সত্যানুসরণ লেখার ইতিহাস

সত্যানুসরণ পুস্তকে দেয়া সত্যানুসরণ লেখার ইতিহাস

সত্যানুসরণ লেখার একটি ইতিহাস আছে। আর সেটা সত্যানুসরণ পুস্তিকার ৪ নং পৃষ্টায় দেয়া আছে। বর্ণনাটি নিম্নরুপ।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের অন্যতম প্রিয়ভক্ত অতুলচন্দ্র ভট্টাচার্য্য। কর্ম্মজীবন তাকে পাবনা থেকে দূরে নিয়ে যাবে। বিরহ-বিচ্ছেদকাতর ভক্ত প্রেমাশ্রুধারায় প্রার্থনা ক’রল, নিরন্তর দিব্য ভাবধারায় অনুপ্রাণিত থাকতে পারে এমনতর শ্রীহস্তলিখিত অমৃত-নির্দ্দেশ। বাংলা ১৩১৬ সালে মাত্র বাইশ বৎসর বয়সে শ্রীশ্রীঠাকুর এক নিশায় লিপিবদ্ধ ক’রে দিলেন তাঁর অমৃত-নিষ্যন্দী স্বতঃ-উৎসারী বাণী। ভক্তের প্রার্থনা নামিয়ে নিয়ে এল পৃথিবীর বুকে মন্দাকিনীর পূণ্যধারা যা’ সঞ্জীবিত ক’রে রাখবে তাকে এবং যুগ-যুগ ধ’রে প্রতিটি মানুষকে।

মুদ্রিত ‘সত্যানুসরণ’ বাংলা ১৩২৫ সাল থেকে বহন ক’রে চলেছে ঐ শাশ্বত মহাবাণী।

প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ-এর থেকে সত্যানুসরণ লেখার ইতিহাস

গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে শ্রীশ্রীঠাকুর এই গ্রন্থ রচনা করেননি। তাঁর জন্মভূমি হিমায়েতপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর-ঘাট স্টীমার স্টেশনের স্টেশন মাষ্টার ছিলেন শ্রীঅতুলচন্দ্র ভট্টাচার্য্য। শ্রীশ্রীঠাকুরের সাথে তাঁ’র পরিচয় ঘটে এবং সখ্যতা হয়। অবসর পেলেই তিনি শ্রীশ্রীঠাকুরের সঙ্গ ক’রতেন এবং ব্যক্তিগত নানা সমস্যার বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করতেন। শ্রীশ্রীঠাকুরের উপরে তাঁ’র অগাধ ভক্তি ও বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। ক্রমে, অতুলবাবুর অন্যত্র বদলীর আদেশ এলে তিনি শ্রীশ্রীঠাকুরকে কিছু উপদেশ বাণী লিখে দিতে বলেন, যা’র সাহায্যে তিনি অবাধে চলতে পারেন এবং শান্তি ও স্বস্তির অধিকারী হ’তে পারেন। অতুলবাবুর সনির্বন্ধ অনুরোধে শ্রীশ্রীঠাকুর এক রাত্রিতে একাসনে একটি খাতায় উপদেশ লিখে দেন। লেখার সূচনা করেন—“অতুলদা, সর্ব্বপ্রথম আমাদের দুর্ব্বলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ক’রতে হ’বে … ” ব’লে অতুলবাবুকে সম্বোধন ক’রে। পরবর্ত্তীকালে অতুলবাবুর কাছ থেকে খাতাটি পেয়ে “সত্যানুসরণ” নাম দিয়ে ১৩২৫ সনে প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সংস্করণগুলিতে শ্রীশ্রীঠাকুরের আদেশে আরও অনেক বাণীর সংযোজন হয় গ্রন্থটিতে। এই অমিয় গ্রন্থ রচনার শতবর্ষ-পূর্ত্তির শুভ মুহুর্তে আমরা অতুলবাবুকে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করি। আকুল প্রার্থনায় পুরুষোত্তমের শ্রীহস্ত লিখিত জীবনপথের পরমপাথেয় অমৃতময় উপদেশাবলী লাভ ক’রে এবং সর্ব্বসাধারণের জন্য দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে প্রাপ্তির পরম ঐশ্বর্য্য উপহার দিয়েছেন।……

— শ্রীঅশোক চক্রবর্ত্তী