অপরের দোষ, পরনিন্দা, খোসামোদ

শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর শ্রীহস্তলিখিত সত্যানুসরণ গ্রন্থে অপরের দোষ ধরতে মানা করেছেন, তাই বলে তোষামোদ করতে বলেননি। তিনি বলেছেন….

এটা খুবই সত্য কথা যে, মনে যখনই অপরের দোষ দেখবার প্রবৃত্তি এসেছে তখনই ঐ দোষ নিজের ভিতরে এসে বাসা বেঁধেছে। তখনই কালবিলম্ব না ক’রে ওই পাপপ্রবৃত্তি ভেঙ্গেচুরে ঝেঁটিয়ে সাফ ক’রে দিলে তবে নিস্তার, নইলে সব নষ্ট হ’য়ে যাবে। 

[উপরের “এটা….হ’য়ে যাবে।” বাণীটির ব্যাখ্যা]

তোমার নজর যদি অন্যের কেবল কু-ই দেখে, তবে তুমি কখনই কাউকে ভালবাসতে পারবে না। আর, যে সৎ দেখতে পারে না, সে কখনই সৎ হয় না।

[উপরের “তোমার নজর….সৎ হয় না” বাণীটির ব্যাখ্যা]

তোমার মন যত নির্ম্মল হবে, তোমার চক্ষু তত নির্ম্মল হবে; আর, জগৎটা তোমার নিকট নিৰ্ম্মল হ’য়ে ভেসে উঠবে।

[উপরের “তোমার মন… ভেসে উঠবে” বাণীটির ব্যাখ্যা]

তুমি যা’ই দেখ না কেন, অন্তরের সহিত সর্ব্বাগ্রে তার ভালটুকুই দেখতে চেষ্টা কর; আর এই অভ্যাস তুমি মজ্জাগত ক’রে ফেল।

[উপরের “তুমি যা’ই …. ফেল।” বাণীটির ব্যাখ্যা]

তোমার ভাষা যদি কুৎসা – কলঙ্কজড়িতই হ’য়ে থাকে, অপরের সুখ্যাতি ক’রতে না পারে, তবে যেন কারো প্রতি কোনও মতামত প্রকাশ না করে। আর, মনে-মনে তুমি নিজ স্বভাবকে ঘৃণা ক’রতে চেষ্টা কর এবং ভবিষ্যতে কুৎসা-নরক ত্যাগ ক’রতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও।

[উপরের “তোমার ভাষা যদি ….হও” বাণীটির ব্যাখ্যা]

পরনিন্দা করাই পরের দোষ কুড়িয়ে নিয়ে নিজে কলঙ্কিত হওয়া; আর, পরের সুখ্যাতি করা অভ্যাসে নিজের স্বভাব অজ্ঞাতসারে ভাল হ’য়ে পড়ে!

[উপরের “পরনিন্দা…পড়ে!” বাণীটির ব্যাখ্যা]

তাই ব’লে কোন স্বার্থবুদ্ধি নিয়ে অন্যের সুখ্যাতি ক’রতে নেই। সে তো খোসামোদ। সে-ক্ষেত্রে মন-মুখ প্রায়ই এক থাকে না। সেটা কিন্তু বড়ই খারাপ; আর, তাতে নিজের স্বাধীন মত-প্রকাশের শক্তি হারিয়ে যায়।

[উপরের “তাই ব’লে….যায়” বাণীটির ব্যাখ্যা]