পুরুষ ও নারী নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড (০১-৪০)

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “পুরুষ ও নারী” শিরোনামে পৃষ্ঠা ৭০ – ৮৮ পর্যন্ত মোট ৮৯ টি বাণী রয়েছে। ০১ – ৪০ বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

নারী পাবে পুরুষ-চলা
পুরুষ নারীর মতন,
পাগলা কথার ফোকলা মানে
দুয়েরই এতে মরণ;
নারীর ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠা নারী
ধাত্রী পাত্রী মাতা সে,
পুরুষ কিন্তু পৌরুষে ধায়
গৌরব-গুরু উল্লাসে। ১।
নারীদেহের গড়ন-পেটন
কোষের উপাদান,
পুরুষ-পোষক ব'লেই কিন্তু
ভিন্ন তা'র আধান । ২।
ধাত্রী যা'রা পাত্রী যা'রা
হোত্রী-নেত্রী-প্রাণ,
আহৃতিদক্ষা পোষণ-দীপ্তা
লক্ষ্মী লোকত্রাণ;
শিষ্টা নারীর বিশেষ স্বভাব
ঐ তো নারীর স্থান। ৩।
পূরণ-প্রবণ পালন নিয়ে
বৃদ্ধির হ'য়ে রথী,
পুরুষ চলে কৃষ্টিরথে
নিয়ে গৌরব-গতি । ৪।
পুরণ-প্রবণ পরস্পরের
সাম্য-স্বার্থী অনুকূলে,
পূরণ-করা গড়ন-ভরা
কর্ম্মে সত্তা ওঠে ফুলে । ৫।
বউ-সৰ্ব্বস্ব হ'লি যেই
শয়তানেতে ধ'রল সেই। ৬।
বীরত্ব যা'র মেয়ে-মহলে
বাগ্-বিলাসে ধায়,
বাস্তবতার আতপ-তাপে
শুকিয়ে ওঠে প্রায় । ৭।
মানদূরত্ব হটিয়ে দিয়ে
নারীর সঙ্গ করে,
এমন জনায় নিশ্চয় জানিস্
কাম-ডাইনী ধরে। ৮।
নারীমুখো রোখালো যা'রা
তা'রা কিন্তু কাপুরুষ,
বাহাদুরী সবই তা'দের
ভজে জেনো মেয়েমানুষ। ৯।
স্ত্রী-আনতি উদ্বোধনায়
তা'তেই মজে থাকল যে,
সেই প্রেরণা বাইরে ছুটে
অযুতে ফুটে ওঠে না সে,
সার্থকতায় শতেক ঘাটে
পূর্ণ করে না পড়শীপাটে,
যতেক পাখা উঠুক তাহার
মাছির রাজা জানিস্ সে। ১০।
পুরুষ যখন নারীর প্রতি 
অবাধ অনুরাগে,
সমবেদনায় জর্জ্জরিত
রঙ্গীন প্রীতির ফাগে,
পুরুষ-প্রীতি সমবেদনা
ব্যথায় বীতরাগ—
সে-পুরুষের নষ্ট মাথা
কামেই সজাগ । ১১।
উচ্চে নারীর একনিষ্ঠ 
ফুল্লরাগের দ্যোতনায়,
জীবন-জয়ে দীপ্ত পুরুষ
নিত্য নবীন মূচ্ছনায় । ১২।
জাত-জনম-জীবন নারীর হাতে
শুচির নিয়ম তাই হয় মানাতে । ১৩।
নারীর পথে পুরুষ যখন
প্রগতিশীল নারীর টানে,
পুরুষত্বের বিলীনতায়
যাবেই উবে ধ্বংস-পানে;
নারী যখন পুরুষ-ছাঁচে
গ'ড়ে তোলে তা'র প্রকৃতি,
নারীত্বে তার পেত্নী-ভাবের
ঘ'টেই থাকে কুবিকৃতি । ১৪।
ভয়-সমীহ-সম্মান
