দর্শন প্রসঙ্গে অনুশ্রুতি ২য় (৫১-১০০)

অনুশ্রুতির ২য় খন্ডে “দর্শন” শিরোনামে পৃষ্ঠা ২৩৯ – ২৬৯ পর্যন্ত মোট ১৪২ টি বাণী রয়েছে।
নিচে ৫১ – ১০০ নং বাণীসমূহ দেয়া হলো।

আত্মাই তো জীবন-গতি 
যে সম্বেগে জীবন চেতন,
মন, বুদ্ধি, অহঙ্কার
বিধানমাফিক হয় উদ্বোধন;
এমনি ক'রেই সারা বিশ্বে
আত্মিক গতি চলৎশীল,
জীবন-ব্যাপী সম্বেদনায়
বিধান যত জীবনশীল। ৫১।
ব্যাপ্তি-যজ্ঞে ধৃতি যখন
পরিচর্য্যায় প্রত্যেকের—
জীবনপালী দীপনরাগে
ঘোষেই যে জয় বিস্তারের। ৫২।
বর্দ্ধনারই অনুপ্রভায়
দীপ্ত ব্রহ্ম করেন বাস,
জীবনীয় উৎসর্জ্জনাই
ব্রহ্মত্বেরই প্রাণন-শ্বাস। ৫৩।
বর্দ্ধনাই তো ব্রহ্মের রূপ
সব অন্তরে লুকিয়ে রয়,
যে যেমন হোক তেমনি ক'রেই
বর্দ্ধনাকে সবাই চায়। ৫৪।
ব্রহ্মদ্যুতিই আত্মপ্রসাদ
কৃতিদীপ্ত উৎসারণ,
নিষ্পাদনী অনুচর্য্যায়
হৃদয়ে হয় সংস্থাপন। ৫৫।
ব্রহ্ম জানিস্ বৃদ্ধি-বিধি
চলন-উৎস সবটা নিয়ে,
ঐটে জানাই ব্রহ্মবিদ্যা
বৈশিষ্ট্যেরই বোধন দিয়ে। ৫৬।
ব্রহ্মজ্ঞানই বর্দ্ধনার জ্ঞান
বাস্তবে নে খেটে-খুটে,
ব্রহ্মদ্যুতি ঊর্জ্জী বেগে
কৃতিমুখর হোক্ রে ফুটে। ৫৭।
তোমার দরদ তোমার কাছে
যেমনতর মুখ্য হয়,
সবার দরদ অমনি তোমায়
ব্রাহ্মী বোধে সংস্থাপয়। ৫৮।
সব যা'-কিছুর অনুকম্পা
দীপ্ত-দীপন উছল রাগে,
সুবিন্যাসে সংস্থিতি পায়—
ব্রাহ্মীরূপে সে-জন জাগে। ৫৯।
রূপ দেখ আর জ্যোতিই দেখ
নক্ষত্র আর সূর্য্য-চাঁদ,
বাস্তবতার প্রাজ্ঞ বোধই
ঠিক জানিস্ তা'ই ব্রাহ্মী ছাঁদ । ৬০।
ব্রহ্ম বিদ্যা জানলি নে তুই
সিদ্ধ বিধি জানবি কী?
