ঠাকুর, অবতার …. নিশ্চয়।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

ঠাকুর, অবতার কিংবা ভগবান্ ইত্যাদি হবার সাধ গেলেই তুমি নিশ্চয় ভণ্ড হ’য়ে প’ড়বে, আর তাতে মুখে হাজার ব’ললেও কাজে কিছুই ক’রতে পারবে না। যদি ওরূপ ইচ্ছা থেকে থাকে, তবে এখনি ত্যাগ কর, নতুবা অমঙ্গল নিশ্চয়।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব প্রদীপকে (পাল) আলোচনা করতে বললেন। প্রদীপ নিরুত্তর থাকায় ধৃতিবল্লভকে বলতে নির্দেশ দিলেন।

ধৃতিবল্লভ—ঠাকুর বলছেন তোমার যদি অবতার, ভগবান ইত্যাদি হবার ইচ্ছা জাগে—

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ইচ্ছা হবে কেন? কারণটা বলবে তো! শুধু-শুধু ঠাকুর, অবতার হতে যাবে কেন? তার কাছে বহু লোক আসছে—কেউ রোগমুক্তির জন্য আসছে, কেউ দুঃখকষ্টের কথা জানাতে আসছে। এইসব দেখে তার মনে জাগছে ঠাকুর বা অবতার বলে প্রচার পাবে—

সুন্দরীকে জিজ্ঞাসা করতেই সে বলল—নামযশের জন্য।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ঠিক। কিন্তু নামযশের জন্য অন্য উপায়ও তো আছে। কেমন করে ঠাকুর হওয়া যায়, ভগবান হওয়া যায়—সবাই ঠাকুর বলে ডাকবে, কেউ বা অবতার জ্ঞান করবে সেই আচরণ করছে।

সুন্দরীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই সে বলল—ঠাকুরের আচরণগুলো আমার মধ্যে নেই, উপর-উপর সেই আচরণ করছি, তখন সবাই ভণ্ড বলবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—শুধু ভণ্ড নয়, ক্ষ্যাপাবে। ক্ষ্যাপায়ে পাগল করে তুলবে। সে যা বলে তা মেলে না।

এরপর শ্রীশ্রীপিতৃদেব এক কাহিনী ব্যক্ত করলেন—সম্রাট আকবরের দরবারে বীরবল নামে এক সভাসদ ছিলেন। বড় পণ্ডিত ছিলেন তিনি। একবার বীরবলের সাথে একজন লোক এসে দেখা করল—বলল, আমায় লোকে যাতে পণ্ডিত বলে সেই ব্যবস্থা করে দিতে হবে। লোকটির পড়াশুনা কিছুই ছিল না। বীরবল বললেন—আপনি লেখাপড়া শিখলে সবাই পণ্ডিত বলবে; লেখাপড়া শিখে নিন। সে বলল লেখাপড়া শেখা আমার হবে না। আর যদি লেখাপড়া শিখে নিতে পারতাম তাহলে আপনার কাছে আসব কেন? বীরবল তখন তাকে বললেন—আজ থাক, কয়েকদিন পর আসুন।যথারীতি লোকটি কয়েকদিন পর বীরবলের কাছে এসেছে। তাকে দেখেই বীরবল ধমক দিলেন—যান মশায়, বিদ্যে নেই, লেখাপড়া নাই তবু পণ্ডিত বলতে হবে—যান এখান থেকে। তার মন বিষণ্ণ হয়ে গেল। এদিকে বীরবল রাস্তায় ছেলেদের শিখিয়ে রেখেছিলেন—রাস্তা দিয়ে গেলেই ‘পণ্ডিত পণ্ডিত’ বলবে। ছেলেরা তা-ই বলতে শুরু করল পেছন থেকে। ছেলেরা খেলা করছিল। লোকটিকে দেখতে পেয়ে খেলা ছেড়ে ‘পণ্ডিত’ বলা শুরু করে দিল। বলা শুনে লোকটি তেড়ে এল। তার আর পণ্ডিত হওয়ার বাসনা রইল না।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-৩০/৮/৭৬ ইং ]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৫৪]