ভক্তি প্রসঙ্গে সত্যানুসরণ

ভক্তি প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর সত্যানুসরণের পৃষ্ঠা নং ৪৬ – ৫০ পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে বলেছেন…..

শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস দুই ভাই, একটি আসলে আর একটিও আসে।

সন্দেহের নিরাকরণ কর, বিশ্বাসের সিংহাসনে ভক্তিকে বসাও, হৃদয়ে ধৰ্ম্মরাজ্য সংস্থাপিত হোক।

[উপরের “সন্দেহের … হোক” বাণীটির ব্যাখ্যা]

সৎ-এ নিরবচ্ছিন্ন সংলগ্ন থাকার চেষ্টাকেই ভক্তি বলে।

ভক্তই প্রকৃত জ্ঞানী, ভক্তিবিহীন জ্ঞান বাচকজ্ঞান মাত্র।

[উপরের “ভক্তই…মাত্র” বাণীটির ব্যাখ্যা]

তুমি সোহহংই বল আর ব্রহ্মাস্মিই বল, কিন্তু ভক্তি অবলম্বন কর, তবেই সেই ভাব তোমাকে অবলম্বন ক’রবে ; নতুবা কিছুতেই কিছু হবে না।

[উপরের “সোহহংই…না” বাণীটির ব্যাখ্যা]

বিশ্বাস যেমনতর, ভক্তি তেমনতরভাবে আসবে এবং জ্ঞানও তদনুযায়ী।

[উপরের “বিশ্বাস…তদনুযায়ী” বাণীটির ব্যাখ্যা]

আগে নিরহঙ্কার হ’তে চেষ্টা কর, পরে সোহহং বল, নচেৎ সোহহং তোমাকে আরও অধঃপাতে নিয়ে যেতে পারে।

[উপরের “আগে…পারে” বাণীটির ব্যাখ্যা]

তুমি যদি সৎ-চিন্তায় সংযুক্ত থাকতে চেষ্টা কর, তোমার চিন্তা, আচার, ব্যবহার ইত্যাদি উদার এবং সত্য হ’তে থাকবে ; আর, সেই লক্ষণগুলিই ভক্তের।

[উপরের “তুমি…ভক্তের” বাণীটির ব্যাখ্যা]

সংকীর্ণতার নিকটে গেলে মন সংকীর্ণ হ’য়ে পড়ে এবং বিস্তৃতির নিকটে গেলে মন বিস্তৃতি লাভ করে ; তেমনি ভক্তের নিকটে গেলে মন উদার হয় ; আর, যত উদারতা ততই শান্তি।

[উপরের “সংকীর্ণতার…শান্তি” বাণীটির ব্যাখ্যা]

বিষয়ে মন সংলগ্ন থাকাকে আসক্তি বলে, আর সৎ-এ সংলগ্ন থাকাকে ভক্তি বলে।

প্রেম ভক্তিরই ক্রমোন্নতি। ভক্তির গাঢ়ত্বই প্রেম। অহঙ্কার যেখানে যত পাতলা, ভক্তির স্থান সেখানে তত বেশী।

[উপরের “বিষয়ে…বলে” ও “প্রেম…বেশী” বাণীদুটি প্রসঙ্গে]

ভক্তি ভিন্ন সাধনায় সফল হওয়ার উপায় কোথায় ? ভক্তিই সিদ্ধি এনে দিতে পারে।

[উপরের “ভক্তি…পারে” বাণীটির ব্যাখ্যা]

বিশ্বাস যেমন অন্ধ হয় না, ভক্তিও তেমনি মূঢ়া হয় না।

ভক্তিতে কোনও কালে কোনও রূপে দুর্ব্বলতা নেই।

[উপরের “ভক্তিতে..নেই” বাণীটির ব্যাখ্যা]

ক্লীবত্ব, দুৰ্ব্বলতা অনেক সময় ভক্তির খোলস প’রে দাঁড়ায়, তা’ হ’তে সাবধান হও।

[উপরের “ক্লীবত্ব…হও” বাণীটির ব্যাখ্যা]

একটু কাঁদলেই বা নৃত্যগীতাদিতে উত্তেজিত হ’য়ে লম্ফ-ঝম্পাদি ক’রলেই যে ভক্তি হ’ল তা’ নয়কো ; সাময়িক ভাবোন্মত্ততাদি ভক্তের লক্ষণ নয়কো। ভক্তের চরিত্রে পাতলা-অহঙ্কারের চিহ্ন, বিশ্বাসের চিহ্ন, সৎ-চিন্তার চিহ্ন, সদ্ব্যবহারের চিহ্ন এবং উদারতা ইত্যাদির চিহ্ন কিছু-না-কিছু থাকবেই থাকবে, নতুবা ভক্তি আসে নাই।

বিশ্বাস না এলে নিষ্ঠা আসে না, আর, নিষ্ঠা ছাড়া ভক্তি থাকতে পারে না!