সব বিশেষের তাল পাকিয়ে
ঢালবি শুধু ছাইয়ে ঘি? ৬১।
জগৎ-বিভব-কেন্দ্র যেটা
ব্যষ্টি-সমষ্টি সব নিয়ে,
সঙ্গতিশীল তাৎপর্য্য যা'
ব্রহ্ম জানিস্ তা'ই দিয়ে। ৬২।
বাস্তববোধ যেমনতর
সংস্থিতির সঞ্চয়নে,
কৃতিমুখর তৎপরতায়
ব্রাহ্মী বোধ তো তা'তেই আনে। ৬০।
ব্রাহ্মী বোধটি যেমন জাগে
যা'র অন্তরে যেমনতর,
ব্রাহ্মীরূপও তেমনি তাহার
প্রজ্ঞাটিও তেমনি দড়। ৬৪।
একই ব্রহ্ম সব-কিছুতে
বিশেষরূপে বিশেষ স্থানে,
এই বিশেষের মিলন-দোলায়
শ্রেয় ফোটে বিশেষ প্রাণে। ৬৫।
বৃদ্ধি-বিধি কোথায় কেমন
কী রূপ নিয়ে চলে,
ব্রহ্মজ্ঞানের প্রাজ্ঞ বোধির
গোড়াই একে বলে। ৬৬।
যিনিই করেন কোন-কিছুর 
প্রণয়নে সুমূর্ত্তনা,
সে-স্থলেতে তিনিই ব্রহ্মা
সৃজনই তাঁ'র আরাধনা। ৬৭।
বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা
ব্রহ্মে সুপ্ত হ'য়েই থাকে,
অনুষ্ঠানের অনুক্রিয়ায়
ব্রহ্মাই দেন জাগিয়ে তা'কে। ৬৮।
একের মাঝে বহু দেখে
বহুতে দেখে এক,
চাল-চরিত্রও তেমনতর
ব্রাহ্মী তনু দেখ্। ৬৯।
নিজের ভেতর প্রত্যেককে দেখে
প্রত্যেকেতে দেখে নিজ,
বোধ-বিবেকের বিন্যাস-সহ,—
ব্রহ্মদর্শীর এই তো বীজ। ৭০।
অন্তঃস্যূত বিশ্বরেতঃ 
সংগর্ভিত রয় যেখানে,
ঊর্জ্জনাশীল উৎসর্জ্জনার
ব্রাহ্মী-কেন্দ্রই রয় সেখানে। ৭১।
ব্রহ্মজ্ঞানের ভান করিস্ নে
বোধচক্ষুতে দেখ্ তা'রে
সমাধানের সার্থকতায়
কোথায় কিসে কী রূপ ধরে। ৭২।
ব্রহ্মানন্দ বড় আনন্দ
জানিস্ কেন তা' ?
তুমি সবায়, সব যে তোমায়
স্ফূর্ত্ত স্বাধীনতা। ৭৩।
শাণিত-সম্বেগী দৃষ্টি নিয়ে
বৃদ্ধিকে দেখ্ বিভব-সহ,
অমনি ক'রেই ব্রহ্মজ্যোতি
জ্ঞানের চোখে গুণে লহ। ৭৪।
ব্রহ্মজ্যোতির দৃষ্টিই তো ঐ 
বৃদ্ধিপ্রথা বোধে আনা,
লাখ আলোতে ভাসলেও কিন্তু
পড়বে নাকো ওতে হানা। ৭৫।
সুখদুঃখের কোলাকুলি
দেখায়-শুনায় চলছে যত,
সমাধানী সংগ্রথনে
ব্রাহ্মী বর্দ্ধন হয় নিয়ত। ৭৬।
সবাই যখন তোমার হ'য়ে
তোমার মাঝে করে বাস,
তেমনি তুমি তা'দের হ'য়ে,
হ'য়ে ওঠ তা'দের শ্বাস;
ব্রহ্মত্বেরই ঐটি হ'ল
ব্যাপ্তিপ্রসূ অঢেল রূপ,
ঐ ব্যাপনী বোধ নিয়ে হয়
'তুমি' তা'রই প্রতীক ভু-প। ৭৭।
আকাশ-বাতাস-জল-মাটি আর
স্থাবর-জঙ্গম সব মিলিয়ে,
জীবন-দীপন শব্দ অঢেল—
ব্রহ্ম কেমন দেখ্ বিনিয়ে। ৭৮।
সব যা'-কিছুরই মূল সূত্রটি
প্রাজ্ঞবোধে আসবে যেই,
ব্রহ্মবোধের থাকবি তটে—
ব্যাপন-ব্রহ্মের সূত্র সেই। ৭৯।
নেতি-ইতি যাই করিস্ না
বাস্তব প্রাজ্ঞ না হ'লে তা'তে,
ব্রহ্মদ্যুতির সামান্য সূত্র
পাবি কি তুই আছে যা'তে ? ৮০।
বাচক জ্ঞানী তর্কবাগীশ 
যতই কেন হও না তুমি,
প্রজ্ঞা ছাড়া যায় না ধরা
এক উপাদান ব্রহ্মভূমি। ৮১।
প্রাজ্ঞ দেহ যে-জনই পা'ক্ 
মূর্ত ব্রহ্ম তাঁ'রেই জানিস্,
পূণ্য প্রজ্ঞা দেখবি যাঁ'দের
ব্রাহ্মী দেহ তাঁ'দের মানিস্;
বাস্তবতার প্রতীক ধ'রে
তাঁ'রাও কিন্তু এ সংসারে,
দেব-আখ্যায় আখ্যায়িত,—
লোকে তাঁ'দের পূজা করে। ৮২।
ব্রাহ্মী তনু যাঁ'দেরই হয়
জ্ঞানে-গুণে-ব্যবহারে,
তাঁ'তেই হ'য়ে অভিষিক্ত
হও বরেণ্য এ সংসারে। ৮৩।
মূল উপাদান যা'-কিছু যা'র
বিশেষ হ'য়েও নির্ব্বিশেষ,
আতিপাতি সব বিনিয়ে
জান না তা'কে—সেই অশেষ। ৮৪।
গুণান্বিত শক্তি যা' সব 
গুণান্বয়ী সমাধান,
সমাধানে দাঁড়িয়ে যেটা
সেই-ই সবার স্থিতি-আধান। ৮৫।
বস্তু থাকলেও অস্তিত্ব নেই
অস্তিত্বতে নাই ধৃতি,—
ধৃতি নাই তো কৃষ্টি কিসের !
