কামিনী কাঞ্চন সম্বন্ধে সত্যানুসরণ

শ্রীশ্রীঠাকুর তার সত্যানুসরণ গ্রন্থে কামিনী কাঞ্চনে আসক্তি সম্বন্ধে সাবধান করেছেন। তিনি বলেন…

জগতে মানুষ যত-কিছু দুঃখ পায় তার অধিকাংশই কামিনী-কাঞ্চনে আসক্তি থেকে আসে, ও দুটো থেকে যত দূরে স’রে থাকা যায় ততই মঙ্গল।

ভগবান্ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব সবাইকে বিশেষ ক’রে বলেছেন, কামিনী-কাঞ্চন থেকে তফাৎ— তফাৎ— খুব তফাৎ থাক।

[উপরের “ভগবান্ … তফাৎ থাক।” বাণীটির ব্যাখ্যা]

কামিনী থেকে কাম বাদ দিলেই ইনি মা হ’য়ে পড়েন। বিষ অমৃত হ’য়ে গেল। আর মা মা-ই, কামিনী নয়কো।

[উপরের “কামিনী…নয়কো” বাণীটির ব্যাখ্যা]

‘মা’র শেষে ‘গী’ দিয়ে ভাবলেই সর্ব্বনাশ। সাবধান! মাকে মাগী ভেবে ম’র না।

প্রত্যেকের মা-ই জগজ্জননী। প্রত্যেক মেয়েই নিজের মায়ের বিভিন্ন রূপ, এমনতর ভাবতে হয়।

[উপরের “প্রত্যেকের মা….. হয়।” বাণীটির ব্যাখ্যা]

মাতৃভাব হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত না হ’লে স্ত্রীলোককে ছুতে নেই—যত দূরে থাকা যায় ততই ভাল ; এমন-কি মুখদর্শন না করা আরও ভাল।

 আমার কামক্রোধাদি গেল না, গেল না— ব’লে চীৎকার পাড়লে কখনই তারা যায় না। এমন কৰ্ম্ম, এমন চিন্তা, অভ্যাস ক’রে নিতে হয় যাতে কামক্রোধাদির গন্ধও নেই—মন যাতে ও-সব ভুলে যায়।

মনে কামক্রোধাদির ভাব না এলে কী ক’রে তারা প্রকাশ পাবে? উপায়—উচ্চতর উদার ভাবে নিমজ্জিত থাকা।

[উপরের “মনে…নিমজ্জিত থাকা” বাণীটির ব্যাখ্যা]

সৃষ্টিতত্ত্ব, গণিতবিদ্যা, রসায়নশাস্ত্র ইত্যাদির আলোচনায় কাম-রিপুর দমন হয়।

কামিনী-কাঞ্চন-সম্বন্ধীয় যে-কোন রকম আলোচনাই ওতে আসক্তি এনে দিতে পারে। ও-সব আলোচনা থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই ভাল।