দর্শন প্রসঙ্গে অনুশ্রুতি ২য় (১-৫০)

অনুশ্রুতির ২য় খন্ডে “দর্শন” শিরোনামে পৃষ্ঠা ২৩৯ – ২৬৯ পর্যন্ত মোট ১৪২ টি বাণী রয়েছে।
নিচে ১-৫০ নং বাণীসমূহ দেয়া হলো।

জীবন আছে কা'র ?—
মরণ-তরণ তপে চ'লে
ধৃতিই সাধ্য যা'র। ১।
বিধির বোধ না হ'লে তোর
কীই বা দর্শন হ'লো?
মনের ধোঁকায় ঘুরে-ঘুরে
জীবন হ'লো কালো। ২।
বাঁচাবাড়াই সবিতৃদেব
ভর্গ তাহার অধিপতি,
সুব্যবস্থ আচার নিয়ে
সবার সেবায় হ' তুই ব্রতী। ৩।
সব যা'-কিছুর জীবন আছে
থাকে, চলে, বাড়ে, যায়,
জীবনীয় উধাও তালে
সব জীবনই অটুট ধায়। ৪।
জীবনটা কি থেমে যেতে চায় ?
চলৎশীল সে চিরদিন,
আশা-ভরসা সবই যে তা'ই
এতেই সে যে হ'চ্ছে লীন ;
বাঁচাই যে তা'র স্বার্থ ওরে !
বাড়তে চায় সে সমীচীন,
যেমন বাঁচাবাড়ায় জীবন
অমৃতে রয় সমাসীন। ৫।
বিদ্যমান যা' তা'কেই জেনে
বেদবিধির সৃষ্টি,
ধৃতিদ্যুতির সুমিলনেই
জীবন-রাগের বৃষ্টি। ৬।
জড়ে জীবন মূর্ত্ত জানিস্
জীবনে জড় সচল হয়,
জড় ও জীবনের একায়নে
জীবন-স্থিতি দীপ্ত রয়;
জীবন নিয়ে হয় জড়ের বোধ
জীবন ফোটে জড়কে নিয়ে,
ব্যক্তিত্বটার বিকাশ কিন্তু
জড় ও জীবনের মিলন দিয়ে;
এগিয়ে চল্ একটু আগে
জড়কে দেখবি জীবনময়,
জড় ও জীবন অভেদ হ'য়ে
অস্তিত্বটা নিটোল রয়। ৭।
জড়কে তুমি বিদায় দিয়ে
জীবনটাকে যতই খোঁজ,
তেমনি জীবন পরিহারে
জড়কে তুমি যতই বোঝ;
সমাধানে আসবে না কেউ
পাবি কি রে তেমন হদিস্ ?
জড় ও জীবনের সার্থকতায়
পেতে পারিস্ সেটাও জানিস্। ৮।
গুণবিভাবী শ্রেয়-বিন্যাস
নিয়ে যদি মূর্ত্তি গড়িস্,
অভিধ্যায়ী দীপন তৃপ্তি
মূর্ত্তিতে যদি মুখর করিস্,
প্রাণনদীপ্ত অনুধ্যানে
গুণ যদি তা'র বিকাশ পায়,
সেই মূর্ত্তিই তো দেবমূর্ত্তি
সার্থকতা পায় পূজায়। ৯।
না-এর ভাবটা সক্রিয় যা'য়,
হওয়া স্থগিত রহে সেথায়। ১০।
না থেকে তো হয় না রে হাঁ,
না কিন্তু হওয়ারই ছেদ;
না-টাই তো সব বিষয়ে
সৃষ্টি ক'রে চলেই ভেদ। ১১।
হ'তে চাও তো 'না' ছেড়ে দাও
কৃতি-ঊর্জ্জায় ক'রো না ছেদ,
কৃতি-ঊর্জ্জা সাম্য নয় যা'র—
এনেই থাকে ক্রিয়ার ভেদ। ১২।
নাস্তিকতা দাঁড়ায় কোথা—
অস্তি যাহার স্বতঃ-স্বভাব,
সব-কিছুরই ভেতর-দিয়ে
বাস্তবতার সেই-ই তো ভাব। ১৩।
স্বতঃ-দীপ্ত সেবার নিদান
জানিস্ না যে ভগবান !
নাই ভগবান তবুও বলিস্ ?