এ-সব কথার নাই স্থিতি । ৮৬।
বস্তু—যেথায় অস্তি আছে—
স্থিতিতেই কিন্তু স্বস্তি,
স্থিতি-চলনের উপাদান না পেলে
সেখানেই অস্বস্তি। ৮৭।
প্রথম হ'তে সব নিয়ে সব
বস্তু নয় তা' কোন্ টি?
বস্তু নিয়েই সবটি গড়া
প্রথম হ'তে শেষটি। ৮৮।
বাস্তব যা', তাই তো সৎ
চিৎ-ই হ'চ্ছে চেতনা,
সৎ-চিৎ-এর এই মিলনই আনন্দ
তা'তেই আনে বর্দ্ধনা। ৮৯।
শোন্ তবে কই, ওরে পাগল !
অস্তি নইলে বহু কোথা ?
ধৃতি-সম্বেগ না থাকলে যে
অস্তিত্বটা হয়ই বৃথা। ৯০।
বস্তু-সহ বিশেষ বস্তুর
মিলনেতে ফোটে ভাতি,
ঔপাদানিক বিনায়নে
আছে যেমন দ্যোতন-রতি। ৯১।
অস্তিত্বেই রয় থাকার সম্বেগ
অস্তির নিশানা বস্তুই তো !
বস্তু থাকলে ধৃতিও আছে,
আবেগ থাকে থাকারও তো ! ৯২।
বাস্তববাদী যা'রাই কিন্তু
অধ্যাত্মবাদী সত্যি হয়,
বস্তু জেনে গতি না-জানা
সে-জানা কিন্তু সার্থক নয়। ৯৩।
ঊর্জ্জনাটি মলিন হ'লে
ভাববৃত্তিও মলিন হয়,
অসদৃশের এই চলনে
ঘটে নানা মন্দ-ক্ষয় । ৯৪।
পারম্পর্য্যে চিন্তা করা
বুঝ নিয়ে তা'র সকল দিক্,
মনের ধর্ম্ম এই তো জানিস্,
অপ্রকৃতিস্থ ভাবে ধিক্। ৯৫।
পঞ্চেন্দ্রিয়ের অনুভূত ভাব 
মস্তিষ্কে যা' লেখা রয়,
বাহ্যতঃ যা'র প্রতিক্রিয়ায়
সংবেদনা যেমন হয়,
বিধানে তা'র অনুরণনে
প্রতিফলন যেমন করায়,
মনটা কিন্তু সেই ক্রিয়াই
ভাবে যেটা উচ্ছলায়। ৯৬।
বিশেষ সৃষ্টি জানিস্ কিন্তু
রজঃ-বীজের বিশেষ ধারা,
বৈশিষ্ট্য তাই সবার সম্পদ্
বিনায়নে বিশেষ গড়া। ৯৭।
'একসা'—চালে যা'রাই চলে
সব যা'-কিছুর পাকিয়ে তাল,
'পান্ডা' নামে তা'রাই কিন্তু
শয়তানেরই খেপলা জাল। ৯৮।
সদৃশ ধারায় সিদ্ধ ভালো 
সম্মিলনে মিলন-ডাক,
অসদৃশে মিশ্রিত হয়
ব্যতিক্রমের ঊর্জ্জী তাক। ৯৯।
রেতঃ-অনুগ রজঃ হ'লে তা'র
বিধান হয় তেমনি,
বিধির বিধান ব্যতিক্রম যেথায়
বিকৃতিও আসে সেমনি। ১০০।