[উপরের “বিশ্বাস…না” বাণীটির ব্যাখ্যা]

দুর্ব্বল ভাবোন্মত্ততা অনেক সময় ভক্তির মত দেখা যায়, সেখানে নিষ্ঠা নাই; আর, ভক্তির চরিত্রগত লক্ষণও নাই।

[উপরের “দুর্বল…নাই” বাণীটির ব্যাখ্যা]

যা’র হৃদয়ে ভক্তি আছে সে বুঝতে পারে না যে, সে ভক্ত ; আর দুৰ্ব্বল, নিষ্ঠাহীন, শুধু ভাবপ্রবণ, গাঢ় অহং-যুক্ত হৃদয় ভাবে—আমি খুব ভক্ত।

অশ্রু, পুলক, স্বেদ, কম্পন হলেই যে সেখানে ভক্তি এসেছে তা নয়কো, ভক্তির ঐগুলির সঙ্গে তার স্বধৰ্ম্ম-চরিত্রগত লক্ষণ থাকবেই থাকবে।

[উপরের “অশ্রু…থাকবে” বাণীটির ব্যাখ্যা]

অশ্রু, পুলক, স্বেদ, কম্পন ইত্যাদি ভাবের লক্ষণ ; তা’ অনেক রকমে হ’তে পারে।

[উপরের “অশ্রু…পারে” বাণীটির ব্যাখ্যা]

ভক্তির চরিত্রগত লক্ষণের সঙ্গে যদি ঐ ভাবের লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়, তবেই তা’ সাত্ত্বিক-ভাবের লক্ষণ।

[উপরের “ভক্তির…লক্ষণ” বাণীটির ব্যাখ্যা]

জাল-ভক্তি মোটা-অহঙ্কার-যুক্ত, আসল ভক্তি অহঙ্কার-মুক্ত অর্থাৎ খুব পাতলা-অহঙ্কার-যুক্ত।

[উপরের “জাল…যুক্ত” বাণীটির ব্যাখ্যা]

জাল-ভক্তি-যুক্ত মানুষ উপদেশ নিতে পারে না, উপদেষ্টারূপে উপদেশ দিতেই পারে ; তাই কেউ উপদেশ দিলে মুখে চটার লক্ষণ, বিরক্তির লক্ষণ, সঙ্গ-পরিহারের চেষ্টা ইত্যাদি লক্ষণ প্রায় স্পষ্ট প্রকাশ পায়।

আসল-ভক্তি-যুক্ত মানুষ উপদেষ্টার আসন নিতে একেবারেই গররাজি। যদি উপদেশ পায়, তার মুখে আনন্দের চিহ্ন ফুটে বেরোয়।

[উপরের “জাল..পায়” ও “আসল…বেরোয়” বাণীদু’টির ব্যাখ্যা]

অবিশ্বাসী ও বহুনৈষ্ঠিকের হৃদয়ে ভক্তি আসতেই পারে না।

[উপরের “অবিশ্বাসী…না” বাণীটির ব্যাখ্যা]

ভক্তি একের জন্য বহুকে ভালবাসে, আর আসক্তি বহুর জন্য এককে ভালবাসে।

[উপরের “ভক্তি…ভালবাসে।” বাণীটির ব্যাখ্যা]

আসক্তিতে স্বার্থে আত্মতুষ্টি, আর ভক্তিতে পরার্থে আত্মতুষ্টি।

ভক্তির অনুরক্তি সৎ-এ, আর আসক্তির নেশা স্বার্থে, অহং-এ।

আসক্তি কামের পত্নী, আর ভক্তি প্রেমের ছোট ভগিনী।

[উপরের “আসক্তি…ভগিনী” বাণীটির ব্যাখ্যা]