙিল হ'য়ে
ঐ পথে তুই চলিস্-ফিরিস্। ৮৯।
অজ্ঞতাকেই তম জানিস,
বিজ্ঞতাকে আলো ধ'রে
কৃতি-পথে চল্ এগিয়ে
ইন্দ্রিয়দের সামাল ক'রে । ৯০।
বিধির পথে চ'লে-চ'লে
বৃদ্ধিটাকে বাড়িয়ে তোল,
সিদ্ধ হ'য়ে সৎপথে তুই
চুকিয়ে দে সব ডামাডোল । ৯১।
আছাড় খেয়েই হাঁটতে হবে
উঠতে হবে উদ্যমে,
এমনি অটুট চলায় জীবন
হবেই জয়ী সংগ্রামে । ৯২।
সাধবি যা' তুই সাধলি না তা'
যাচ্ছে জীবন বয়ে,
উন্নতি তোর অবশ হ'লো
জনম-মরণ স'য়ে । ৯৩।
অনুশীলনে ইষ্টনিদেশ
স্বভাবসিদ্ধ নে ক'রে,
অটুট চলায় উদাম হ'য়ে
নিষ্ঠাকে তুই রাখ ধ'রে । ৯৪।
নিদেশ ব'য়ে চললি না তুই
অনুশীলন তো করলি না,
চর্য্যাক্রিয়া মর্জ্জিহারা
সুফল তা'তে ফলল না । ৯৫।
ইষ্টার্থ মনন কর
বিবেচনার সূত্র ধ'রে,
শুভ যা' তা' মূর্ত্ত কর
আগ্রহশীল কৃতিভরে,
ধ্যান-পুজা সেই তো আসল
কুশল-শিল্পী-আবেগ নিয়ে,
নিষ্পন্নতায় দক্ষ হ'য়ে
ইষ্টভরণ বেড়াও ব'য়ে । ৯৬।
আচরণ আর অনুশীলন
কৃতিকুশল তৎপরতায়,
মন্ত্র তোমার সিদ্ধ হ'লে
সার্থকতা তবেই তো পায়। ৯৭।
ভক্তিভরে সেবার রাগে
নিদেশ পালন করবি যেমন,
ভজন তোমার উছল হ'য়ে
আগলে ধরবে জানিস্ তেমন । ৯৮।
হাতে-কলমে না-ভজলে কেউ
ভগবানকে পায় কি ?
সেবানিপুণ কৰ্ম্মে ফাঁকি
তেমন ভক্তি হয় মেকী । ৯৯।
ভজনরূপী ভগবানের
স্বতঃসম্বেগ ফুটলে তো'তে,
ধরা-করায় উচ্ছলতায়
করবি যেমন, পারবি হ'তে । ১০০।
ভগবানকে খুঁজতে গেলে
পাবি না মূর্ত্ত কোনখানে,
ভক্তজনে মূর্ত্ত তিনি—
ধৃতিচৰ্য্যী ভজনাসনে। ১০১।
বৈকুণ্ঠে শুধু র'ন না বিষ্ণু
যোগী-হৃদয়েও তেমনতর,
ভজনদীপ্ত ধৃতিচর্য্যী
ভক্ত-বুকেই থাকেন দড় । ১০২।
লাখ দেবতায় কর না পূজা,
সঙ্গতিশীল তৎপরতায়
মহিমাসিদ্ধ বিভূতি না হ'লে
ভজন-পূজন যাবে বৃথায় । ১০৩।
নারায়ণকে উপেক্ষা ক'রে
লক্ষ্মীপূজার লাখ বাহানা,
লক্ষ্মীকে কি বাঁধতে পারে?
