গুরু বা আদর্শ সম্বন্ধে সত্যানুসরণ

গুরু বা আদর্শ বা সৎচালক প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর সত্যানুসরণের পৃষ্ঠা ৩১-৩৫ এ অনেকগুলি বাণী দিয়েছেন।

খবরদার! কাউকে হুকুম ক’রে কিংবা চাকর-বাকর দিয়ে গুরুর সেবা-শুশ্রূষা করাতে যেও না—প্রসাদ থেকে বঞ্চিত হ’য়ো না।

[উপরের “খবরদার…না” বাণীটির ব্যাখ্যা]

মা নিজের হাতে ছেলেপিলের যত্ন করে ব’লে ছেলের উপর অশ্রদ্ধা আসে না—তাই অত ভালবাসা।

[উপরের “মা…. ভালবাসা” বাণীটির ব্যাখ্যা]

নিজহাতে গুরুসেবা ক’রলে অহঙ্কার পাতলা হয়, অভিমান দূরে যায়, আর প্রেম আসে।

[উপরের “নিজহাতে…আসে।” বাণীটির ব্যাখ্যা]

গুরুই ভগবানের সাকার মূৰ্ত্তি, আর তিনিই Absolute (অখণ্ড)।

[উপরের “গুরুই..অখন্ড।” বাণীটির ব্যাখ্যা]

গুরুকে আমার ব’লে জানতে হয়—মা, বাপ, পুত্র ইত্যাদি বাড়ীর লোককে ভাবতে গেলে যেন তাঁর মুখও মনে পড়ে।

তাঁর ভর্ৎসনার ভয় রাখার চেয়ে ভালবাসার ভয় রাখাই ভাল; —আমি যদি অন্যায় করি, তবে তাঁর প্রাণে ব্যথা লাগবে।

সবসময় তাঁকে অনুসরণ ক’রতে চেষ্টা কর; তিনি যা’ ব’লেন, যত্নে তা’ রক্ষা করে অভ্যাসে চরিত্রগত ক’রতে নিয়ত চেষ্টা কর; আর তাই সাধনা।

[উপরের “সবসময়…সাধনা” বাণীটির ব্যাখ্যা]

তুমি গুরুতে বা সৎ-এ চিত্ত সংলগ্ন ক’রে আত্মোন্নয়নে যত্নবান্ হও, অন্যে তোমার বিষয়ে কী বলছে দেখতে গিয়ে আকৃষ্ট হ’য়ে প’ড়ো না—তা’ হ’লে আসক্ত হ’য়ে প’ড়বে, আত্মোন্নয়ন হবে না।

[উপরের “তুমি… না” বাণীটির ব্যাখ্যা]

স্বার্থবুদ্ধি অনেক সময়ে আদর্শে দোষারোপ করে, সন্দেহ এনে দেয়, অবিশ্বাস এনে দেয়। স্বার্থবুদ্ধিবশতঃ আদর্শে দোষ দেখো না, সন্দেহ ক’রো না, অবিশ্বাস ক’রো না—ক’রলে আত্মোন্নয়ন হবে না।

মুক্তস্বার্থ হ’য়ে আদর্শে দোষ দেখলে তার অনুসরণ ক’রো না—ক’রলে আত্মোন্নয়ন হবে না।

[উপরের “মুক্তস্বার্থ…না” বাণীটির ব্যাখ্যা]

আদর্শের দোষ—মূঢ় অহঙ্কার, স্বার্থচিন্তা, অপ্রেম। অনুসরণকারীর দোষ—সন্দেহ, অবিশ্বাস, স্বার্থবুদ্ধি।

[উপরের “আদর্শের..স্বার্থবুদ্ধি” বাণীটির ব্যাখ্যা]

যিনি প্রেমের অধিকারী, নিঃসন্দেহচিত্তে তাঁরই অনুসরণ কর, মঙ্গলের অধিকারী হবেই হবে।

[উপরের “যিনি…হবে” বাণীটির ব্যাখ্যা]