স্বতঃক্রিয় তাঁ'র যে দান। ১৪।
নিরাকারের গুণগুলি যা'
বিন্যাসেতে বিকাশ হ'ল,
রূপ-আয়ত্তে এসে সেটা
মুর্ত্তিতেই তো প্রকাশ পেল। ১৫।
এখনও বলি ওরে পাগল !
বিদ্যা কী তা'য় জেনে নে,
বিদ্যাকে তুই জানতে গেলে
বিদ্যমান যা' খতিয়ে নে;
অবিদ্যা যা' সেটাকেও জান্
যা'তে ক্ষতি তোর না হয়,
অবিদ্যাটায় পাড়ি দিয়ে
বিদ্যাতে হ' মুক্তভয়। ১৬।
অবিদ্যা আর অসৎ যা'-সব 
বেশ ক'রে তুই চেন্ ও জান,
এমন চলায় চলবি দেখিস্
সাত্বততায় না পড়ে টান। ১৭।
অবিদ্যা যা' জানাই উচিত
করণীয় নয়কো তা',
বিদ্যাটাই তো পালনীয়
বোঝায়-করায় সর্ব্বথা। ১৮।
অবিদ্যাই তো নষ্ট আনে
আঘাত দিয়ে সত্তাটাকে,
বিদ্যা দিয়ে বিশদভাবে
ভোগ ক'রে চল্ সটান তা'কে। ১৯।
বিদ্যমান যা' তা'কেই জেনে
কৃষ্টিচর্য্যার আরাধনা,
বিদ্যমানে নাইকো যাহা
তা'ই বিনানো কল্পনা। ২০।
বিদ্যমানকে জানবে যেমন
বিদ্যাও পাবে তেমনি,
ধীইয়ে তোমার যেমন জোটে
সাজাতে পারবে সেমনি। ২১।
ভূত নিয়েই তোর আনাগোনা 
ভূতেই যে তোর জীবন-পথ,
(এই) ভূতগুলির সুসঙ্গতি তোর
আত্মিকতার মহৎ রথ। ২২।
হয়েছে যা' সবই যে ভূত
তা'তেই যে তোর বসবাস,
ভূতেই যে তোর জীবন-স্ফুরণ
ভূতেই যে তোর জীবন-শ্বাস। ২৩।
সকল সত্তা তোর মতনই
বিশেষ বিভেদ থেকেও তা',
সত্তাতপের পরিচর্য্যা
রাখবি দীপন ঠিক সেটা। ২৪।
একের পক্ষে অন্য বিশেষ
হানিপ্রতুল বুঝবি যেমন,
সেমনি ক'রে রাখবি তা'কে
দক্ষ-বুঝে জানবি যেমন। ২৫।
স্বাধীন ইচ্ছা সবার আছে—
নষ্টে যাও বা বৃদ্ধি পাও,
জীবন-বৃদ্ধির করলে খতম
বেঁচে বাড়ার হারাবি দাঁও। ২৬।
স্ব-এর অধীন যে-ইচ্ছাটি 
স্বাধীন ইচ্ছা তা'রেই কয়,
যেমন পথে চ'লবে তুমি
পাবেই তা'তে যেটা হয়। ২৭।
ভরদুনিয়ার তথ্য যত 
তত্ত্ব তাহার সব জেনে,
জীবন-বৃদ্ধির যজ্ঞে লাগা—
আধিপত্য সেইখানে। ২৮।
জীবনে চলে জীবন-ধারা
সঙ্গে চলে প্রতিরোধ,
সত্তা-জীবন ব'র্ত্তে তা'তেই
আপদ্‌-ব্যাধি করে নিরোধ। ২৯।
হরকসমের এই দুনিয়া
সাত্বত ধৃতি কুড়িয়ে নিয়ে,
চায়ই যে রে থাকতে ভবে
হৃদয়টি তা'র বিছিয়ে দিয়ে। ৩০।
সৃষ্টির যেটা পরিক্রমা 
ভাববৃত্তির বিভব নিয়ে,
সঙ্গত চলায় সাজিয়ে করে
ব্যাপ্ত, বিভায় মূর্ত্তি দিয়ে। ৩১।
সুনিয়ত আবর্ত্তনশীল
দেখিস্ নাকি জগৎখানা,
আবর্ত্তনে যায় না ভেঙ্গে—
সত্তা দিয়েই জগৎ টানা;
আবর্ত্তনে যতই থাকিস্