আদরেও থাকে দূরত্বমান;
ভক্তি-আনত শ্রদ্ধামদির
অটুট টানেও সাম্য স্থির;
আবেগ-রাঙ্গা আসঙ্গেতে
মাখামাখি রয় না মেতে;
স্নেহ-মমতা এতেই জানা
পবিত্রতার ঐ নিশানা। ১৫।
কুমারী একটু বড় হ'লেই
পুরুষ ছুঁতে নেই,
যথাসম্ভব এর পালনই
উন্নয়নের খেই। ১৬।
বাপ-ভাই ছাড়া কারু কাছে
নিতে নাইকো কিছু,
নিলেই জেনো হয় মেয়েদের
মনটা অনেক নীচু। ১৭।
গান-বাজনা কি উৎসবে
কিংবা ভ্রমণেতে,
বাপ-ভাই ছাড়া পুরুষ সঙ্গে
দিসেন মেয়ে যেতে,
এই নীতিটি করলে পালন
কমই হবে মেয়ের স্খলন,
পুণ্য-ভরা সুফল পাবি
চলবি শুভে মেতে । ১৮।
শাসন-ভরা ভয়-সমীহে
মিতসোহাগ-আদরে
গজিয়ে উঠলে দক্ষ-সেবায়
সেই মেয়ে ঘর আলো করে । ১৯।
দেখে-শুনে কথা ক'য়ে
নতজানু নতির প্রাণে,
ভয়-সমীহ উঠলে ফুটে
তবেই নারী যোগ্যা মানে । ২০।
পতিব্রতী উপাসনায়
আলোক-লোকে সতী গজায়,
ও-তপস্যায় থাকলে জোর
পালায় দুঃখ-বিপাক ঘোর। ২১।
সতীর বাড়া পুণ্য নাই
বংশ-সমাজ আলো,
এই সতীত্বের উপাসনায়
অটুট আবেগ জ্বালো। ২২।
দুনিয়া হ'তে স্বর্গদ্বার
সতীর আলোয় পরিষ্কার,
বৃত্তিভেদী একমুখতা
আনেই সেবায় উচ্ছলতা;
দুঃখ-কষ্ট যাই-না আসুক
থাকলে সতী ঘরে,
শুভ হ'য়ে বন্দনা গায়
মলয় দোদুল ভরে। ২৩।
সতীর হাওয়া লাগলে গায়
পড়শী বেড়ে উর্দ্ধে ধায় । ২৪।
জীবন-বৃদ্ধি চর্য্যা ক'রে
সাধলে স্বামীর উন্নতি,
পতিব্রতা কয়ই তা'রে
সিদ্ধ-কামা সেই সতী । ২৫।
সতী-পতিব্রতার চেয়ে
ধর্ষিতা যদিও ন্যূন,
প্রেষ্ঠমুখী তপের বলে
থাকে না কালে ঘুণ। ২৬।
স্বামীর প্রতি তুখোড় টানে
বৃত্তিভেদী নন্দনায়,
চলছো যখন মেয়ে তুমি
পাতিব্রত্য রয় সেথায়;
ঐ সাধনায় সিদ্ধ হ'লেই
সতী হবে তুমি,
বংশ তোমার উজল হবে
উজল সমাজ-ভূমি। ২৭।
ছেলে-মেয়ে একযোগেতে 
করলে পড়াশুনা,
পড়ার সাথে বাড়ে প্রায়ই
কামের উপাসনা;
কাম-কল্লোল নাই যদি পায়
সৎনিয়ন্ত্রণ শুভে,
ভ্রষ্ট হবে জন্মধৃতি
পড়বে পাগল-কূপে। ২৮।
শোন্ রে বলি আমার মেয়ে
আমার নিছক কথা,
চলিস্ শুনে সেই পথেতে
বুঝিস্ দিয়ে মাথা;
তুষ্টি প্রীতির পথে স্বামীর
জীবন, যশ আর বৃদ্ধি,
বৃত্তিভেদী অটুট টানে
হয় সতীত্বে সিদ্ধি। ২৯।
স্বামীর বর্ণ-বংশ-গৌরব
সবার চাইতে শ্রেষ্ঠ জানিস্,
সেই বর্ণ-বংশ-আচার
প্রাণপণেতে রাখিস্ মানিস্। ৩০।
পেটের ছেলেয় থাকেই নেশা
স্বামীর প্রীতির সুরে,