যিনি ছলে-বলে-কৌশলে, যেমন ক’রেই হোক না কেন, সৰ্ব্বভূতের মঙ্গল-চেষ্টায় যত্নবান্‌, তাঁরই অনুসরণ কর, মঙ্গলের অধিকারী হবেই হবে।

[উপরের “যিনি ছলে…হবে” বাণীটির ব্যাখ্যা]

যিনি কোনও প্রকারে কাহাকেও দুঃখ দেন না, অথচ অসৎ-এরও প্রশ্রয় দেন না, তাঁরই অনুসরণ কর, মঙ্গলের অধিকারী হবেই হবে।

[উপরের “যিনি কোনও…হবে” বাণীটির ব্যাখ্যা]

যাঁকে তুমি চালকরূপে মনোনীত ক’রে নিয়েছ, তাঁর কাছে তোমার হৃদয়ের কোনও কথা গোপন রেখো না। গোপন ক’রলে তাঁকে অবিশ্বাস করা হবে; আর, অবিশ্বাসেই অধঃপতন। চালক অন্তর্য্যামী, যদি ঠিক-ঠিক বিশ্বাস হয়, তবে তুমি কুকাৰ্য্য ক’রতেই পারবে না। আর, যদি ক’রেই ফেল তবে নিশ্চয়ই স্বীকার ক’রবে। আর, গোপন ক’রতে ইচ্ছা হ’লেই জেনো, তোমার হৃদয়ে দুৰ্ব্বলতা এসেছে, এবং অবিশ্বাস তোমাকে আক্রমণ ক’রেছে, —সাবধান হও, নতুবা অনেক দূর গড়াবে।

[উপরের “যাঁকে…গড়াবে” বাণীটির ব্যাখ্যা]

তুমি যদি গোপন কর, তোমার সৎ-চালকও গা-ঢাকা দেবেন ; আর, তুমি তোমার হৃদয়ের ভাব ব্যক্ত কর, উন্মুক্ত হও, তিনিও তোমার সম্মুখে উন্মুক্ত হবেন, ইহা নিশ্চয়।

[ উপরের “তুমি যদি … নিশ্চয়।” বাণীটির ব্যাখ্যা]

গোপন অভিপ্রায়ে চালককে ‘অন্তর্য্যামী, সবই জানতে পারছ’ —ব’লে চালাকি ক’রলে নিজেই পতিত হবে, দুর্দ্দশায় ঘিরে ধ’রবে।

[উপরের “গোপন …ধ’রবে” বাণীটির ব্যাখ্যা]

 হৃদয়-বিনিময় ভালবাসার একটি লক্ষণ, আর, তুমি যদি সেই হৃদয়ই গোপন কর, তবে এ-নিশ্চয়ই যে তুমি স্বার্থভাবাপন্ন, তাঁকে কেবল কথায় ভালবাস।

[উপরের “হৃদয়-বিনিময়…ভালবাস” বাণীটির ব্যাখ্যা]

 কামে গোপন আছে, কিন্তু ভালবাসায় তো উভয়ের ভিতর কিছুই গোপন থাকতে পারে না।

[উপরের “কামে…না” বাণীটির ব্যাখ্যা]

 সৎ-চালক পাতলা-অহংযুক্ত ; তিনি নিজে তাঁর ক্ষমতা কিছুতেই তোমার নিকট জাহির ক’রবেন না এবং সেইজন্য তোমার ভাবানুযায়ী তোমাকে অনুসরণ ক’রবেন—আর, এ-ই সৎ-চালকের স্বভাব। যদি সৎ-চালক অবলম্বন ক’রে থাক, যা’ই কর, ভয় নাই, ম’রবে না; কিন্তু কষ্টের জন্য রাজী থেকো।

[উপরের “সৎ-চালক…রাজী থেকো” বাণীটির ব্যাখ্যা]