কৃতি-তপে নিশিদিন,
আবর্ত্তনই রাখবে ধ'রে—
বিবর্ত্তনে হ'বি না হীন। ৩২।
দুনিয়ার ওজন যতখানি
কৃতিসৃষ্টি তেমন নয়,
যতই ভার না জোগাস্ তোরা
জগৎ ধৃতি-সাম্যে রয়। ৩৩।
সৃষ্টিরই এই কৃষ্টি এমন
প্রকৃতিরই বিধান এই,
জীবন-প্রকৃতি অকৃতি হ'লে—
ঠকবে জানিস্—নিরেট সেই । ৩৪।
সৃজনধারার গতি অশেষ
বলে তো তাই অনন্ত,
প্রকট হ'য়ে যা' থাকে তা'ই—
স্থির, চলন্ত, সান্ত। ৩৫।
আত্মিকতার স্রোত-কম্পন
যেথায় যেমন ধ্বনি আনে,
বিধান-সহ অস্তিকতায়
রাখে অমনি জীবন-প্রাণে। ৩৬।
স্বতঃস্ফূর্ত যে-কম্পনা 
অস্তিনেশায় ডেকে আনে,
তা'রই শব্দ অনাহত—
জ্ঞানীজনা তাই তো ভণে। ৩৭।
আহত নয় এমন থেকে 
কম্পন-শব্দ যা' আসে,
অনাহত তা'কেই বলে
যেমন রেণু ত্রসে ভাসে। ৩৮।
ত্রসরেণুর বিলোল আলো
রশ্মিতে যেমন চলৎশীল,
আত্মিক গতি তেমনি ক'রেই
বিকিরণায় চলায় মিল। ৩৯।
গতিস্পন্দ—যেমন শব্দ
ক'রে থাকে যেমন প্রকাশ,
তেমনতরই হ'য়ে থাকে
শরীর, মন আর সত্তা-বিকাশ। ৪০।
চলাফেরার নাচন-তালে
কম্পনার যে-নন্দনা,
সংঘাতে তা'র হয় তেমনি—
জাগে তেমনি এষণা। ৪১।
গতির বেগের প্রতিফলন
যেমনতর উচ্ছলা,
আবেগ সৃষ্টি ক'রে চলে
তেমনতর সচ্ছলা;
ভাব আবির্ভাব হ'য়ে তখন
হওয়ার দানা সেঁটে বেঁধে,
বিধানটাকে বিনায়িত
করে তেমন হওয়ায় হ'তে। ৪২।
ঠোক্করেতে ধাক্কা লেগে
যেমনতর কাঁপন হয়,
ঐ সংঘাতে আলোর সৃজন
উথলে ভাব-মূর্চ্ছনায়। ৪৩।
অবিনাশী আত্মা অমর
ধৃতি-চেতন আত্মাই,
কৃতি-উচ্ছল আত্মাতেই হয়,
জীবনদ্যুতি আত্মাই। ৪৪।
জন্ম-কর্ম যা'ই না তোমার
আত্মাই যে তা'র মূলাধার,
সত্তাপোষী যা' সব কৰ্ম্ম
স্থিতি বাড়ায় তা'তেই তা'র। ৪৫।
পদার্থই তো আত্মার বিভব
ওতেই তো তা'র উদ্ভবন,
পদার্থকে বিনিয়ে নিয়ে
সৎ-অর্থে কর্ নিয়মন। ৪৬।
আত্মাই তো জীবনগতি
যা'ই কিছু হোক্ তা' সবার,
ঐ সম্বেগেই সংস্থিত সব
জীবনও তাই অঢেল অপার। ৪৭।
জীবন-গতি যেথায় যেমন
আত্মা জানিস্ তা'রে কয়,
ধারণ-পালন-সম্বেগ ছাড়া
আত্মা কোথায় দৃপ্ত হয় ? ৪৮।
পূর্ব্বকালের চেতন-স্মৃতি
পরকালে ব্যক্ত হ'য়ে,
পূর্ব্বকালের সেই তো মানুষ
পরকালে আসছে ব'য়ে। ৪৯।
ফাঁকা স্বপ্ন জীবনটাই—
ভেবে তোমার ফয়দা কোথায় !
কায়দা-কুশল কৃতি হ'লেই
কায়দা নেবে ফয়দা সেথায়;
মিথ্যা স্বপন নিয়ে কেন
ঘুমাবি বল্ নিরবধি?
সেধে নে তোর সত্তাটিকে
তপস্যায় রাখ্ জীবনাবধি। ৫০।