অন্যেতে যা'র ভালবাসা
রয় ছেলে তা'র দূরে। ৩১।
কত অল্পে কত বেশীর
পোষণ করতে পারিস্,
গৃহিণীপনার তুকটিই এই
নিছক মনে রাখিস্। ৩২।
ঘর-করনার কাজে-কর্ম্মে
সতত রাখিস্ কড়া নজর,
প্রয়োজন বুঝে কত অল্পে
করতে পারিস্ কত সুন্দর;
এই অভ্যাসের নিয়ন্ত্রণে
লক্ষ্মী বউটি হ'বি,
অল্পের ভিতর উপচে দিয়ে
সাশ্রয়েতে র'বি। ৩৩।
ঘর-করনার প্রত্যেক কাজে
দেখবি হিসাব ক'রে,
কেমন কোথায় কী রাখলে তা'র
নাশ ঘটে না ওরে;
কেমন ক'রে কী হ'তে কী
বাঁচিয়ে রাখা যায়,
সুষ্ঠু-স্বল্প তুকের ভিতর
কী লাভ কোথায়;
এই নজরে এই হিসাবে
দেখবি রাখবি করবি,
টগবগিয়ে গৃহস্থালী
উচ্ছলতায় ধরবি। ৩৪।
কটমটিয়ে সুপুরি খাওয়া
নাক ডাকিয়ে পাড়া ঘুম,
ঘুমের মুখে চপচপানি
লালাপড়া বেমালুম;
দেখলে এমন পুরুষ-মনের
অনুগতি দৈন্য পায়,
এড়িয়ে চলার মেজাজ জাগে
সম্বেগও তার মিইয়ে যায়;
মুখে ঘামে চুলে গন্ধ
ময়লা কাপড় সায়া—
কুৎসিত এমন চলন-চালে
তিক্ত পুরুষ-মায়া। ৩৫।
পিতৃ-গৌরব শীলযুতে রাখ
শ্বশ্রূ-শ্বশুরে মহিমায়,
ভ্রাতৃদ্যুতি দীপন হৃদয়ে
দেবরে পালিও দ্যোতনায়;
মাতৃস্বভাব-সুরভি আহরি'
সৌরভে রাখিও প্রকৃতি,
ভগিনী-স্নেহল পালন-পরশে
ননদে দানিও সুকৃতি;
নিজসত্তার প্রতীক জানিয়া
স্বামীরে এমনই সেবিও,
দৈন্যে হানিয়া ঈশচেতনায়
তাঁহারে সজাগ রাখিও;
পরিজন হ'তে আহরি' আদর
সেবা-সম্মান-প্রতীতি,
তুষিও পুষিও নিয়ত সবারে
রেখো মেয়ে মোর এ-নীতি । ৩৬।
শ্বশুর-শাশুড়ী মমতা-প্রবণ
দীপন পুষ্টি-তালে,
পূজারিণী বৌ যেখানে
ঘর-করনা পালে,
লক্ষ্মী আসে আপনি সেথায়
পদ্মশঙ্খ নিয়ে,
কৃষ্টি-দোলায় দুলিয়ে তোলে
জীবন-জ্যোতি দিয়ে । ৩৭।
ভক্তিভাজন শ্বশু-শ্বশুর
পূজ্য দেব-দেবীর,
তাঁদের প্রতি সেবাশীলা
করবি যে তদ্বির,
প্রাণের উৎস পরশ পেয়ে
যেমন সুখী ওঁরা,
সন্তানও তোর প্রতি তেমন
হবেই ভক্তিভরা। ৩৮।
পিতা, মাতা, গুরুজনে 
বউ-এর সেবা পেল না কেউ,
স্ত্রী তোর সে কেমনতর?
বাঘের সঙ্গে যেমনি ফেউ। ৩৯।
শ্বশুর-শাশুড়ী যেমনই হ'ন্
ভক্তি-সেবায় অনুক্ষণ,
তাঁ'দের অভাব-প্রয়োজনে
সবার আগে কর পূরণ;
রাখবি তাঁ'দের দীপ্ত ক'রে
নিয়ত রাখবি এইটি ধ'রে,
এমনি ক'রে যতই চলবি
ক্রমে-ক্রমেই দেখবি বুঝবি,
কত জঞ্জাল-আবর্জ্জনা
পেয়ে নিছক মার্জ্জনা,
উছল প্রাণে তৃপ্তিভরে
রাখবে তোরে দীপ্ত ক'রে। ৪০।