স্বাস্থ্য ও সদাচার নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড (১-৩০)

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “স্বাস্থ্য ও সদাচার ” শিরোনামে পৃষ্ঠা ৩৭ – ৫০ পর্যন্ত মোট ৬৯ টি বাণী রয়েছে।
১ – ৩০ পর্যন্ত বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

সদাচারে বাঁচে-বাড়ে 
লক্ষ্মী বাঁধা তা'র ঘরে। ১।
সদাচারে রত নয় 
পদে-পদে তা'র ভয়। ২।
সদাচার বলে কা'রে
তা' কিরে তুই বুঝিস্?
যে-আচারে বাঁচে-বাড়ে
সদাচার তা' জানিস্। ৩।
সদাচারে লক্ষ্য রেখে
যে-কাজ করিস্ চলিস্ দেখে,
অনাচারে বাড়বে ভয়
আনবে কতই বিপর্য্যয়। ৪।
স্বাস্থ্যটিকে নিয়ন্ত্রণে করি' দৃঢ়তর
থেকো তুমি সুজাগ্রত ওহে অনুক্ষণ—
পূজিবারে ইষ্টদেবে সার্থক আচারে
নীচ বুদ্ধি, অহমিকা করিয়া বর্জ্জন। ৫।
আচার বিনয় বিদ্যা কাজে
দেখবি যেমন দক্ষ যা'য়,
তেমনি কুলের গরব নিয়ে
জন্মেছে সে এ ধরায়। ৬।
ইষ্টনেশায় তুষ্ট প্রাণ
সদাচারী হ'লে,
মনের স্বাস্থ্য জীবনশক্তি
অটুটভাবেই চলে। ৭
ইষ্টনিষ্ঠ সদাচারী
নীচ জাতিও হ'লে,
অন্নপানীয়ে কমই দোষ
জাত যায় না ছুঁলে। ৮।
স্বতঃই তুষ্ট বিপত্তিতেও
নয়কো মনের ধাঁজ এমন,
সদাচারী স্বভাব-ঝোঁকা
রয় না যাহার অনুক্ষণ;
পরিবার আর পাড়াপড়শীর
সেবা প্রীতি-অনুরাগে,
উচ্ছলতায় উন্নয়নে
ধায় না প্রীণন-প্লাবন-যাগে;
আহার-বিহার চেষ্টা কাজে
সাম্যস্বভাব নয় যে-জন,
আগন্তুকী ব্যাধির পূজায়
কাটায় জানিস্ ভরজীবন। ৯।
সদাচারী নয়কো যে-জন
ইষ্ট-বিহীন রয়,
পান ও ভোজন তাহার হাতে
বিষ-বহনী হয়। ১০।
ব্রাত্য-অন্ন দুষ্ট হবেই,
দ্বিজ-অন্ন নয়,
শ্রদ্ধা-বিনয়ী সদাচারী
যদ্যপি সে হয়। ১১।
ঘুমিও তুমি ততটুকই
অবসাদ না আসে,
চেতন থাকাই বর বিধাতার
জড়ত্ব যা'য় নাশে। ১২।
কাজের ঝোঁকে চলবি যতই
শরীর ভুলে থেকে,
শরীর হবে সহনপটু
স্বাস্থ্য আসবে হেঁকে। ১৩।
গম্যাগমন পুষ্ট করে
সর্ব্বদেহের স্নায়ুজাল,
অভাব বা তা'র অত্যাচারে
আয়ু স্নায়ু পয়মাল। ১৪।
মাদক-মাতাল হওয়া জানিস্
বড়ই নিঠুর পাপ,
বাতুল বিষাদ-উত্তেজনায়
আনেই অপলাপ। ১৫।
রোগ হ'লে তুই থাকিস্ স'রে