যম-জাঙ্গাল তা'য় দেয়ই হানা। ১০৪।
বাগদেবীকে করিস্ পূজা 
বোধ-বিবেককে জাগিয়ে নিতে,
কৃতিদেবীর করিস্ পূজা
অনুশীলনে মূর্ত্তি দিতে । ১০৫ ।
উচ্চ যা' তা' নতির সাথে
বিহিত চৰ্য্যা ক'রে,
উন্নতি তোর করতে হবে
উন্নতকে ধ'রে । ১০৬ ।
ঊর্জ্জীতেজা শ্রদ্ধা যদিই
তৃপ্ত হ'য়ে মহিমায়,
নিষ্ঠানিপুণ দীপ্ত রাগে
কৃতি-বিভব নাই-ই হয়,
সার্থকতা কোথায় রে তোর
পাবি কোথায় তৃপ্তি জ্ঞানে,
অলস নেশায় থাকবি প'ড়ে
স্বস্তি কি আর পাবি প্রাণে? ১০৭।
ভাবের ঘুঘু হওয়াই কিন্তু
ব্রহ্মানন্দ নয়
বোধ ও ক্রিয়ার পরিচর্যায়
ব্রহ্মানন্দ হয় । ১০৮।
জপ-ধ্যান-পূজা যাই করিস্ না
যেমন যা' হয় কর,
অনুশীলন-অভ্যাস না করলে তা'র
পাবি কি তা'র বর ? ১০৯।
কৃতিরাগে ডগমগ
নিষ্ঠারাতুল নন্দনায়,
থাকিস্ সদাই ইষ্টপ্রীতির
অনুশীলনী বন্দনায়। ১১০।
বিভুকৃপা ততই পাবি 
কৃতি-মাতাল থাকবি যত,
চর্য্যারত আলিঙ্গনে
জীবনটাকে রাখলে রত;
অমৃতেরই ঐ তো পথ
সেই পথেরই যাত্রী হও,
ক'রে পেয়ে কৃপার আলোয়
বিভু-বিভবে অবাধ রও । ১১১।
কাজ বেড়ে যায় ব্যাপৃতির কোলে
তা'ও ভালো তা'ও ভালো,
সাত্বত যা' চর্য্যায় তা'র
বোধে যেন ফোটে আলো । ১১২।
অস্তিত্বে যা'র প্রীতিপূজা 
সব অস্তিত্বের পুজারী সে,
পূজা-আচার সেই তো জানে
সেই তো বাতায় তা'র দিশে । ১১৩।
অস্তিত্বতে অটুট থাকা 
স্বতঃ-চাহিদা জীবনটার,
সুখতৃপ্তি নিয়ে সে চায়
আত্মপ্রসাদ বর্দ্ধনার,—
প্রতিষ্ঠাতে আসীন থেকে
পারস্পরিক পরিচর্য্যায়,
স্মৃতিবাহী চেতনা নিয়ে
আত্মোন্নতির নন্দনায় । ১১৪।
সত্তাতে তোর যা'-কিছু রয়
দান ক'রে দে সব,
প্রেষ্ঠ তোমার সব রকমে
থাক্ হ'য়ে বিভব;
সুখে-দুঃখে তবেই শান্তি
ভ্রান্তিও কাটতে থাকবে,
সৎ-চাতুর্য্য আসবে হেঁটে
তবে তো চলতে পারবে । ১১৫।
ইষ্টনিদেশ চল্ পেলে তুই 
দেখ না ক্রমে কীই যে হয়,
বোধের চোখটি সজাগ রেখে
নিষ্পাদনে আন্ রে জয়,
দীপন-সুরে ঊর্জ্জী নেশায়
দক্ষ-নিপুণ ক্ষিপ্রতায়
নিয়ন্ত্রণী নিষ্পাদনা
গাহুক সার্থকতার জয় । ১১৬।
নাম-অনুরাগ শ্রদ্ধা বাড়ায়,
শ্রদ্ধা আনে ইষ্টনেশা,
ইষ্টনেশায় আসেই জেনো
নিদেশপালী রুচির তৃষা,
ঐ রুচি করে অনুশীলন,
অনুশীলনে কৃষ্টি জাগে,
কৃষ্টি বাড়ায় তপ-চলন
সমীচীনতার অনুরাগে,
আবেগনিষ্ঠ চর্য্যা নিয়ে
সমীচীনে সম্যক্ করা,
ভজনদীপ্ত হৃদয়ে অমনি
তপ-বিভূতি দেয়ই ধরা । ১১৭।
ঈশ্বরীয় গুণ যেখানে
ধারণ-পালন-পোষণ-রাগে,
বিভূতিতে ব্যক্ত হ'য়ে
ভক্তজনার সত্তায় জাগে,
যেমন যুগে যেমনতর
কৃতি-যাগের প্রয়োজন,
অসৎ-নিরোধ তপটি নিয়ে
তা'তেই তিনি মগ্ন র'ন;
চলন-বলন কেমনতর
ধরণ-ধারণ তাঁর যে কী ?
প্রয়োজনের মতন করেন,
তেমনতরই চলে ধী। ১১৮।
যাঁ'র বরণে বৃদ্ধিমুখর
চলছ হ'য়ে নিত্যদিন,
খাইয়ে-পুষে না চললে তা'য়
চৌর্য্য-বৃত্তির নও অধীন ?
তাঁ'রই নিদেশ বহন কর
শরীর, মন আর হৃদয় নিয়ে,
এক লহমাও ন'ড়ো নাকো
সেবা কর তাঁয় চিত্ত দিয়ে;
তাঁ'রই পথে চলতে থাক
তাঁ'রই দিকে রেখে মুখ,
চল-বল তাঁ'র চলনে
অমনি ক'রেই ভুঞ্জ সুখ । ১১৯।