কাহাকেও অন্যায়ের জন্য….. দেবেন।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

কাহাকেও অন্যায়ের জন্য যদি তুমি শাস্তিবিধান কর, নিশ্চয় জেনো—পরমপিতা ঐ শাস্তি উভয়ের মধ্যে তারতম্যানুসারে ভাগ ক’রে দেবেন।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

নির্দেশ পেয়ে সুদীপা আলোচনা শুরু করল।

সুদীপা—কেউ অন্যায় করল, আমি যদি তাকে এজন্য শাস্তি দিই তাহলে পরমপিতা দু’জনের মধ্যে ঐ শাস্তি ভাগ ক’রে দেবেন।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—দু’জনের মধ্যে ভাগ ক’রে দেবেন কেন? এমন তো হতে পারে, সে দোষ করেইনি, তুমি তাকে শাস্তি দিলে। এমনও হতে পারে, যার দোষ তার দোষের চেয়ে শাস্তির পরিমাণ বেশী হয়ে গেল। আবার, যে দোষের জন্য কাউকে শাস্তি দিলাম তার চেয়ে আমার দোষই বেশী—এমনও তো হতে পারে।

মেয়েদের কেউ কিছু উত্তর দিচ্ছে না দেখে তিনি একই প্রশ্ন অমলকে করলেন।

অমল—হয়তো আমাদের আমগাছ থেকে রামগোপাল না বলে আম পাড়ল। আমি তাকে মার দিলাম। তারপর তার মা আসলেন। আমাদের দুজনকে বকাবকি করলেন। অমলের আলোচনায় বিষয়টি পরিষ্কার হ’ল না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আসল ব্যাপার কি? সে আম পাড়ল, দোষ করল। এমন ব্যবহার করতে হয় যাতে সে আর দোষ না করে। কিন্তু তা না ক’রে যদি তুমি তাকে শাস্তি দাও যে শাস্তি সে পাবার যোগ্য নয়, তাহলে তুমিও দোষ করলে। তখন পরমপিতা তোমার ঐ দোষের জন্য তোমাকেও শান্তি দেবেন। কিন্তু তুমি যদি তার দোষ সংশোধনের জন্য তাকে বুঝিয়ে বল বা বুঝিয়ে সাহায্য কর, তা’হলে হয়তো সে আর দোষ করবে না। এতে উভয়েরই মঙ্গল।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তারিখ-১১/৬/৭৭ ইং ]

অরুন্ধতী চ্যাটার্জী আলোচনা করার ভার পেয়ে পুনরায় পাঠ করে বলল—এখানে ঠাকুর আমাকে বলেছেন—কেউ যদি কিছু অন্যায় করে, আর আমি যদি তার শাস্তি দিই—পরমপিতা…

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সে তো ঠিক। যা বলছিস তা তো লেখাই আছে, আলোচনা কর্‌। আমি তো শাস্তি দিলাম। পরমপিতা আমাদের উভয়ের মধ্যে সেই শাস্তি তারতম্যানুসারে ভাগ করে দেবেন কেন? সেটাই তো আলোচ্য বিষয়। হয়তো দীপদ্যোতক একটা কাজ করল, সেটা ভাল কাজ না, আমি তাকে শাস্তি দিলাম। তাতে পরমপিতা শাস্তি তারতম্যানুসারে ভাগ করে দেবেন কেন? তাহলে বোঝা যাচ্ছে আমি শাস্তি দিয়ে অন্যায় করেছি। কি অন্যায়? সে একটা অন্যায় করেছে, শাস্তি দিলাম। কিন্তু তাকে শাস্তি না দিয়ে যদি ভালবেসে সুস্থ করে দিতাম, সেটা ভাল হত। সেও একটা অন্যায় করল, আমিও একটা অন্যায় করলাম—অথচ দোষটা সংশোধন হল না। এতে পরমপিতা আমাকে শাস্তি থেকে বাদ দেবেন না। যদি ভালবাসা দিয়ে তাকে সংশোধন করা যায়—সেটাই আদর্শ পথ।

এ-বিষয়ে একটি ঘটনা বললেন শ্রীশ্রীপিতৃদেব। একটি ছেলে রেলওয়ে কোয়ার্টারে কাজ করে। ভিখারি টাইপের। মালিক তাকে টাকা দেয়, কিন্তু ও চুরি করে। একদিন হাতে-নাতে ধরা পড়ে । তখন একলাথি দিয়ে কম্পাউন্ট থেকে বের করে দেয়। ঐ মালিকের ঠাকুরের উপর টান ছিল। সকালে উঠে দেখে পায়ে অসম্ভব ব্যথা। ভাবল, আমি লাথি মেরেছি, ঠিক হয়নি। সেইজন্য আমার শাস্তি। যে যত বিশুদ্ধ আত্মা তার সংশোধন তত তাড়াতাড়ি হয়। সে Feel (অনুভব) করল যে ঐ জন্যই (লাথি মারার জন্য) তার এটা হয়েছে। ভোলানন্দ গিরিজী এ-প্রসঙ্গে অনেক কথা বলছেন। হয়তো জ্বর হয়েছে —ঐ যে মাছ মেরেছি তাই হয়েছে। ঠিক অনুভূতি যদি থাকে তাহলে এ-সব বুঝতে পারা যায়। আর ইষ্টের প্রতি অগাধ টান থাকলে অনুভূতিতে আসেও।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তারিখ-২৮/৮/৭৯ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৬১ – ১৬২]