কিছুতেই তা' ছড়াবি না,
ছোঁয়াছুঁয়িতে নাকাল হ'বি
সাবধান ওটা চারাবি না। ১৬।
নাকে-মুখে আঙ্গুল দিয়ে
অমনি তাহা ধুতেই হয়,
নইলে কুটিল রোগের হাতে
নষ্ট মানুষ হয়ই হয়। ১৭।
দাঁড়িয়ে হাগা, প্রস্রাব করা
দুই-ই মস্ত কু-অভ্যাস,
স্নায়ুশিথিল ক্লৈব্য আসে
থাকেই হ'য়ে ব্যাধির দাস। ১৮।
মুখে দিয়ে কোন-কিছু
উগরে সেটি খাসনে ফিরে
ওতেও কিন্তু স্পর্শি' লালায়
অনেক ব্যাধি ধরেই ঘিরে। ১৯।
বাহ্যি-প্রস্রাব-শৌচ সেধে
পা-হাত-মুখ ধুয়েই ফেলিস,
উড়ুক্কু মল প্রস্রাব-কণা
বয়ই ব্যাধির অশেষ বিষ। ২০।
পরের গামছা কাপড় পরা
বিছানা-বালিশে শোওয়া,
ব্যাধির বিপাক দুর্দ্দশাকে
কুড়িয়ে দেহে নেওয়া। ২১।
বাহ্যি ক'রে ময়লা ঘেঁটে
হাতটি ধুয়ে ফেলে,
ভাল ক'রে মাটি-জলে
শুদ্ধি নাহি পেলে,
চর্ম্মরেখায় মলের কণা
লুকিয়ে ধ'রে লক্ষ ফণা,
চোখ আড়ালে ছোবল দিয়ে
মারেই বিষটি ঢেলে। ২২।
বিছানার চাদর বালিশের ওয়াড়
নিত্য-ব্যবহারী কাপড়-জামা,
জলে ধুয়ে রৌদ্র-তপ্ত
না করলে ঘটে ঢের হাঙ্গামা। ২৩।
সূঁচ-কাঠি আর ছুরি কিংবা
আর যা'-কিছু হোকই না,
ভাল ক'রে না শুধরে তা'য়
দিবি না মুখে, খুঁটবি না;
এটি করা বেজায় দোষের
হঠাৎ বিপদ আসে প্রাণের,
শক্ত রোগের বাগে প'ড়ে
দিগ্বিদিক্ তুই দেখবি না। ২৪।
হরদম রোগ লেগেই থাকে—
দ্যাখ্ আগে তুই ছেলের মাকে,
নিশ্চয় বেকুব অজান বেটী
আচার-বুদ্ধি নেইকো খাঁটি,
পরিপাটি নয় কৰ্ম্ম তাহার
ধারে না বিধি-নিষেধের ধার,
ভাল-মন্দ জানে না কিসে
বেটী এমনি হারাদিশে,
তাইতো অমন রোগ-বালাই
শোধরান ছাড়া ওষুধ নাই। ২৫।
পাক-পোষণী রক্তচাপ
অধিকভোজীর বেড়েই যায়,
মস্তিষ্ক না পোষণ পেয়ে
ক্রমেই চলে ক্ষীণতায়। ২৬।
ছেলে হ'তে নিঃস্রাব যত
হ'য়ে হয় তা' পচনশীল,
প্রাণধ্বংসী বীজাণুতে
বিষিয়ে দেয় প্রতি তিল। ২৭।
শুদ্ধ হাওয়া মৃদুল আলো
চলতে পারে এমনি ক'রে,
আঁতুড় ঘরটি একটু দূরে
রাখবি কিন্তু তৈরী ক'রে। ২৮।
চোখের জল বা পিচুটি মুছে
চোখ-হাত ধুয়ে ফেলাই ভাল,
নইলে কিন্তু হ'বি সবই
হরেক ব্যাধির কুজঞ্জাল। ২৯।
একই পাত্রে অনেক জনে
ছোঁয়াছুঁয়ি করে খাওয়া,
এটা কিন্তু রোগবাহী
অভ্যাসেরই লাই দেওয়া। ৩০।